মতলব উত্তরে হাত বাড়ালেই মাদক পদক্ষেপ নেই আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর
Printed Edition
সুমন আহমেদ মতলব উত্তর (চাঁদপুর) থেকে
একসময় শান্ত ও কৃষিনির্ভর জনপদ হিসেবে পরিচিত চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা এখন ভয়াবহ মাদক আগ্রাসনের মুখে পড়েছে। ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য সহজলভ্য হয়ে উঠেছে, হাত বাড়ালেই মিলছে এসব মাদক। উপজেলার অলিগলি, বাজার, সিএনজি স্ট্যান্ড, ব্রিজের নিচ, নদীপাড় এমনকি হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশেও প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচা ও সেবনের অভিযোগ উঠেছে। এতে কিশোর ও তরুণ সমাজের একটি বড় অংশ মাদকের জালে জড়িয়ে পড়ছে, যা সামাজিক অবক্ষয়কে ত্বরান্বিত করছে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌর সদরের কলাকান্দা আশ্রয়ণ প্রকল্প, জোড়খালী, ঢালীকান্দী, আদুরভিটি, বড় মরাধন, ঘনিয়ারপাড়, তালতলী, ওটারচর ও বউ বাজার এলাকায় মাদক বাণিজ্য কার্যত ‘ওপেন সিক্রেট’। দিনের আলোতেই লেনদেন চলে, সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হয়। একাধিক বাসিন্দা জানান, চায়ের দোকানগুলো মাদক বেচাকেনার নিরাপদ আড্ডায় পরিণত হয়েছে। সন্ধ্যার পর বখাটে ও মাদকসেবীদের আনাগোনা বেড়ে যায়, সাধারণ মানুষ আতঙ্কে থাকে। শুধু পৌর এলাকাতেই নয়, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নেও মাদকের বিস্তার ঘটেছে। দুর্গাপুর ও বেলতলী আশ্রয়ণ প্রকল্প, সটাকী ও দশানী বেড়িবাঁধ, সুগন্ধি নদীর পাড়, বেলতলী বাজার, কালির বাজার, ফরাজীকান্দী ইউনিয়নের সরদারকান্দী, ষাটনল লঞ্চঘাট, সাদুল্লাপুর, হরিনা ও লুধুয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত নেশাসেবনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দাউদকান্দি থেকে শ্রীরায়ের চর ব্রিজ হয়ে বাংলা বাজার, চাঁদপুর, কচুয়া এবং মতলব দক্ষিণ হয়ে মতলব সেতু ও বিভিন্ন লঞ্চঘাট ব্যবহার করে একটি শক্তিশালী মাদক সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক সরবরাহ করছে। নজরদারি দুর্বল ও যোগাযোগ সুবিধাজনক হওয়ায় এসব পথকে নিরাপদ করিডোর হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে মতলব উত্তর থানার ওসি কামরুল হাসান বলেন, মাদকবিরোধী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। আরো কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে, যাতে মাদক ব্যবসায়ীরা কেউই রেহাই না পায়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শিগগিরই মাদক নির্মূলে দৃশ্যমান অগ্রগতি আসবে।