এমপি হয়ে দেশের উন্নয়নে কাজ করতে চান দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মুখলেসুর রহমান

Printed Edition

মোহাম্মদ আলী ঝিলন গাজীপুর

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় এসেছেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মো: মুখলেসুর রহমান। প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর অধিকার ও প্রতিনিধিত্বের দাবিতে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে দেশের উন্নয়নে কাজ করতে চান বলে জানিয়েছেন।

সম্প্রতি গাজীপুর সদর থানার চতর শিমুলতলী এলাকায় তাকে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে দেখা গেছে। প্রায় প্রতিদিনই কয়েকজন স্বজনকে সাথে নিয়ে তিনি লিফলেট বিতরণ ও ভোটারদের সাথে মতবিনিময় করছেন। তার ব্যতিক্রমী প্রার্থিতাকে ঘিরে স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

মুখলেসুর রহমান গাজীপুর সদর থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের চতর শিমুলতলী এলাকার বাসিন্দা। তার বাবা আবুল মনসুর একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। শৈশবে টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়ে তিনি দৃষ্টিশক্তি হারান। দীর্ঘদিন চিকিৎসা করেও দৃষ্টি ফিরে না আসায় জীবন সংগ্রাম শুরু হয় অল্প বয়সেই। পরিবারের মতের বাইরে গিয়ে তিনি স্কুলে ভর্তি হন এবং পড়ালেখার পাশাপাশি চকোলেট ও খাতা-কলম ফেরি করে নিজের লেখাপড়ার খরচ চালাতেন।

উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে গিয়ে ২০১১ সালে তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে টাঙ্গাইল শহরের বিবেকানন্দ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রায় এক বছর ৯ মাস খণ্ডকালীন ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে সম্প্রতি চাকরিটি হারানোর পর সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চেষ্টা করেও নতুন কোনো কাজ পাননি।

বর্তমানে বেকার অবস্থায় পরিবার নিয়ে চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন মুখলেসুর। তার স্ত্রী নাজনীন আহমেদও একজন প্রতিবন্ধী। তাদের একমাত্র ছেলে তৃতীয় শ্রেণীতে পড়াশোনা করে। সংসারের ব্যয়ভার চালাতে স্ত্রী স্থানীয়ভাবে কয়েকটি টিউশনি করেন। নাজনীন আহমেদ বলেন, দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও মুখলেস কোনো কাজ পাননি। তখনই তার উপলব্ধি হয়, এ দেশে প্রতিবন্ধীদের অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র বা রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যকর উদ্যোগ নেই। তাই তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, জনপ্রতিনিধি হয়ে সবার আগে প্রতিবন্ধীদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করবেন তিনি। প্রতিবেশী ও ওষুধ ব্যবসায়ী আব্দুল জব্বার বলেন, মুখলেস একজন শিক্ষিত ও সচেতন নাগরিক। তার নির্বাচন করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। অশিক্ষিতরা যদি সংসদে যেতে পারে, তবে একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষিত মানুষ কেন পারবেন না- এ প্রশ্নই এখন এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।