সুবর্ণ গ্রামে একদিন : মিয়া ইব্রাহিম
Printed Edition
নগরজীবনের যান্ত্রিকতা, দাফতরিক দায়িত্বের চাপ আর একটানা ব্যস্ততার ভিড় থেকে বেরিয়ে প্রকৃতির সান্নিধ্যে কিছুটা সময় কাটানোর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের এন্টারপ্রাইজ রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্টে কর্মরত কর্মকর্তারা। ওই ভাবনা থেকেই কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারবর্গের অংশগ্রহণে আয়োজিত হয় একদিনের আনন্দ ভ্রমণ। গন্তব্য ছিল প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ঘেরা সুবর্ণ গ্রাম রিসোর্ট। এ রিসোর্ট ও বিনোদন পার্কটি ঢাকার অদূরে নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার ভুলতা এলাকায় ১০০ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত। দিনটি ছিল ৩ জানুয়ারি ২০২৬। নতুন বছরের শুরুতেই এক অনন্য মিলনমেলার দিন।
তীব্র শীতের সকালের আলো ফোটার সাথে সাথেই যাত্রার প্রস্তুতিতে মুখর হয়ে ওঠে সবাই। পরিচিত সহকর্মীদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী, সন্তান ও পরিবারের অন্য সদস্যদের উপস্থিতিতে পুরো পরিবেশে তৈরি হয় এক আন্তরিক ও উৎসবমুখর আবহ। রিসোর্টে পৌঁছানোর পর চোখে পড়ে সবুজে মোড়া বিস্তীর্ণ প্রাঙ্গণ, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, নান্দনিক স্থাপনা ও গ্রামীণ আবহের এক শান্ত সৌন্দর্য। যেন কংক্রিটের শহর ছেড়ে সবাই প্রবেশ করলেন এক প্রশান্ত গ্রামবাংলার ছবির ভেতর। সুবর্ণ গ্রামের প্রকৃতি মুহূর্তেই ক্লান্ত মনকে করে তোলে সতেজ।
দিনের সূচনা হয় হালকা নাশতা ও আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা এবং পরিবারের সদস্যদের সাথে পরিচয় বিনিময়ের মাধ্যমে। এরপর শুরু হয় বিনোদনের পালা। শিশুদের জন্য ছিল খোলা জায়গায় খেলাধুলা, দোলনা ও আনন্দের ছোট ছোট আয়োজন। বড়রা কেউ কেউ ব্যস্ত হয়ে পড়েন পুরনো স্মৃতিচারণে, কেউ বা সহকর্মীদের সাথে প্রাণখোলা আড্ডায়। প্রকৃতির মধ্যে হাঁটাহাঁটি, পুকুর পাড়ে বসে নিরিবিলি সময় কাটানো কিংবা ছবি তোলার ব্যস্ততায় রিসোর্টজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে আনন্দের ছোঁয়া।
দুপুরের খাবার ছিল এই আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ। দেশীয় স্বাদের সুস্বাদু খাবারে সাজানো মধ্যাহ্নভোজ সবাইকে একত্রিত করে। একই টেবিলে বসে সহকর্মী ও পরিবারের সদস্যদের সাথে খাবার ভাগ করে নেয়ার মুহূর্তগুলো সম্পর্কের বন্ধনকে আরো দৃঢ় করে তোলে। এই মিলন ভোজে ছিল না কোনো দাফতরিক গাম্ভীর্য, ছিল কেবল আন্তরিকতা আর পারিবারিক উষ্ণতা।
খাবারের পর আবার শুরু হয় শিশুদের ও বড়দের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, খেলাধুলা । হাসিতে পুরো পরিবেশ হয়ে ওঠে আরো প্রাণবন্ত। সহকর্মীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত হালকা খেলাধুলা ও রসিকতায় ভরে ওঠে পুরো বিকেল। এরপর বিজয়ীদের মধ্যে আনন্দ পুরস্কার তুলে দেন ডিপার্টমেন্টের পরিচালক এ কে এম রমিজুল ইসলাম।
এই ভ্রমণ শুধু বিনোদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; এটি ছিল পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও মানবিক সম্পর্ক গড়ে তোলার এক সুন্দর উপলক্ষ। দাফতরিক পরিচয়ের বাইরে এসে পরিবারসহ একসাথে সময় কাটানোর সুযোগ সহকর্মীদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ ও পারস্পরিক বোঝাপড়াকে নতুন মাত্রা এনে দেয়।
বিকেলের পড়ন্ত রোদ আর বিদায়ের ক্ষণে সবার মনেই ছিল এক ধরনের নীরব প্রশান্তি। অনেকেই রিসোর্ট এ থেকে যান রাতের রঙিন দৃশ্য উপভোগ করার জন্য। স্বল্প সময়ের এই আয়োজন যেন মনে করিয়ে দিলো কাজের ফাঁকে এমন মিলনমেলা কর্মজীবনের ক্লান্তি দূর করে নতুন উদ্যমে এগিয়ে চলার প্রেরণা জোগায়।
বলা যায়, সুবর্ণ গ্রাম রিসোর্টে কাটানো এই একদিন ছিল আনন্দ, সৌহার্দ্য ও পারিবারিক বন্ধনের এক উজ্জ্বল উদাহরণ। এটি শুধু একটি ভ্রমণ নয়, বরং স্মৃতির অ্যালবামে সংযোজিত একটি সুখময় অধ্যায়, যা ভবিষ্যতেও বারবার মনে পড়বে ভালো লাগা ও তৃপ্তির সাথে। কলিগদের মধ্যে যারা এ আয়োজনের সাথে শ্রম দিয়েছেন তাদের সবাইকে লেখকের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ।
লেখক : অতিরিক্ত পরিচালক
বাংলাদেশ ব্যাংক
প্রধান কার্যালয়, ঢাকা।