মানবাধিকারকর্মীদের উদ্বেগ
আন্তর্জাতিক নিয়ম লঙ্ঘন সত্ত্বেও রোহিঙ্গা পুশইন করছে ভারত
Printed Edition
আন্তর্জাতিক মানিবাধিকার লঙ্ঘন সত্ত্বেও ভারতে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের অভ্যন্তরে জোরপূর্বক ঠেলে দিচ্ছে (পুশইন) ভারত। ওই দেশের ইউএনএইচসিআর কার্ডধারী অন্তত ২০০ রোহিঙ্গা বর্তমানে কক্সবাজার ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আত্মীয়-স্বজনদের আশ্রয়ে রয়েছেন।
মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর উদ্বেগ এবং আন্তর্জাতিক নিয়ম লঙ্ঘন সত্ত্বেও ভারতীয়রা দেশের সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে অব্যাহতভাবে পুশইন করছে। বিভিন্ন সংস্থার তথ্যমতে চলতি বছরের ৭ মে থেকে ২০০ জনেরও বেশি রোহিঙ্গাসহ প্রায় দুই হাজার ব্যক্তিকে বাংলাদেশে জোর করে প্রবেশ করতে বাধ্য করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকারকর্মীরা চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) অফিসের তথ্য অনুসারে, পুশইন করা অনেক রোহিঙ্গা এখন কক্সবাজারের ট্রানজিট ক্যাম্পে আশ্রয় নিচ্ছেন অথবা আত্মীয়দের সাথে অবস্থান করছেন।
আরআরআরসি কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, সম্প্রতি একটি বড় সমস্যা দেখা দিয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক রোহিঙ্গাদের পুশইন। তিনি বলেন, ২৮ অক্টোবর ভারত থেকে সিলেট দিয়ে ১৮ জন রোহিঙ্গাকে পুশইন করা হয়।
এই রোহিঙ্গাদের ভারতে ইউএনএইচসিআর কার্ডও দিয়েছিল। এখন তারা এখানে এসে সিলেট সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে এবং তাদের দায়িত্ব আমাদের নিতে বাধ্য করা হচ্ছে।
মন্তব্যের জন্য জিজ্ঞাসা করা হলে, ইউএনএইচসিআর বাংলাদেশের মুখপাত্র শারি নিজমান বলেন, তারা জানেন যে ভারত থেকে বাংলাদেশে সরিয়ে নেয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রোহিঙ্গা শরণার্থীও রয়েছেন।
জীবনের ভয়ে অন্য দেশে নিরাপত্তা চাইতে সক্ষম হওয়া একটি মানবাধিকার।
ইউএনএইচসিআর ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যে, তারা মানবাধিকারের প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি বজায় রাখুক এবং আন্তর্জাতিক সুরক্ষা চাইতে থাকা কোনো ব্যক্তিকে এমন পরিস্থিতিতে ফিরিয়ে না পাঠাতে যেখানে তাদের জীবন বা স্বাধীনতার জন্য হুমকির সম্মুখীন হতে পারে।
সূত্র মতে, ভারত ইউএনএইচসিআর এ নিবন্ধিত ২০০ জনেরও বেশি রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে পাঠিয়েছে। তাদের মধ্যে ১০০ জনেরও বেশিকে ভারতে ফিরিয়ে দিয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন সরকারি কর্মকর্তা বলেন, আমি শুনেছি যে তাদের মধ্যে কয়েকজনকে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে।
ওই কর্মকর্তা আরো জানান, আমি জানি না কেন ভারতীয় ইউএনএইচসিআর কার্ডধারী রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পে থাকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে না। কিছু ক্ষেত্রে, আমরা ১০০ জনকে আমাদের রোহিঙ্গা শরণার্থীশিবিরে নিয়ে যেতে দেখেছি এবং পরে তাদের ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে।
বিজিবি সদস্যরা প্রায় বলেন, তারা কাউকে ঢুকতে দেয়নি এবং এটি সত্য হতে পারে। একই সাথে, এটাও সত্য যে কেউ কেউ ঢুকেছে। সুতরাং উভয় দাবিই বৈধ : কাউকে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে, আবার কাউকে পেছনে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি খুবই জটিল এবং বিভ্রান্তিকর বলে ওই কর্মকর্তা জানান।
৭ মে শুরু হয়েছিল পুশইন এবং এটি সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বড় বলে মনে করা হচ্ছে। মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে, যা দ্বিপাক্ষীয় প্রোটোকল এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে যা যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রত্যাবাসন বাধ্যতামূলক। ভারতে অবস্থানকালে অনেক প্রত্যাবর্তনকারী নির্যাতন এবং দুর্ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন।
বিজিবি সূত্র জানায়, ৭ মে থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত এক হাজার ৮৮০ জনকে পুশইন করেছে ভারত। এর মধ্যে রোহিঙ্গা রয়েছে ২০০ জন। সেনাবাহিনীর হাতে আটক হয়েছে সাতজন। কোস্টগার্ড ৭৮ জনকে এবং পুলিশ আটক করেছে ২৯ জনকে। মোট এক হাজার ৯৯৪ জনকে পুশইন করেছে ভারত। গত এক সপ্তাহে ভারত থেকে পুশইন কী পরিমাণ করা হয়েছে তা জানাতে পারেনি কোনো সংস্থা।