রাফাহ দিয়ে গাজায় ফিরেছেন আরো ফিলিস্তিনি

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

ইসরাইলি হামলা চলতে থাকায় রাফাহ সীমান্ত দিয়ে আরো ৪১ জন ফিলিস্তিনি গাজায় ফিরেছেন। ফেব্রুয়ারির শুরুতে আংশিকভাবে ফের খোলার পর এটি সপ্তম দফায় প্রত্যাবর্তন। আলজাজিরা জানায়, প্রত্যাবর্তনকারীরা জানিয়েছেন, ইসরাইলি সেনাদের হাতে অপমানজনক তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদের শিকার হতে হয়েছে। মিসরের সাথে গাজার একমাত্র প্রবেশপথ রাফাহ সীমান্ত ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ যুদ্ধ চলাকালে বন্ধ রেখেছিল। ২ ফেব্রুয়ারি আংশিকভাবে খোলার পর থেকে সীমিত সংখ্যক অনুমোদিত মানুষকে প্রবেশের সুযোগ দেয়া হচ্ছে।

এ পর্যন্ত ১৭২ জন ফিলিস্তিনি গাজায় ফিরেছেন এবং মাত্র ২৫০ জন রোগী চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে পেরেছেন। প্রতিদিন ৫০ জন রোগীকে বের হওয়ার কথা থাকলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। প্রায় ২০ হাজার রোগী বিদেশে চিকিৎসার অপেক্ষায় রয়েছেন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরাইলি হামলায় ২২টি হাসপাতাল বন্ধ হয়ে গেছে এবং এক হাজার ৭০০ চিকিৎসাকর্মী নিহত হয়েছেন।

ইসরাইলি হামলা অব্যাহত

অক্টোবরে ঘোষিত তথাকথিত যুদ্ধবিরতির পরও ইসরাইলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। বুধবার খান ইউনিসের পূর্বাঞ্চলে বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণ চালানো হয়। মঙ্গলবারের হামলায় অন্তত সাতজন ফিলিস্তিনি নিহত হন।

ইসরাইল ঘোষণা করেছে, দুই ফিলিস্তিনিকে গাজায় জোরপূর্বক বহিষ্কার করা হবে। এটি ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে পাস হওয়া আইনের প্রথম প্রয়োগ, যেখানে নাগরিকত্ব বাতিল ও বহিষ্কারের বিধান রাখা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, তিনি দুই ফিলিস্তিনির নাগরিকত্ব বাতিল ও বহিষ্কারের আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। তাদের একজন মাহমুদ আহমদ, যিনি ২৩ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। অন্যজন মোহাম্মদ আহমদ হুসেইন আল-হালসি, যিনি ২০১৬ সালে ১৮ বছরের সাজা পান।

পশ্চিমতীরে নতুন পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনকে আঘাত করছে : ইউএনআরডব্লিউএ

জাতিসঙ্ঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএর প্রধান ফিলিপ লাজারিনি বলেছেন, পশ্চিমতীরে ইসরাইলের নতুন পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনকে নতুনভাবে আঘাত করছে। খবর আনাদোলুর। তিনি বলেন, এসব সিদ্ধান্ত দ্রুত বসতি সম্প্রসারণের পথ খুলে দিচ্ছে এবং ফিলিস্তিনিদের ভবিষ্যৎ আরো অনিশ্চিত করছে। লাজারিনি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘এগুলো নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর, হতাশা সৃষ্টির এবং সহিংসতা বাড়ানোর রেসিপি।’ তিনি সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ বিপজ্জনক নজির তৈরি করছে, যার বৈশ্বিক প্রভাব পড়তে পারে। রোববার ইসরাইলি নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা পশ্চিমতীরে আইন ও প্রশাসনিক কাঠামো পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়। এর মধ্যে রয়েছে ভূমি বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া, মালিকানার রেকর্ড উন্মুক্ত করা এবং হেবরনের একটি বসতি এলাকায় নির্মাণ অনুমতির ক্ষমতা ফিলিস্তিনি পৌরসভা থেকে ইসরাইলি প্রশাসনের হাতে দেয়া।

গাজায় প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইন্দোনেশিয়ার সেনারা

ইসরাইলি গণমাধ্যম জানিয়েছে, গাজায় আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীতে যোগ দিতে হাজার হাজার ইন্দোনেশীয় সেনা প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। কান টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেনাদের আগমনের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঠিক হয়নি। তবে তারা গাজায় প্রবেশকারী প্রথম বিদেশী সেনা হতে পারে। খবর মিডল ইস্ট মনিটর। ইন্দোনেশীয় সেনাদের দক্ষিণ গাজায়, রাফাহ ও খান ইউনিসের মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থান করার কথা রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেনাদের থাকার জায়গা নির্মাণে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগবে। ধারণা করা হচ্ছে, সেনাদের সংখ্যা কয়েক হাজারে পৌঁছাতে পারে। এদিকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনে শান্তি পরিষদের বৈঠকে যোগ দেবেন। তিনি আগেই ঘোষণা করেছিলেন, তার দেশ গাজায় ২০ হাজার সেনা পাঠাতে প্রস্তুত।