রোহিঙ্গাদের দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্পে ৪৬ কোটি টাকায় পরামর্শক নিয়োগ

Printed Edition

বিশেষ সংবাদদাতা

চট্টগ্রাম বিভাগে আশ্রয়দানকারী স্থানীয় জনগোষ্ঠী এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের (রোহিঙ্গা) দক্ষতা উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে একটি প্রকল্পে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪৬ কোটি টাকা। এ-সংক্রান্ত একটি ক্রয় প্রস্তাবের অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

গতকাল বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই অনুমোদন দেয়া হয়।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের ভিত্তিতে এবং সমাজসেবা অধিদফতরের বাস্তবায়নে পরিচালিত ‘আশ্রয়দানকারী স্থানীয় জনগোষ্ঠী এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আর্থসামাজিক উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

জানা গেছে, এ প্রকল্পের জন্য সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত ছয়টি প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রস্তাবপত্র আহ্বান করা হলে ছয়টিই কারিগরি প্রস্তাব জমা দেয়। এর মধ্যে তিনটি প্রস্তাব কারিগরি মূল্যায়নে গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয়। পরবর্তী সব প্রক্রিয়া শেষে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশ ও দর-কষাকষির মাধ্যমে সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত ও গ্রহণযোগ্য দরদাতা হিসেবে ঢাকার ‘পদক্ষেপ মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র’-কে ৪৫ কোটি ৬৮ লাখ ৮০ হাজার ৭০২ টাকায় পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিয়োগের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, প্রকল্পটি ২০২৪ সালের ২৮ মে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদিত হয়। এর বাস্তবায়নকাল ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত।

পরামর্শক প্রতিষ্ঠানটি প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণের চাহিদা নিরূপণ, বাজার সম্ভাবনা মূল্যায়ন, প্রশিক্ষণ মডিউল প্রণয়ন এবং জীবিকাভিত্তিক কর্মসূচির উপকারভোগীদের জন্য দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এর মাধ্যমে স্থানীয় আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠী এবং রোহিঙ্গা নাগরিকদের জীবিকা উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে সহায়তা করা হবে।

বেজায় ২১২ কোটি টাকা ব্যয়ে বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক

জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্পের আওতায় বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক স্থাপনের জন্য ২১১ কোটি ৭৮ লাখ ৬৭ হাজার ৩২৫ টাকার ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। একই সাথে কানাডা থেকে এমওপি সার আমদানি এবং টিসিবির জন্য রাইস ব্রান তেল ও মসুর ডাল কেনার প্রস্তাবও অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পটির ব্যয় সরকারি অর্থায়ন ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ সহায়তায় নির্বাহ করা হচ্ছে।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের জোন-২এ এবং জোন-২বি অঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে মোট পাঁচটি দরপত্র জমা পড়ে। যাচাই-বাছাই শেষে তিনটি প্রস্তাব কারিগরি ও আর্থিকভাবে গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয়।

দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান ঢাকার ‘রেভেরি পাওয়ার অ্যান্ড অটোমেশন ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড’-কে ভ্যাট ও করসহ মোট ২১১ কোটি ৭৮ লাখ ৬৭ হাজার ৩২৫ টাকায় কাজটি দেয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।

এ প্রকল্পের আওতায় ৩৩ কিলোভোল্ট সুইচিং স্টেশন, দু’টি ২০/২৮ মেগাভোল্ট অ্যাম্পিয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ রূপান্তরক (ট্রান্সফরমার) এবং প্রায় ৯.২৫ কিলোমিটার ৩৩ কিলোভোল্ট ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন স্থাপন করা হবে।

উল্লেখ্য, ‘জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন (প্রথম সংশোধিত)’ প্রকল্পটি একনেক সভায় ২০২১ সালের ২৯ জানুয়ারি অনুমোদন পায়। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ২০২১ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নির্ধারিত রয়েছে।

টিসিবির জন্য ১ কোটি লিটার রাইস ব্রান তেল ও ১০ হাজার টন ডাল ক্রয়

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) জন্য ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল এবং এক কোটি লিটার পরিশোধিত রাইস ব্রান তেল কেনা হচ্ছে। এতে মোট ব্যয় হবে ২৬১ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। প্রতি কেজি মসুর ডালের দাম ধরা হয়েছে ৮০ টাকা ১৭ পয়সা এবং প্রতি লিটার রাইস ব্রান তেলের দাম ১৮১ টাকা ৫০ পয়সা।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে টিসিবির কার্ডধারী নিম্নআয়ের পরিবারের মধ্যে ভর্তুকি মূল্যে বিতরণের লক্ষ্যে স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে মোট ব্যয় হবে ৮০ কোটি ১৭ লাখ টাকা, যার বিপরীতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাউন্টার গ্যারান্টি রয়েছে।

ডাল কেনার জন্য আহ্বান করা দরপত্রে সাতটি প্রস্তাব জমা পড়ে এবং সবগুলোই কারিগরিভাবে গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয়। সর্বনিম্ন দরদাতা দু’টি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পাঁচ হাজার মেট্রিক টন করে মোট ১০ হাজার মেট্রিক টন ডাল কেনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠান দু’টি হলো- ঢাকার ‘মদিনা ট্রেডিং করপোরেশন’ এবং খুলনার ‘জয়তুন অটো রাইস অ্যান্ড ডাল মিলস লিমিটেড’।

একই বৈঠকে টিসিবির এক কোটি পরিবারকে বিক্রির জন্য এক কোটি লিটার পরিশোধিত রাইস ব্রান তেল কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এ ক্ষেত্রে দরপত্রে জমা পড়া পাঁচটি প্রস্তাবের মধ্যে চারটিকে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে।

ঢাকার ‘গ্রিন অয়েল অ্যান্ড পোলট্রি ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ’ ও গাইবান্ধার ‘প্রধান অয়েল মিলস লিমিটেড’ থেকে ২০ লাখ লিটার করে এবং যশোরের ‘মজুমদার ব্রান অয়েল মিলস লিমিটেড’ ও ঢাকার ‘মজুমদার প্রোডাক্টস লিমিটেড’ থেকে ৩০ লাখ লিটার করে তেল কেনা হবে।

কানাডা থেকে আসছে ১৯২ কোটি টাকার সার

কানাডার রাষ্ট্রীয় কমার্শিয়াল করপোরেশনের কাছ থেকে বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারদরে ৪০ হাজার (প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ অতিরিক্ত) মেট্রিক টন এমওপি সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। এতে ব্যয় হবে ১৯২ কোটি ৯ লাখ ৯১ হাজার ২০০ টাকা, যা কৃষি ভর্তুকি খাতের বাজেট থেকে বহন করা হবে।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) মাধ্যমে কানাডা থেকে রাষ্ট্রীয় চুক্তির আওতায় এ সার আমদানি করা হবে। পূর্ববর্তী চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় ২০২৫ সালের ২৯ এপ্রিল তা নবায়ন করা হয়।

চুক্তি অনুযায়ী প্রতি মেট্রিক টন এমওপি সারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৮৮.৫৫ মার্কিন ডলার। সে হিসেবে ৪০ হাজার মেট্রিক টন সারের মোট মূল্য দাঁড়ায় এক কোটি ৫৫ লাখ ৪২ হাজার মার্কিন ডলার (বাংলাদেশী মুদ্রায় ১৯২ কোটি ৯ লাখ ৯১ হাজার ২০০ টাকা)।