লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন স্থগিত চেয়ে রিট
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় লুণ্ঠিত বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছে। গতকাল বুধবার জনস্বার্থে এই রিটটি দায়ের করেন আইনজীবী মো: মাহমুদুল হাসান। রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং র্যাব মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদি করা হয়েছে।
রিটে উল্লেখ করা হয়, গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় দেশের বিভিন্ন থানা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যালয় থেকে পাঁচ হাজার ৭৫০টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ছয় লাখ ৫১ হাজার ৬০৯ রাউন্ড গোলাবারুদ লুট করা হয়। সরকার এই অস্ত্র উদ্ধারে পুরস্কার ঘোষণা করলেও এখন পর্যন্ত এর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এই বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাতে থাকায় আসন্ন নির্বাচনে ভোটার ও প্রার্থীদের জীবন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
রিটে আরো বলা হয়, ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী শরিফ ওসমান হাদি সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার না হলে নির্বাচন রক্তক্ষয়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমনকি নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার (অব:) আবুল ফজল মো: সানাউল্লাহও নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের গুরুত্ব নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন।
আইনজীবী মো: মাহমুদুল হাসান উল্লেখ করেন, সরকার কতিপয় প্রার্থীর জন্য গানম্যানের ব্যবস্থা করলেও সাধারণ ভোটারদের নিরাপত্তার জন্য কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এ অবস্থায় লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার না করে নির্বাচন করা হলে তা সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নাগরিকের ‘জীবনের অধিকার’ বা মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী হবে।
রিট পিটিশনে লুণ্ঠিত সব আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার এবং নির্বাচনের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আসন্ন জাতীয় নির্বাচন স্থগিত রাখার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।