উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খানের আশা

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা এবার অনেকাংশেই হ্রাস পাবে

চট্টগ্রাম ব্যুরো
Printed Edition
back-2
চট্টগ্রামে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান : নয়া দিগন্ত

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান বলেছেন, চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসন করতে হলে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। ইতোমধ্যে খননকৃত খালগুলো আবারো আবর্জনায় ভরে যাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিভাগীয় কমিশনার এলাকায় এলাকায় জনগণের সাথে মতবিনিময় করবেন এবং ২০ হাজার বিন বিতরণ করা হবে। জনগণ বিনগুলোতে ময়লা ফেলবেন। কিন্তু জনসচেতনতার পরও যদি মানুষ যেখানে সেখানে ময়লা ফেলেন, তবে সামনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। শাস্তি হবে, জেল হবে। এবার জলাবদ্ধতার সমস্যা অনেকাংশেই হ্রাস পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের সেন্ট্রাল রেলওয়ে ভবনের (সিআরবি) সম্মেলন কক্ষে চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা সম্পর্কে মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের ব্রিফকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা: শাহাদাত হোসেন, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: ফাহিমুল ইসলাম, রেলওয়ের মহাপরিচালক মো: আফজাল হোসেন, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন, সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো: নুরুল করিম, পূর্বাঞ্চল রেলের জি এম মো: সবুক্তগীনসহ সরকারের পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার উদ্যোগ নেয়ার কথা জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, সেটা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। এর আগে সাময়িক ব্যবস্থা হিসেবে সরকারের সব বিভাগগুলোর সাথে সমন্বয় করে দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থানগুলোকে প্রশস্ত করার উদ্যোগ নেয়া হবে। উপদেষ্টা বলেন, চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে ওয়াসার পানির সংযোগ থাকবে না, তাহলেতো ওয়াসাই থাকা উচিত নয়। রাস্তা বানানো, পানি সরবরাহ রেলের কাজ নয়। রেল কর্মকর্তাদের রেলের সেবার মান বাড়াতে দক্ষতা বাড়ানোয় মনোযোগী হতে হবে। রেল সেবা দিয়ে গিয়ে এক টাকা আয় করতে এখন আড়াই টাকা খরচ করতে হয়। তা এ বছরের মধ্যে দুই টাকার নিচে নামিয়ে আনতে হবে। তিনি বলেন, রেল চট্টগ্রাম শহরের একটা অংশ, বাংলাদেশের অংশ। রেল বাইরের কিছু নয়। আমরা আলাদা এই মানসিকতা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। রেলের সেবার মান বাড়াতে চায়না থেকে ১০০ কোচ এবং প্রয়োজনীয় লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) সংগ্রহ করা হবে বলে তিনি জানান। রেলওয়ে ওয়ার্কশপের মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে উপদেষ্টা বলেন, এখন থেকে এই ওয়ার্কশপগুলোকে রিপেয়ার, ম্যানটেনেন্স অ্যান্ড অ্যাসেম্বলিং ওয়ার্কশপে রূপান্তরিত করা হবে। রেলওয়ে হাসপাতালগুলোকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ ও যন্ত্রপাতি সংযোজন করে রেল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে।

এর আগে উপদেষ্টা চট্টগ্রামের রেলওয়ে হাসপাতাল এবং পাহাড়তলীর রেলওয়ে ক্যারেজ অ্যান্ড ওয়াগন মেরামত কারখানা, ডিজেল ওয়ার্কশপ কারখানা, রেলওয়ে সরকারি উচ্চবিদ্যালয়, ইউরোপিয়ান কাব ও রেলওয়ে জাদুঘর পরিদর্শন করেন।

হাসপাতাল পরিচালনা ও সেবার মান বাড়াতে চারটি নির্দেশনা দিয়ে ফাওজুল কবির খান বলেন, হাসপাতাল পরিচালনার জন্য একটি পরিচালনা পর্ষদ গঠন করতে হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে চিকিৎসক এই হাসপাতালে সংযুক্তি দিতে হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় ওষুধ, যন্ত্রপাতি ও খাবার সরবরাহ করবে। এই ব্যাপারে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাথে রেলপথ মন্ত্রণালয় সমঝোতা স্মারক চুক্তি করবে।

উপদেষ্টা সাংবাদিকদের বলেন, রেলওয়ের ক্যারেজ ও ওয়াগন মেরামত কারখানাকে অ্যাসেম্বলিং ওয়ার্কশপে উন্নীত করার প্রক্রিয়া চলছে। তখন বাইরে থেকে ইঞ্জিন ও কোচের যন্ত্রপাতি এনে এখানে সংযোজন করা যাবে। এতে সময় ও অর্থ- দুটিই সাশ্রয় হবে। বর্তমানে এসব ইঞ্জিন ও কোচ আনতে হলে দেশের বাইরের প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যাদেশ দিতে হয়। এরপর তারা তৈরি করে এখানে পাঠায়। এতে প্রচুর সময় লাগে।