ফেসবুকে অশালীনতা বন্ধের আহ্বান

রাজনৈতিক মতপার্থক্য মানেই শত্রুতা নয় : ডা: শফিক

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিন্নমতের প্রতি আক্রমণ ও নারীদের সম্মানহানি না করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান। গতকাল এক ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, প্রিয় দেশবাসী, বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিন্নমতের প্রতি আক্রমণ, নারীদের সম্মানহানি এবং প্রযুক্তি বা এআইয়ের অপব্যবহার করে মানুষকে হেনস্তা করার যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিশেষ করে কেউ যখন ধর্মীয় পরিচয় বহন করে এমন অশালীনতায় লিপ্ত হন, তা আমাদের মূল্যবোধের ওপর বড় আঘাত। তিনি বলেন, মনে রাখবেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য মানেই শত্রুতা নয়। ইসলাম আমাদের শিখিয়েছে ‘মুমিন কখনো কটূক্তিকারী বা অভিশাপকারী হতে পারে না’ (তিরমিজি)। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ দিয়েছেন মানুষের সাথে উত্তম ভাষায় কথা বলতে এবং একে অপরকে উপহাস না করতে।

ভিন্নমতকে যুক্তি ও ভদ্রতার সাথে মোকাবেলা করাই প্রকৃত মুসলিমের বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে জামায়াত আমির লেখেন, গালিগালাজ বা চরিত্রহনন কোনো মুসলমানের বা কোনো সভ্য নাগরিকের হাতিয়ার হতে পারে না। আসুন, অনলাইনেও আমরা আমাদের ঈমান ও মর্যাদা বজায় রাখি। কারণ প্রতিটি শব্দই মহান আল্লাহর কাছে সংরক্ষিত হচ্ছে। ঘৃণা নয় যুক্তি ও শালীনতা দিয়ে সমাজ গড়ি।

অপর এক ফেসবুক পোস্টে জাতীয় দিবসগুলোর প্রতি যথাযথ সম্মান দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ আমাদের প্রিয় জন্মভূমি। জন্মভূমিকে নিয়ে প্রত্যেক নাগরিকই গর্ববোধ করে থাকে। জাতীয় জীবনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সর্বজনস্বীকৃতি পেয়ে থাকে। আমাদের জাতীয় জীবনে জাতীয় দিবসগুলো এমনই একান্ত গুরুত্বের দাবিদার। সবার উচিত এর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা। এর ব্যতিক্রম কোনোভাবেই কাম্য নয়।

বিশ্ব মানবাধিকার দিবসে বিবৃতি : এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান বলেন, আজকের দিনে আমরা জাতি-ধর্ম-বর্ণ-গোষ্ঠী নির্বিশেষে সমগ্র দেশবাসীকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, মানবাধিকার একটি মূল্যবান আমানত, সামাজিক সুবিচারের রক্ষাকবচ। কখনো রাজনৈতিক স্বার্থ বা মতের কারণে অন্যের অধিকার হরণ করা যায় না। সমাজে বিরোধ বা ভিন্নমত থাকতে পারে, তা সত্ত্বেও ভিন্নমতকে অপমান বা হেনস্তা করা এবং নারী ও অসামরিকদের অধিকার লঙ্ঘন করা সম্পূর্ণরূপে অবৈধ ও অনৈতিক। মানবাধিকার কখনো রাজনৈতিক স্বার্থ বা মতের কারণে হরণ করা যায় না। সমাজে বিরোধ থাকলেও কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে অপমান, হেনস্তা, গুম, বিচারহীনতা বা রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শিকার করা সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য। তিনি বলেন, আজ গাজাসহ পুরো ফিলিস্তিন, কাশ্মির, মিয়ানমার এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মানবাধিকার চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে। বর্বর ইসরাইলি বাহিনী মুসলিম জনগোষ্ঠীকে নির্মূল করার লক্ষ্যে গাজায় গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে। নারী-শিশু-বৃদ্ধ, ছাত্র-শিক্ষক, ইমাম-মুয়াজ্জিন, বুদ্ধিজীবী-কেউই তাদের হামলা থেকে রেহাই পাচ্ছেন না। সম্প্রতি জার্মানভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান এমপিআইডিআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর পর্যন্ত গাজায় লক্ষাধিক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

তিনি বলেন, কাশ্মির, মিয়ানমারের রাখাইন, লেবানন, ইউক্রেন, সিরিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আজ মানবাধিকার চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে। বিশ্ব মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে আমরা অবিলম্বে বিশ্বব্যাপী যুদ্ধ বন্ধ করে মানবাধিকার সমুন্নত রাখা এবং ফিলিস্তিন সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের জন্য জাতিসঙ্ঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিশ্বের সব মানবতাবাদী রাষ্ট্র, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি জোর আহ্বান জানাচ্ছি।

মাইলস্টোন স্কুল পরিদর্শন : চলতি বছরের ২১ জুলাই বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান উত্তরার মাইলস্টোন স্কুলের প্রাঙ্গণে বিধ্বস্ত হয়। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় বহু নিরীহ শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ঘটে এবং অনেকে গুরুতর আহত হন। মঙ্গলবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান মাইলস্টোন স্কুল পরিদর্শন করেন এবং নিহত ও আহত পরিবারের সদস্যদের সাথে সময় কাটান।

পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, দুর্ঘটনার দিনই আমি ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকাগুলো পরিদর্শন করেছি এবং নিহতদের পরিবার ও মারাত্মকভাবে আহতদের খবর নিয়েছি। এরপর ব্যক্তিগত অসুস্থতা ও অনিবার্য কিছু কারণে সব পরিবারের বাসায় গিয়ে তাদের খোঁজখবর নিতে না পারায় গভীরভাবে মর্মাহত। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারের প্রতি আমি আন্তরিক সহমর্মিতা ও দুঃখ প্রকাশ করছি। তিনি আরো বলেন, আজ মাইলস্টোন ট্র্যাজেডিতে নিহতদের স্মরণে আয়োজিত স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে উপস্থিত থাকতে পেরে আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। নিহতদের জন্য শাহাদাতের মর্যাদা ও জান্নাতুল ফিরদাউসের সর্বোচ্চ মাকাম এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।

জামায়াত আমির শোকাহত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেন, পরম করুণাময়ের কাছে প্রার্থনা করছি- তিনি যেন তাদের ধৈর্যধারণের শক্তি দেন এবং দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার তাওফিক দান করেন। আমি শোকাহত পরিবারগুলোকে ধৈর্য ধারণ ও স্বাভাবিক জীবনে দ্রুত ফিরে আসার তাওফিক দানের জন্য মহান রবের কাছে দোয়া করছি।