গাজায় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি বিপর্যস্ত জনজীবন
Printed Edition
নয়া দিগন্ত ডেস্ক
গাজা উপত্যকায় চলমান অবরোধ, হামলা এবং মানবিক সহায়তা প্রবেশে সীমাবদ্ধতার কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। স্থানীয় সূত্র ও বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মূল্যবৃদ্ধি শুধু সরবরাহ সঙ্কটের কারণে নয়, বরং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং দীর্ঘস্থায়ী অবরোধের ফলেও পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। খবর আনাদোলু এজেন্সির।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি হামলার পর থেকে গাজার অর্থনীতি কার্যত ভেঙে পড়েছে। যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর থাকলেও সীমান্ত ক্রসিংগুলো অধিকাংশ সময় বন্ধ বা সীমিতভাবে চালু থাকায় খাদ্যপণ্য, বিশেষ করে শাকসবজি ও ফলমূলের দাম দ্রুত বাড়ছে। বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, আগে ৩-৪ শেকেলে বিক্রি হওয়া টমেটো, বেগুন বা পেঁয়াজের দাম এখন ১৫-১৬ শেকেলে পৌঁছেছে। একইভাবে, মৌসুমের শুরুতে ৯-১০ শেকেল দামের ফল এখন ৪৫-৫০ শেকেল পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
দোকানদাররা জানিয়েছেন, এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে অধিকাংশ মানুষ বাজার থেকে কেনাকাটা করতে পারছে না। সীমিত সংখ্যক মানুষ ছাড়া বাকিরা বিদেশী সহায়তা বা প্রবাসী আত্মীয়দের পাঠানো অর্থের ওপর নির্ভর করে টিকে আছে। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে বাকিতে খাদ্যপণ্য নিচ্ছে, আবার কেউ কেউ দাতব্য সংস্থার খাবারের লাইনে দাঁড়াচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরবরাহ কমে যাওয়ার পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়াও মূল্যবৃদ্ধির বড় কারণ। জ্বালানি, পানি এবং শ্রম খরচ বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে বাজারে পণ্যের ঘাটতি আরো বাড়ছে এবং দামের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, বর্তমানে অঞ্চলটির প্রয়োজনীয় পণ্যের মাত্র ১৫ থেকে ২০ শতাংশ প্রবেশ করছে। যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী প্রতিদিন ৬০০টি ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশের কথা থাকলেও বাস্তবে তার মাত্র ৩৮ শতাংশ পৌঁছাচ্ছে। এতে করে খাদ্য সরবরাহে মারাত্মক ঘাটতি তৈরি হচ্ছে এবং বাজারে অস্থিরতা বাড়ছে।
এ ছাড়া প্রায় ১৯ থেকে ২০ লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষ অস্থায়ী তাঁবুতে বসবাস করছে, যেখানে ন্যূনতম জীবনযাপনের সুযোগও নেই। জ্বালানি ও গ্যাস সঙ্কটও তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত দুই মাস ধরে অনেক পরিবারকে মাত্র কয়েক কেজি গ্যাস দিয়ে দিন পার করতে হচ্ছে, যা দৈনন্দিন প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। গাজার সরকারি কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে খাদ্য নিরাপত্তা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়তে পারে। আন্তর্জাতিক মহলের প্রতি তারা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে সীমান্ত পুরোপুরি খুলে দেয়া হয় এবং খাদ্য ও ত্রাণ সরবরাহ স্বাভাবিক করা যায়। বিশ্লেষকদের মতে, অব্যাহত অবরোধ, সীমিত সহায়তা এবং চলমান অস্থিরতা গাজাকে এক গভীর মানবিক সঙ্কটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যেখানে সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের জীবন সংগ্রাম ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।
গাজায় ইসরাইলি বিমান হামলায় আরো ৩ ফিলিস্তিনি নিহত
মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকায় ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত তিনজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। স্থানীয় চিকিৎসা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একটি স্কুলের বাইরে জড়ো হওয়া একদল মানুষের ওপর এ হামলা চালানো হয়। খবর আলজাজিরার।