জয়ে ফিরতে মরিয়া স্পেন

Printed Edition

ক্রীড়া ডেস্ক

বিশ্বকাপের শুরুতেই অপ্রত্যাশিত হোঁচট। প্রত্যাশা ছিল আধিপত্য, বাস্তবে এসেছে হতাশা। তাই গ্রুপ ‘এইচ’-এর দ্বিতীয় ম্যাচে স্পেনের সামনে এখন শুধু একটি লক্ষ্য- জয়। আজ রাত ১০টায় গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ সৌদি আরব, যারা প্রথম ম্যাচে আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্স দেখিয়ে নিজেদের সম্ভাবনার জানান দিয়েছে। ফলে কাগজে-কলমে ব্যবধান যতই থাকুক, ম্যাচটি সহজ হবে না, এমন ধারণা এখন অনেকের।

প্রথম ম্যাচে কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র স্পেন শিবিরে কিছুটা অস্বস্তি তৈরি করেছে। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে বিবেচিত দলটি ম্যাচে বলের নিয়ন্ত্রণ রাখলেও আক্রমণের শেষভাগে ছিল অকার্যকর। মাঝমাঠ থেকে আক্রমণ তৈরি হয়েছে; কিন্তু সেই সুযোগগুলোকে গোলে রূপ দেয়ার মতো ধার দেখা যায়নি।

স্পেনের ফুটবলের পরিচিত বৈশিষ্ট্য দীর্ঘ সময় বল নিজেদের দখলে রাখা এবং ধৈর্য ধরে আক্রমণ তৈরি করা। কিন্তু কেপ ভার্দের বিপক্ষে সেই পরিকল্পনা কার্যকর হয়নি। প্রতিপক্ষের সংগঠিত রক্ষণ এবং দ্রুত কাউন্টার সামলাতে গিয়ে স্পেন বারবার আটকে গেছে। ম্যাচের শেষদিকে গতি বাড়লেও গোলের দেখা মেলেনি।

এই জায়গাতেই আলোচনায় উঠে এসেছেন তরুণ সেনসেশন লামিন ইয়ামাল। বদলি হিসেবে মাঠে নেমে তিনি স্পেনের আক্রমণে নতুন গতি যোগ করেন। তার ড্রিবলিং, গতিময়তা এবং সরাসরি আক্রমণাত্মক মানসিকতা পুরো ম্যাচের চিত্র কিছুটা বদলে দেয়। এপ্রিলের শেষ দিকে ক্লাব ফুটবলে চোট পাওয়ার পর এটি ছিল তার প্রত্যাবর্তনের ম্যাচ, আর এখন ধারণা করা হচ্ছে দ্বিতীয় ম্যাচে শুরু থেকেই তাকে দেখা যাবে।

শুধু ইয়ামাল নন, আক্রমণে পরিবর্তনের অংশ হিসেবে সুযোগ পেতে পারেন নিকো উইলিয়ামসও। ফলে আগের ম্যাচে শুরু করা কয়েকজন খেলোয়াড়কে বেঞ্চে যেতে হতে পারে। কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে জানেন, গ্রুপপর্বে আরেকটি পয়েন্ট হারালে পরিস্থিতি জটিল হয়ে যেতে পারে।

স্পেনের সাম্প্রতিক বিশ্বকাপ ইতিহাসও তাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। ২০১০ সালে শিরোপা জয়ের পর থেকে বিশ্বমঞ্চে ধারাবাহিক সাফল্য আসেনি। ২০১৪ সালে গ্রুপপর্ব থেকে বিদায়, এরপর টানা দুই আসরে শেষ ষোলো। এমন ফলাফলে সমর্থকদের প্রত্যাশা ও বাস্তবতার মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। ফলে এবার শুরু থেকেই ছন্দে ফিরতে চায় লা রোহা।

তবে প্রতিপক্ষ সৌদি আরব নিজেদের সুযোগ ছেড়ে দিতে রাজি নয়। প্রথম ম্যাচে উরুগুয়ের বিপক্ষে ১-১ ড্র শুধু একটি পয়েন্ট নয়, আত্মবিশ্বাসও এনে দিয়েছে দলটিকে। তারা দেখিয়েছে, সংগঠিত রক্ষণ আর দ্রুত আক্রমণ দিয়ে বড় দলকেও সমস্যায় ফেলা সম্ভব।

সেই ম্যাচে এগিয়ে গিয়েছিল সৌদিরাই। যদিও শেষ পর্যন্ত জয় ধরে রাখতে পারেনি, তবুও পুরো ম্যাচে তাদের শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল নজর কেড়েছে। দলের রক্ষণভাগ ও মাঝমাঠের সমন্বয় স্পষ্ট ছিল এবং সুযোগ পেলেই দ্রুত আক্রমণে ওঠার পরিকল্পনা সফল হয়েছে।

সৌদি আরবের বড় ভরসা অধিনায়ক সালেম আল-দাওসারি। দীর্ঘ দিন ধরে জাতীয় দলের অন্যতম মুখ তিনি। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে গোল করা, আক্রমণে নেতৃত্ব দেয়া এবং অভিজ্ঞতা সব মিলিয়ে তার ওপর বাড়তি নজর থাকবে। পাশাপাশি গোলদাতা আবদুল্লোহ আল আমরি ও ফরোয়ার্ড ফিরাস আল বুরাইকানের কাছ থেকেও কার্যকর পারফরম্যান্স আশা করা হচ্ছে।

ইতিহাস অবশ্য সৌদি আরবের পক্ষে কথা বলে না। বিশ্বকাপে দুই দলের একমাত্র সাক্ষাতে জয় পেয়েছিল স্পেন। প্রীতিম্যাচেও ইউরোপিয়ানদের বিপক্ষে ইতিবাচক ফল খুব কম। কিন্তু ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে অতীত সবসময় ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে না, সেটি কেপ ভার্দের বিপক্ষে স্পেনের ম্যাচই মনে করিয়ে দিয়েছে।

গ্রুপ এইচ-এর চার দলই বর্তমানে ১ পয়েন্ট নিয়ে সমতায় রয়েছে। তাই এই ম্যাচের ফল শুধু ৩ পয়েন্ট নয়, নকআউটের পথও অনেকটাই নির্ধারণ করতে পারে। স্পেন চাইবে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে, আর সৌদি আরব চাইবে নতুন চমকের গল্প লিখতে।

স্পেনের সম্ভাব্য একাদশ : সিমন, লোরেন্তে, কুবার্সি, লাপোর্ত, কুকুরেয়া; রুইজ, রদ্রি, পেদ্রি, ইয়ামাল, ওনয়ারসাবাল ও নিকো উইলিয়ামস।

সৌদি আরবের সম্ভাব্য একাদশ : আল-ওয়াইস; আবদুলহামিদ, আল তামবাকতি, আল আমরি, আল হারবি; আল শামাত, আল-খাইবারি, কান্নো, সালেম আল-দাওসারি; আল বুরাইকান ও আল-জুয়াইর।