শাকসু নির্বাচন ২০২৬

শান্তিপূর্ণ ক্যাম্পাস গড়াই আমাদের লক্ষ্য

Printed Edition
first-8
শান্তিপূর্ণ ক্যাম্পাস গড়াই আমাদের লক্ষ্য

শাবি প্রতিনিধি

শাকসু নির্বাচনে স্বতন্ত্রদের প্যানেল ‘সাধারণের ঐক্যস্বর’ এর ভিপি প্রার্থী মহুয়ী শারদ। তিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থী। তিনি বিশ^বিদ্যালয়ের ক্রীড়া বিষয়ক সংগঠন ’স্পোর্টস সাস্ট’ এর পাবলিক রিলেশন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

নয়া দিগন্ত : আপনাকে ও আপনার প্যানেলকে কেন ভোট দেবেন শিক্ষার্থীরা?

মহুয়ী শারদ : এই প্রশ্নের উত্তর আসলে আমাদের প্যানেলের নামেই নিহিত। আমাদের প্যানেলের নাম ‘সাধারণের ঐক্যস্বর’। আমরা মূলত সেই সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব করতে চাই, যারা কোনো দলীয় বা রাজনৈতিক সংগঠনের সাথে যুক্ত নন। আমাদের স্বপ্ন একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও স্বাভাবিক ক্যাম্পাস। যেখানে শিক্ষার্থীরা ভয় ও চাপমুক্ত পরিবেশে পড়াশোনা করতে পারবে, কোনো দলীয় বা রাজনৈতিক আগ্রাসন থাকবে না এবং পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহাবস্থানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা এগিয়ে যাবে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

নয়া দিগন্ত : আপনার দৃষ্টিতে ক্যাম্পাসের প্রধান সমস্যাগুলো কী কী?

মহুয়ী শারদ : আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যাগুলো বহুস্তর বিশিষ্ট। আবাসন সঙ্কট তার একটি প্রকট উদাহরণ। লেডিস হল কিংবা সাব-হলের বর্তমান পরিস্থিতির দিকে তাকালেই বাস্তব চিত্র স্পষ্ট হয়। বর্তমানে এমন একটি অবস্থা তৈরি হয়েছে যে, সাব-হলে সিট না পেলে পরবর্তীতে মূল হলেও সিট পাওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে। অথচ অনেক ক্ষেত্রে সাব-হলের ভাড়া মেস ভাড়ার থেকেও বেশি। এসব সাব-হলে শিক্ষার্থীদের অমানবিক পরিবেশে বসবাস করতে হচ্ছে। এমনকি শুরুতে সিট নেয়ার সময় অনেক ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন ফি বা এক ধরনের ভর্তি ফি দিতে হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। এর বাইরে অবকাঠামোগত উন্নয়নের নামে যে বাজেট পাস হচ্ছে, সেগুলোর অর্থ মূলত শিক্ষার্থীদেরই টাকা। কিন্তু সেই অর্থ কোথায়, কীভাবে এবং কতটুকু ব্যয় হচ্ছে তা নিয়ে কোনো দৃশ্যমান স্বচ্ছতা নেই। আমি মনে করি, ক্যাম্পাসের বড় বড় সমস্যা আবাসন সঙ্কট, খাদ্য সঙ্কট, পরীক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা, শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম এবং দলীয় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থেকে সৃষ্ট সঙ্ঘাতÑ এসবের মূল কারণ একটাই। আর তা হলো জবাবদিহি ও সুশাসনের অভাব।

নয়া দিগন্ত : এসব সমস্যা সমাধানে কী ধরনের পদক্ষেপ নেবেন?

মহুয়ী শারদ : এসব সমস্যা বিবেচনা করেই আমরা আমাদের ইশতেহারে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা যুক্ত করেছি। সেটি হলো প্রতি মাসে কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি উন্মুক্ত সেমিনার আয়োজন করা।

এই সেমিনারে শিক্ষার্থীরা সরাসরি তাদের সমস্যা, অভিযোগ ও প্রস্তাব তুলে ধরবেন। শাকসু এখানে প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করবে। আমরা এই বিষয়গুলো প্রশাসনের সাথে আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করবো এবং জবাবদিহির আওতায় নিয়ে আসব। এই প্রশ্নগুলো তখন শুধু নির্বাচিত কয়েকজন প্রতিনিধির নয়, বরং পুরো সাধারণ শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠবে। ফলে প্রশাসন এসব প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবে না। এ ছাড়া আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকতে পারে, কিন্তু কোনো ধরনের দলীয় রাজনৈতিক কার্যক্রম চলতে দেয়া হবে না। গণরুম বা গেস্টরুম সংস্কৃতি পুনরায় ফিরে আসার যে আশঙ্কা রয়েছে, তা সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করার উদ্যোগ নেয়া হবে। আমরা বিশ্বাস করি, জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং ক্যাম্পাসকে দলীয় রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার মাধ্যমে এসব সমস্যার কার্যকর সমাধান সম্ভব।

নয়া দিগন্ত : শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আপনার বার্তা কী?

মহুয়ী শারদ : সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আমার একটাই কথা, আমি আপনাদের সবাইকে ভোট দিতে দেখতে চাই। আপনি আমাকে ভোট দিন বা না দিন, কিন্তু অবশ্যই ভোট দিতে আসবেন। ভোট দেয়া আমাদের একটি গণতান্ত্রিক অধিকার এবং একই সাথে দায়িত্ব। প্রতিটি প্রার্থীকে যাচাই-বাছাই করে, তাদের এজেন্ডা ও কাজের পরিকল্পনা বিবেচনা করে ভোট দিন। কিছু ভুল ধারণা প্রচলিত আছে যে, সাস্টের শিক্ষার্থীরা রাজনৈতিক বা অধিকার বিষয়ে সচেতন নয়। আমি দৃঢ়ভাবে বলতে চাই এই ধারণা ভুল। আমাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও ভোট প্রদানের মাধ্যমেই আমরা প্রমাণ করব যে, সাস্টের শিক্ষার্থীরা সচেতন, দায়িত্বশীল ও অধিকার সম্পর্কে অবগত।