কৃষি ও ক্ষুদ্র ঋণে উৎসাহিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ ছাড়

Printed Edition

বিশেষ সংবাদদাতা

দেশের কৃষি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ঋণ বিতরণে উৎসাহিত করতে প্রভিশন সংরক্ষণে বিশেষ ছাড় দিলো বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে এ দুই খাতের ঋণের বিপরীতে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ হারে প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হবে। আগে ব্যাংকগুলোকে স্ট্যান্ডার্ড ঋণের বিপরীতে ১ শতাংশ এবং স্পেশাল মেনশন অ্যাকাউন্ট বা এসএমএ (খেলাপির পূর্ব স্তর) ঋণের বিপরীতে ৫ শতাংশ হারে প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হতো। এ সিদ্ধান্ত আগামী বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এক সার্কুলার জারি করে ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীকে অবহিত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরেই কৃষি ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা ঋণপ্রাপ্তিতে নানামুখী সঙ্কটে রয়েছেন। উচ্চ প্রভিশন ব্যয়ের কারণে অনেক ব্যাংক এই খাতে ঋণ বিতরণে অনাগ্রহী হয়ে উঠছিল। ফলে উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়। নতুন এই ছাড় ব্যাংকগুলোর জন্য ঋণ বিতরণে ঝুঁকি ও ব্যয় কমাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্কুলারে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের এ নির্দেশনা খেলাপি হয়নি বা খেলাপি হওয়ার পূর্ব স্তরে (এসএমএ) রয়েছে এমন ঋণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। তবে নি¤œমান, সন্দেহ বা মন্দ মানের খেলাপি ঋণের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ ছাড় কার্যকর হবে না। এসব ঋণের ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ হারেই পরিশোধ করতে হবে।

এর মাধ্যমে চলতি বছরের ১৩ অক্টোবর জারি করা বিআরপিডি সার্কুলার লেটার ২২ এর নির্দেশনাগুলো বাতিল করা হয়েছে। ফলে নতুন নির্দেশনাই এখন কার্যকর থাকবে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৯(১)(চ) ধারা অনুযায়ী প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে- যা সব তফসিলি ব্যাংকের জন্য বাধ্যতামূলক।

ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে ব্যাংকগুলোর প্রভিশন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। এতে স্বল্পমূলধনী কৃষক, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও ছোট ব্যবসায়ীরা তুলনামূলক সহজ শর্তে ঋণ পাওয়ার সুযোগ পাবেন। বিশেষ করে চলমান অর্থনৈতিক চাপ, উচ্চ সুদের হার ও বাজার অনিশ্চয়তার মধ্যে এই ছাড় ব্যাংকিং খাতে স্বস্তি আনতে পারে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই সুবিধা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সঠিক ঋণ শ্রেণিকরণ ও সিএমএসএমই খাতভিত্তিক ঋণের যথাযথ শনাক্তকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায়, প্রভিশনিং সুবিধার অপব্যবহারের ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে। এজন্য ব্যাংকগুলোর অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি জোরদারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন তারা।

সব মিলিয়ে, কৃষি ও সিএমএসএমই খাতের ঋণপ্রবাহ বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগ সময়োপযোগী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে এটি দেশের উৎপাদনশীল খাতকে শক্তিশালী করতে এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।