ইসরাইলের মৃত্যুদণ্ড আইনের নিন্দা মুসলিম দেশগুলোর
Printed Edition
নয়া দিগন্ত ডেস্ক
সৌদি আরব, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া, মিসর, জর্দান, পাকিস্তান, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কয়েকটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ গতকাল বৃহস্পতিবার ইসরাইলের নতুন মৃত্যুদণ্ড আইনের নিন্দা করেছে। তারা সতর্ক করেছে, এই পদপে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলবে।
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, আইনটি বিপজ্জনক উসকানি এবং বৈষম্যমূলকভাবে ফিলিস্তিনি বন্দীদের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা হবে। এতে উত্তেজনা আরো বাড়বে এবং স্থিতিশীলতা নষ্ট হবে। ইসরাইলি পার্লামেন্ট সোমবার রাতে আইনটি পাস করেছে। এর অধীনে পশ্চিমতীরে সামরিক আদালতে দোষী সাব্যস্ত ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ড দেয়া হবে। জাতিসঙ্ঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন আইনটির সমালোচনা করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, ইসরাইল তার নিজস্ব আইন প্রণয়নের অধিকার রাখে।
নতুন আইনে পশ্চিমতীরে ফিলিস্তিনিদের জন্য আলাদা ও কঠোর বিচারব্যবস্থা তৈরি হয়েছে। সামরিক আদালতে দোষী সাব্যস্ত হলে মৃত্যুদণ্ড হবে ডিফল্ট সাজা। অন্য দিকে ইসরাইলি বেসামরিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া যেতে পারে। ইসরাইল এর আগে মাত্র দু’বার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ১৯৪৮ সালে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর এক সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এবং ১৯৬২ সালে নাৎসি যুদ্ধাপরাধী অ্যাডলফ আইখম্যানের বিরুদ্ধে। ইসরাইল ১৯৬৭ সাল থেকে পশ্চিমতীর দখল করে রেখেছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে সেখানে সহিংসতা আরো বেড়েছে।
গাজায় নিহতের সংখ্যা ৭২ হাজার ছাড়াল
গাজা উপত্যকার চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে, ইসরাইলি আগ্রাসনে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭২ হাজার ২৮৯ জনে। আহত হয়েছেন এক লাখ ৭২ হাজার ৪৩ জন, যা শুরু হয়েছিল ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে। সূত্রগুলো জানিয়েছে, বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে তিনজন আহতকে ভর্তি করা হয়েছে। খবর ওয়াফা। তারা আরো জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ১১ অক্টোবর যুদ্ধবিরতির পর থেকে এখন পর্যন্ত ৭১৩ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন এক হাজার ৯৪৩ জন। এ সময় ৭৫৬টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। চিকিৎসা সূত্র বলছে, এখনো অনেক মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে ও রাস্তায় পড়ে আছেন, যাদের কাছে পৌঁছাতে পারছে না অ্যাম্বুলেন্স ও উদ্ধারকারী দল। গাজায় চলমান ইসরাইলি হামলায় প্রতিদিনই নিহত ও আহতের সংখ্যা বাড়ছে, যা মানবিক বিপর্যয়কে আরো গভীর করছে।
ইসরাইলের রেকর্ড বাজেটে অবৈধ বসতি সম্প্রসারণে অর্থ বরাদ্দ
ইসরাইলি পার্লামেন্ট সোমবার দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট অনুমোদন করেছে। ২৭১ বিলিয়ন ডলারের এই বাজেটের অন্যতম ল্য পশ্চিমতীরে অবৈধ বসতি সম্প্রসারণে বিপুল অর্থ বরাদ্দ। প্রতিরা খাতে ৪৫.৮ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ থাকলেও বাজেটের সূক্ষ্ম অংশে দেখা যাচ্ছে বসতি সম্প্রসারণে বড় অঙ্কের অর্থ যাচ্ছে। বসতি ও জাতীয় মিশন মন্ত্রণালয়কে দেয়া হয়েছে ৪০০ মিলিয়ন শেকেল, যা অবৈধ ইহুদি বসতি অনুমোদন করে। অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচ নিজেও একজন বসতিস্থাপনকারী এবং প্রকাশ্যে দুই রাষ্ট্র সমাধানের বিরোধিতা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলেছেন, জর্দান নদীর পশ্চিমে কোনো ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র হবে না। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের হুমকিকে অজুহাত বানিয়ে এই বাজেট পাস করানো হয়েছে। বাজেটে নতুন বাইপাস সড়ক নির্মাণ, অবৈধ আউটপোস্টে নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও ড্রোন বরাদ্দ, কৃষিজমি দখল করে ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুত করা এবং সশস্ত্র বসতিস্থাপনকারীদের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। জাতিসঙ্ঘ জানিয়েছে, গত দুই বছরে বসতিস্থাপনকারীরা প্রায় তিন হাজারবার ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালিয়েছে। ২০২২ সালে পশ্চিমতীরে বসতি ও আউটপোস্টের সংখ্যা ছিল ১৪১, যা ২০২৫ সালে বেড়ে হয়েছে ২১০। বর্তমানে প্রায় সাত লাখ বসতিস্থাপনকারী পশ্চিমতীরে বসবাস করছে। নেতানিয়াহু হেরেদি দলগুলোর সমর্থন ধরে রাখতে ইয়েশিভা স্কুলে ২৫৫ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দিয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরও এই অর্থ বরাদ্দ দিয়ে সরকার পতন ঠেকানো হয়েছে। বিরোধী দল দীর্ঘ আলোচনার পর ভুল করে ইয়েশিভা স্কুলে অর্থ বরাদ্দের সংশোধনীতে ভোট দিয়েছে। তারা নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হলেও বিকল্প নেতৃত্বে বিভক্ত। ইয়াইর লাপিদ সরকারকে প্রতারণার অভিযোগ করেছেন এবং অর্থ বরাদ্দ ঠেকাতে অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে আবেদন করেছেন।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, এই বাজেট বসতি সম্প্রসারণকে আরো শক্তিশালী করবে এবং ভবিষ্যতে কোনো কার্যকর ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের সম্ভাবনা কমিয়ে দেবে। একই সাথে ইসরাইলি সমাজে ধর্মীয় ডানপন্থী ও ধর্মনিরপে জনগণের মধ্যে বিভাজন আরো গভীর হবে এবং অঞ্চল অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে।
গাজায় বিশ্ববিদ্যালয় কাস পুনরায় শুরু
দণি গাজার খান ইউনুসের মাওয়াসি এলাকায় বাস্তুচ্যুতদের মাঝে পরীামূলকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সরাসরি কাস চালু হয়েছে। দীর্ঘ যুদ্ধের কারণে শিা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পর এই উদ্যোগ শিার্থীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট মনিটর।
দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে অনলাইনে পড়াশোনা করা শিার্থীরা আবার শ্রেণিকে ফিরতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করেছেন। অনেকেই বলেছেন, এটি তাদের প্রথম প্রকৃত বিশ্ববিদ্যালয় অভিজ্ঞতা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে আন্তর্জাতিক সংগঠন ‘স্কলার্স উইদাউট বর্ডারস’। প্রায় তিন দুর্গত জায়গায় সাতটি শ্রেণিক তৈরি করা হয়েছে। বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট, ডেস্ক ও বোর্ডসহ সাধারণ শিার পরিবেশ গড়ে তোলা হয়েছে। প্রথম দিনে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিার্থীরা অংশ নিয়েছেন। পরবর্তী সময়ে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিার্থীদেরও নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হবে। যুদ্ধ ও বাস্তুচ্যুতির কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও এই উদ্যোগ গাজার তরুণদের শিাজীবনে নতুন প্রাণ ফিরিয়ে আনছে।