নির্বাচনের আগে বিভিন্ন স্থানে জামায়াত কর্র্মীদের ওপর হামলা, কার্যালয় ভাঙচুর

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গতকাল ও আগের রাতে জামায়াতের কর্মী সমর্থকের ওপর হামলা ও কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া বাড়ি বাড়ি গিয়ে জামায়াত নেতাকর্মী ও নারীদের হুমকি দেয়ারও অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার রাতে ঢাকা-১৫-এর দাঁড়িপাল্লার ১৩টি নির্বাচনী বুথ ভাঙচুর করা হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকেলে কড়াইলে মহিলা পোলিং এজেন্টদের নিয়ে আয়োজিত প্রোগ্রামে বিএনপির কর্মীরা হামলা করে। এতে রেবেকা বেগম নামে জামায়াতের একজন মহিলা কর্মীর মাথা ফেটে যায়। বর্তমানে সে কুর্মিটোলা হসপিটালে ভর্তি। এ ছাড়া শাহানা আক্তার, মীমসহ আরো কয়েকজন মহিলা কর্মী আহত হয়েছেন। বিএনপির কড়াইল ইউনিট সভাপতি খাইরুলের নেতৃত্বে হামলায় আরো উপস্থিত ছিল স্বেচ্ছাসেবক দলের গিয়াসউদ্দিন, মহিলা দলের নেত্রী রোকেয়া-স্বামী যুবদল নেতা শাহজাহান, মহিলা দলের নেত্রী বিউটি, ছাত্রদল নেতা রাজন, যুবদল নেতা রুহুল আমীন, যুবদল নেতা সাইদসহ প্রায় ১০০ জন বিএনপির নেতাকর্মী এ হামলা চালায়।

ঢাকা-১৬ আসনের ১১ দলীয় জোট ও জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল আব্দুল বাতেনের সমর্থকদের ওপর সশস্ত্র হামলার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টায় এ হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা বিএনপির ৩০ থেকে ৪০ জন সদস্য ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, বিএনপির ৩০ থেকে ৪০ জন সরকারি মহাবিদ্যালয়ে প্রবেশ করে নাশকতার চেষ্টা করছিল। এ সময় জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকরা সামনে পড়লে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় তিনজন গুরুতর আহত হয়েছে। তারা হলেন- হাসান শেখ, কামাল হোসেন, আফজাল হোসেন। এ দিকে ঘটনাস্থলে পুলিশের দু’টি টহল গাড়ি উপস্থিত থাকলেও তাদের তৎপরতা দেখা যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াত নেতারা।

হবিগঞ্জ-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী কাজী মহসিন আহমদের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয় ছেড়ে দিতে সিলগালা করার হুমকিসহ বারবার চাপ দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। হবিগঞ্জ সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিমুল আক্তারের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন জামায়াত নেতারা। গতরাতে শহরের অনন্তপুর এলাকায় নির্বাচনী কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য মীর নুরুন্নবী উজ্জ্বল। তিনি বলেন, গত ২২ জানুয়ারি থেকে ভবনটি ভাড়া নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। আজ নির্বাচনের আগের দিন কোন ধরনের নোটিশ ছাড়া মুঠোফোনের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অফিসটি ছেড়ে দেয়ার জন্য বারবার চাপ প্রয়োগ করেন; অন্যথায় সিলগালা করা হবে বলে হুমকি দেন ওই কর্মকর্তা। এ সময় তারা নির্বাচনে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নির্বাচনী প্রধান এজেন্ট অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ হারুন।

ঢাকা-৬ আসনে জামায়াত প্রার্থী ড. আব্দুল মান্নান বুধবার রাতে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশনের বিধান মোতাবেক জাল ভোট চ্যালেঞ্জিংয়ের জন্য প্রতিটি খামে ১০০ টাকার নোট ৫টি করে পুরো আসনের প্রতিটি কেন্দ্রে দেয়া হয়। একইভাবে ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডে দেয়া হয়েছে। খামগুলো রেডি করার সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা মব সৃষ্টি করে আমাদের তিনজন নেতাকে মারধর করে। এ ঘটনায় আমরা পাল্টা মব সৃষ্টি না করে প্রশাসনের শরণাপন্ন হলে পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে এসে ম্যাজিস্ট্রেট কোনো শুনানি না করে আমাদের তিনজন কর্মীকে কারাদণ্ড দেন! যেটি পক্ষপাতিত্বের শামিল। জাল ভোট চ্যালেঞ্জিংয়ের টাকা থাকা অবৈধ নয় কিন্তু তিনি অন্যায়ভাবে আমাদের কর্মীকে দণ্ড দিয়ে সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ নষ্ট করেছেন। আমাদের কর্মীরা কারো কাছে ভোট চাইছে কিংবা টাকা বিতরণ করেছে এমন ঘটনা সেখানে ঘটেনি এবং কেউ সেটা প্রমাণও দেখাতে পারেনি।

এ ছাড়াও জুবিলী স্কুলে আমাদের কর্মীরা পোলিং এজেন্ট কার্ডে স্বাক্ষর করতে যাওয়ার পর বিএনপির লোকেরা সেখানেও মব সৃষ্টি করে। এবং সেখানে তারা আমাদের পোলিং এজেন্টদের মারধর করার পাশাপাশি ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসারকে মারধর করে। পরবর্তীতে সেখানে পুলিশ ও সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত বিএনপি নেতা মুজিবুর রহমান, জাবেদ কামাল রুবেল, কাদের, রানাসহ বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা। কিন্তু পুলিশ বা সেনাবাহিনী এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে আটক করেনি তারা শুধু পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন। অথচ এ ঘটনায় বিএনপি নেতাকর্মী আমাদের পাঁচজন পোলিং এজেন্ট এবং প্রিজাইডিং অফিসারকে মারধর করে আহত করেছে। এই দুই ঘটনায় তিনি আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে জানান।

এ দিকে নির্বাচনী এজেন্ট প্রশিক্ষণ শেষে বাড়ি ফেরার পথে গাজীপুরে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করেছে দুর্বৃত্তরা। এতে জামায়াতের অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে মহানগরীর কোনাবাড়ি বিসিক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ হামলার ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা জড়িত বলে অভিযোগ করেছে স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মীরা।