ভালুকায় বন বিভাগের জমি দখল করে অর্ধশতাধিক স্থাপনা
স্থানীয়দের অভিযোগ, বন বিভাগের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে অনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমেই এসব স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। তবে বন বিভাগের সংশ্লিষ্টদের দাবি- এসব অবৈধ স্থাপনার বিষয়ে একাধিক মামলা দেয়া হয়েছে।
স্থান
ভালুকা
Printed Edition
ময়মনসিংহের ভালুকা ও উথুরা রেঞ্জের অধীন ছয়টি বিট ও একটি ক্যাম্পের আওতায় বন বিভাগের জমি দখলে নিয়ে প্রায় অর্ধশতাধিক বাড়িঘর নির্মাণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি বহুতল ভবনও রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বন বিভাগের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে অনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমেই এসব স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। তবে বন বিভাগের সংশ্লিষ্টদের দাবি- এসব অবৈধ স্থাপনার বিষয়ে একাধিক মামলা দেয়া হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ভালুকা রেঞ্জের হবিরবাড়ি বিটের আওতায় হবিরবাড়ি মৌজা সিএস ১৮৫ নম্বর দাগে সিডস্টোর উত্তর বাজার এলাকায় মজিবুর রহমান নামে এক ব্যক্তি পাঁচতলা ফাউন্ডেশন দিন বাড়ির কাজ করছেন। একই দাগে খানকা ঘরের দক্ষিণ পাশে বন বিভাগের জমিতে আজিজ নামে এক ব্যক্তি বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন। ১৫৪ নম্বর দাগে আমতলী মোড় জব্বার মার্কেট এলাকায় বুলবুল মাস্টার নামে এক ব্যক্তি পাঁচতলা বাড়ি নির্মাণ করছেন। পাশেই বাংলা বিল্ডিং করছেন রবি নামে আরেক ব্যক্তি। ১৮৭ নম্বর দাগে লবণকোঠা এলাকায় আবুল হাশেম ওরফে হাসু বেশ কয়েকটি পাকা ঘর নির্মাণ করছেন। আওলাতলী রোড হবিরবাড়ি মৌজার ৯ নম্বর দাগে খলিলুর রহমান পাঁচতলা বাড়ি করছেন। একই দাগে সুরুজ ড্রাইভার নামে এক ব্যক্তি চারতলার ছাদ পর্যন্ত ঢালাই করেছেন। সিডস্টোর ঝালপাজা সড়কে ১৮৫ নম্বর দাগে পাঁচতলা বাড়ি করছেন শিখা নামে এক নারী। একই দাগে বহুতল ভবন করছেন শরীফ নামে এক ব্যক্তি। তা ছাড়া ধামশুর মৌজার ৯৬৬ নম্বর দাগে দৃশ্যমান বিপুল পরিমাণ গজারী গাছসহ বন বিভাগের জমি দখল করে হ্যামস ফ্যাশন লিমিটেড নামে একটি পোশাক কারখানা সীমানাপ্রচীর নির্মাণ করছে। জব্বারের মোড়ের পূর্বপাশে, মাজারের দক্ষিণে জাফর নামে এক ব্যক্তি বিশাল বাড়ি করছেন। সিডস্টোর উত্তর বাজার কাজী অফিস গলির রোডে ১৮৫ নম্বর দাগে আলাল মেকার নামে এক ব্যক্তি বাড়ি করছেন। একই দাগে ফালু সরকারের ভাই বাড়ি নির্মাণ করছেন। পাশেই ১০ তলা ফাউন্ডেশনে বাড়ি করছেন সালাউদ্দিন নামের এক ব্যক্তি। তা ছাড়া আল মদীনার উত্তর পাশে ৯ নম্বর দাগে নাসির গ্লাসের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মহসীন হোসেন ও রবি বাড়ি নির্মাণ করছেন। ইটালী মাঠের পশ্চিমে রাস্তার দক্ষিণ পাশে জবান আলী বাড়ি করছেন, এ দিকে কাঁঠালী মৌজার ১০৭ নম্বর দাগে সুনিল ও উত্তম নামে দুই ব্যক্তি ২০টি পাকা ঘর নির্মাণ করছেন। একই দাগে আনাস খান করছেন কয়েকটি ইটের ঘর, স্থানীয় ব্র্যাকের বাগানে ১০০ নম্বর দাগেও স্থাপনা করা হচ্ছে এবং কাঁঠালী কানার মার্কেট এলাকায় ২৪২ নম্বর দাগে আমির আলী মৃধার ছেলে নাঈম বাড়ি নির্মাণ করছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি জানান, হবিরবাড়ি বিট অফিসার আনোয়ার হোসেন খান ভালুকা রেঞ্জের কাদিগড় বিটে দীর্ঘ দিন দায়িত্বে থাকা অবস্থায় তাকে হবিরববাড়ি বিটেরও অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। কাদিগড় বিটে থাকা অবস্থায় তিনি অনেক অনিয়ম করেছেন। তিনি হবিরবাড়ি বিটের দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে বন বিভাগের জমি দখলে নিয়ে বহুতল ভবনসহ বিভিন্ন ধরেনের স্থাপনা নির্মাণের হিড়িক পড়েছে। আর এসব স্থাপনা নির্মাণে বিট অফিসার আনোয়ার হোসেন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
এ দিকে উথুরা রেঞ্জের আওতায় একাধিক স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। জানা যায়, ওই রেঞ্জার কৈয়াদি গ্রামের কায়নার নামক স্থানে জনৈক ওয়াজেদ মিয়া বন বিভাগের প্রায় ৩০ শতক জমি দখলে নিয়ে পোলট্রি খামারের জন্য শেড নির্মাণ করেছেন। একই মৌজার কাঠ ব্যবসায়ী হুমায়ূনের বাড়ির পূর্বপাশে কালাম নামে এক ব্যক্তির বাড়ি নির্মাণসহ বহু বাড়িঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। তা ছাড়া ওই রেঞ্জের আঙ্গারগাড়া বিটে বহু বাড়িঘর নির্মাণ করা হয়েছে।
এ দিকে উথুরা রেঞ্জের আওতায় এনায়েতপুর বিটে কাহালগাঁও গ্রামে ১৯৭ নম্বর দাগে নজরুল ইসলাম ও নাছির উদ্দিন নামে দুই ব্যক্তি বাড়ি নির্মাণ করছেন। তা ছাড়া মামলা চলমান থাকার পরও ওই দাগে ভেকু দিয়ে মাটি কেটে নিয়ে বিক্রি করছেন। অভিযোগ রয়েছে, বিট অফিসার ইসমাইল হোসেনের সাথে যোগসাজশ করে ও অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে অন্তত ২০টির উপরে বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
এ ব্যাপারে ভালুকা রেঞ্জের দায়িত্বে থাকা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) ইব্রাহিম সাজ্জাদ ও উথুরা রেঞ্জ কর্মকর্তা আ ছ ম রিদুয়ান অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের বিষয়ে সত্যতা স্বীকার করে জানান, ওই সব ঘটনায় একাধিক মামলা দেয়া হয়েছে এবং বেশ কিছু মামলা প্রক্রিয়াধীন।