ফ্লোরিডায় বাংলাদেশী নারীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা, অভিযুক্ত গ্রেফতার

Printed Edition

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের ফোর্ট মায়ার্সে একটি কনভিনিয়েন্স স্টোরে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে এক বাংলাদেশী নারীকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। পরে সন্দেহভাজন হামলাকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নিহত প্রবাসী বাংলাদেশী মহিলার নাম ইয়াসমিন। তিনি ফ্লোরিডার ফোর্ট মায়ার্সের বাসিন্দা।

পুলিশ ও জরুরি সেবা সূত্রে জানা যায়, ডি অ্যান্ড ডি কনভেনিয়েন্স স্টোরে বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা ১৪ মিনিটে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফোর্ট মায়ার্স ফায়ার ডিপার্টমেন্ট ও লি কাউন্টি ইএমএস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুরুতর আহত ইয়াসমিনকে উদ্ধার করে। তবে সকাল ৭টা ২৭ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মানসিক অসুস্থতার ইতিহাস রয়েছে এমন এক ব্যক্তি হাতুড়ি নিয়ে দোকানে ঢুকে নারী কর্মচারীর ওপর হামলা চালায়। হামলার আগে সে দোকানের বাইরে পার্ক করা একটি গাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।

ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, হলুদ গ্রাফিক টিশার্ট, কালো শর্টস, হলুদ বা কমলা রঙের জুতা এবং একটি ব্যাকপ্যাক পরা ওই ব্যক্তি প্রথমে নারীর গাড়িতে হাতুড়ি দিয়ে একাধিকবার আঘাত করে। পরে ইয়াসমিন দোকান থেকে বের হয়ে তাকে বাধা দিতে গেলে হামলাকারী তার দিকে এগিয়ে এসে মাথায় জোরে আঘাত করে, ফলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর হামলাকারী তার মাথায় আরো কয়েকবার আঘাত করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

পুলিশ আরো জানায়, ওই ব্যক্তি কয়েক মাস আগে হাফ স্ট্রিট এলাকায় সংঘটিত একটি হত্যাকাণ্ডের সাথেও জড়িত থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

দুপুর পর্যন্ত সন্দেহভাজন পলাতক থাকায় পুলিশ স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে এবং তাকে দেখলে দ্রুত ৯১১-এ ফোন করার আহ্বান জানায়। পুলিশ জনগণকে সতর্ক করে দেয় সন্দেহভাজনের কাছে না যাওয়ার এবং তার জন্য দরজা না খোলার জন্য।

পুলিশের প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, হামলাকারী হলুদ টিশার্ট, কালো শর্টস, ধূসর ব্যাকপ্যাক এবং হলুদ জুতা পরিহিত ছিল।

অবশেষে বিকেলের দিকে ফোর্ট মায়ার্স পুলিশ বিভাগ জানায়, সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে।

নিহত ইয়াসমিনের দেশের বাড়ির লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার ১৮ নম্বর কুশাখালী ইউনিয়নে। তার মৃত্যুতে ফ্লোরিডাসহ গোটা যুক্তরাষ্ট্রের প্রবাসী বাংলাদেশীদের মাঝে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।