শাহজাদপুরে ২২৪ প্রাথমিকে ২১৬টি শিক্ষক পদ শূন্য

পাঠদানে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে শ্রেণিকক্ষে

Printed Edition

আবুল কাশেম শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ)

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘ দিন ধরে শিক্ষক সঙ্কট প্রকট আকার ধারণ করেছে। উপজেলার ২২৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট ২১৬টি শিক্ষক পদ শূন্য থাকায় পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে প্রধান শিক্ষকের ১৫১টি এবং সহকারী শিক্ষকের ৬৫টি পদ দীর্ঘ দিন ধরে শূন্য রয়েছে। ফলে অনেক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করায় প্রশাসনিক কাজের চাপ বাড়ছে এবং শ্রেণিকক্ষে পাঠদানে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ২২৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রায় ৩৩ হাজার ৭৫২ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিটি বিদ্যালয়ে একজন প্রধান শিক্ষকসহ অন্তত ছয়জন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক বিদ্যালয়ে মাত্র তিনজন শিক্ষক দিয়ে পাঠদান পরিচালিত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের নিয়মিত প্রশাসনিক কাজে উপজেলা শিক্ষা অফিসে যেতে হয়। ফলে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষাদানের সময় কমে যায়। পাশাপাশি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক সমন্বয়ের অভাবও দেখা দেয়, যা বিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রমে প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে দুর্গম ও মফস্বল এলাকার বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সঙ্কট তুলনামূলক বেশি হওয়ায় সেখানে শিক্ষার মান আরো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক বলেন, শিক্ষক সঙ্কটের কারণে শিক্ষার্থীরা মৌলিক বিষয়ে প্রত্যাশিত দক্ষতা অর্জন করতে পারছে না। অনেক শিক্ষার্থী বাংলা ও ইংরেজি পাঠ্যবই সাবলীলভাবে পড়তেও হিমশিম খায়। তাদের অভিযোগ, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির নানা বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হলেও দীর্ঘ দিনের শিক্ষক সঙ্কট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ে না।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: মুরাদ হোসেন বলেন, শুধু বিদ্যালয়েই নয়, উপজেলা শিক্ষা অফিসেও তীব্র জনবল সঙ্কট রয়েছে। তার অফিসে সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার ৯টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র চারজন। অফিস সহকারীর চারটি পদ দীর্ঘ দিন ধরে শূন্য রয়েছে। এমনকি পিয়নের পদও খালি থাকায় সীমিত জনবল দিয়ে ২২৪টি বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম তদারকি করতে হচ্ছে।

সিনিয়র শিক্ষক উজ্জ্বল হোসেন বলেন, দীর্ঘ ২৬-২৭ বছর ধরে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রধান শিক্ষক পদে পদায়ন ও নিয়োগ না হওয়ায় শূন্যপদের সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। এতে যেমন শিক্ষকদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে, তেমনি বিদ্যালয় পরিচালনা ও পাঠদানের মানও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ, প্রশাসনিক জনবল বৃদ্ধি এবং প্রাথমিক শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।