উত্তরায় ভবনে আগুন
সবাইকে জাগিয়ে সাহসী রোদেলা চিরনিদ্রায়
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর সড়কের একটি ভবনে আগুন লাগার পর বিপদ আঁচ করতে পেরেছিল ওই ভবনের ১৪ বছরের কিশোরী রোদেলা। শুক্রবার ভোরের ওই অগ্নিকাণ্ডে রোদেলার সাহসিকতায় তার বাবা-মা ও ছোট ভাই প্রাণে বাঁচলেও ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা গেছে রোদেলা নিজে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় শিশুসহ একই পরিবারের তিনজন এবং অন্য একটি পরিবারের তিনজনসহ মোট ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।
নিহত রোদেলার বাবা শহিদুল ইসলাম জানান, দোতলায় আগুন লাগার পর ধোঁয়া যখন উপরের দিকে ছড়িয়ে পড়ে, তখন ১৪ বছর বয়সী রোদেলাই প্রথম তা টের পায়। সে চিৎকার করে পরিবারের সবাইকে ঘুম থেকে জাগিয়ে তোলে। জীবন বাঁচাতে শহিদুল ইসলাম ব্যালকনিতে আশ্রয় নিলেও তার ভাই হারেস উদ্দিন (৫২), ভাতিজা হিসান উদ্দিন রাহাব (১৭) এবং মেয়ে রোদেলা সিঁড়ি দিয়ে ছাদে ওঠার চেষ্টা করে। কিন্তু ছাদের দরজা তালাবদ্ধ থাকায় এবং সিঁড়িতে প্রচণ্ড ধোঁয়া জমে থাকায় সেখানেই শ্বাসরুদ্ধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়।
একই ভবনের পঞ্চম তলার আরেকটি ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালসের উপ-ব্যবস্থাপক ফজলে রাব্বী রিজভী (৩৮) ও তার স্ত্রী স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের কর্মকর্তা আফরোজা আক্তার (৩৭)। শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় তারা তাদের দুই বছর বয়সী সন্তান কাজী ফাইয়াজ রিশানকে নানীর বাসা থেকে নিজেদের কাছে নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু বিধিবাম, সেই রাতেই অগ্নিকাণ্ডের ধোঁয়ায় মৃত্যু হয় এই দম্পতির এবং তাদের একমাত্র শিশু সন্তানের।
গতকাল শনিবার সকালে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের চিওড়া কাজী বাড়িতে রিজভী দম্পতি ও তাদের সন্তানের জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। অন্যদিকে, ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের দড়িপাঁচাশি গ্রামে জানাজা শেষে রোদেলা, তার চাচা হারেস ও ভাই রাহাবকে পাশাপাশি কবরে দাফন করা হয়েছে। দুই গ্রামেই এখন বইছে শোকের মাতম।
ফায়ার সার্ভিসের উত্তরা স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মোহা: আলম হোসেন বলেন, ‘এই অগ্নিকাণ্ডে ভবন মালিকের চরম গাফিলতি স্পষ্ট। ভবনে কোনো অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জাম ছিল না। সবচেয়ে বড় ভুল ছিল ছাদের দরজা তালাবদ্ধ রাখা। ধোঁয়া বের হওয়ার কোনো পথ না থাকায় সিঁড়ি ঘরটি বিষাক্ত গ্যাসের কূপে পরিণত হয়েছিল। ছাদের দরজা খোলা থাকলে এই ছয়টি প্রাণ হয়তো বেঁচে যেত।’ প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন লাগার পর মালিক ও তার পরিবার দ্রুত বেরিয়ে গেলেও অন্য ফ্ল্যাটের বাসিন্দাদের সতর্ক করার প্রয়োজন মনে করেননি।
অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত : শুক্রবার সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে ওই ভবনের দোতলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিসের দু’টি ইউনিট সকাল ৮টা ২৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ভবন থেকে মোট ১৩ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক ছয়জনকে মৃত ঘোষণা করেন।