অবসরের নোটিশ পেয়েই বিতর্কিতদের পদোন্নতির তোড়জোড়
ব্রিতে ডিপিসি-১ সভা ঘিরে নতুন উকিল নোটিশ
Printed Edition
মো: আজিজুল হক গাজীপুর মহানগর
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে (ব্রি) পদোন্নতি নীতিমালা নিয়ে চলমান বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। মহাপরিচালকের অবসরের প্রাক্কালে ডিপিসি-১ সভা আহ্বান ও বিতর্কিত পদোন্নতির অভিযোগ ঘিরে দ্বিতীয় দফায় উকিল নোটিশ পাঠানো হয়েছে, ফলে প্রতিষ্ঠানজুড়ে অসন্তোষ আরো বাড়ছে।
ব্রির নিয়োগ ও পদোন্নতি কমিটি-১ (ডিপিসি-১)-এর সভা গতকাল অনুষ্ঠিত হয়। এর ঠিক দুই দিন পরই, ৪ এপ্রিল থেকে মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান অবসরে যাচ্ছেন, এমন প্রেক্ষাপটে তড়িঘড়ি পদোন্নতির উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের জারি করা অফিস আদেশ অনুযায়ী, গত ৩০ মার্চ ড. খালেকুজ্জামানকে অবসর প্রদান এবং পরবর্তী এক বছরের অবসর-উত্তর ছুটি (পিআরএল) মঞ্জুর করা হয়। একই দিনে ব্রি প্রশাসন ডিপিসি-১ সভা আহ্বান করে, যার আলোচ্যসূচিতে প্রিন্সিপাল সায়েন্টিফিক অফিসার (পিএসও) পদে পদোন্নতির বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এ অবস্থায় একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীর মাধ্যমে নতুন করে ‘জাস্টিস ডিমান্ড নোটিশ’ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে দাবি করা হয়েছে, প্রস্তাবিত প্রবিধানমালা ২০২৫ অনুমোদনের আগে, পূর্ববর্তী নিয়োগ ও পদোন্নতিতে অনিয়ম সংক্রান্ত তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এবং পদোন্নতি বঞ্চিতদের বিষয় নিষ্পত্তির আগে কোনো নতুন পদোন্নতি কার্যক্রম গ্রহণ করা আইনসঙ্গত হবে না।
নোটিশে আরো অভিযোগ করা হয়, বিগত ১৫ বছরে নিয়োগ ও পদোন্নতিতে ব্যাপক অনিয়ম ও দলীয় প্রভাব বিস্তার হয়েছে, যার পরিপ্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে একাধিক তদন্ত কমিটি কাজ করছে এবং শতাধিক অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিতর্কিত ব্যক্তিদের পদোন্নতি দেয়ার চেষ্টা প্রশাসনিক নীতির পরিপন্থী।
অভিযোগ রয়েছে, ব্রির মহাপরিচালকের অবসরকে সামনে রেখে স্বল্প সময়ে কিছু কর্মকর্তাকে বিশেষ সুবিধা দিতে তড়িঘড়ি ডিপিসি-১ সভা ডাকা হয়েছে। বিশেষ করে পিএসও পদে পদোন্নতি এবং অন্যান্য পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে অনিয়মের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ দিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি ঘিরে ব্রির ভেতরে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ পদোন্নতি প্রক্রিয়া স্থগিত রেখে স্বচ্ছ তদন্ত ও নীতিমালার আলোকে সিদ্ধান্ত নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে এ বিষয়ে ব্রি মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ খালেকুজ্জামানের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, দ্রুত স্বচ্ছ ও নীতিসম্মত সিদ্ধান্ত না এলে বিষয়টি আইনি জটিলতায় রূপ নিতে পারে এবং তা ব্রির স্বাভাবিক কার্যক্রমেও প্রভাব ফেলতে পারে।
ওভারটাইম বন্ধের অভিযোগে বিক্ষোভ
এ দিকে ব্রির কৃষি শ্রমিকদের ওভারটাইম (অতিরিক্ত কাজের পারিশ্রমিক) বন্ধসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ পরিস্থিতিতে গতকাল শ্রমিকরা মহাপরিচালকের দফতর ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন।
তারা জানান, ব্রি প্রতিষ্ঠার পর প্রায় ৫৫ বছর ধরে শ্রমিকদের ওভারটাইম দেয়ার একটি নিয়মিত প্রথা চালু ছিল। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর নতুন মহাপরিচালক ড. মো: খালেকুজ্জামান দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে ওই প্রথা বন্ধ করে দেয়া হয় এবং বহিরাগত শ্রমিক এনে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ে কাজ করানো হচ্ছে।
শ্রমিকদের দাবি, নিয়মিত শ্রমিকদের দিয়ে অতিরিক্ত কাজ করানোর পরিবর্তে মহাপরিচালক খামার বিভাগের যোগসাজশে বহিরাগত ও অনভিজ্ঞ শ্রমিক নিয়োগ দিয়ে কাজ করাচ্ছেন। এতে একদিকে নিয়মিত শ্রমিকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অন্য দিকে অতিরিক্ত বিল-ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাত করা হয়েছে।