ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার ছোট ফেনী নদীর চর মজলিশপুর ইউনিয়নের মিয়াজী ঘাট এলাকায় প্রশাসনের নির্দেশ উপেক্ষা করে আবারো অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। বালু উত্তোলনে বাধা দিতে গিয়ে প্রাণনাশের হুমকি পাওয়ার অভিযোগও করেছেন স্থানীয় এক নারী নেত্রী।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় স্থানীয় এলাকাবাসী বালু উত্তোলন বন্ধ এবং নদীভাঙন থেকে ঘরবাড়ি রক্ষার দাবিতে সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিগান চাকমার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।

এর আগে, বুধবার বিকেলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নারী নেত্রী মালার নেতৃত্বে এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে গিয়ে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ জানান এবং তা বন্ধের দাবি তোলেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ছোট ফেনী নদীর ভাঙনকবলিত মিয়াজী ঘাট এলাকায় নতুন করে তিনটি বাল্ক বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের বন্যায় ছোট ফেনী নদীর ওপর নির্মিত মুসাপুর রেগুলেটর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর চর মজলিশপুর, বগাদানা ও চর দরবেশ ইউনিয়নের শত শত বাড়িঘর, ফসলি জমি এবং বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হতে থাকে। পরে পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙনরোধে বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু করে। এ অবস্থায় গত এক সপ্তাহ ধরে স্থানীয় কয়েকটি গ্রুপ মিয়াজী ঘাট এলাকায় তিনটি বাল্কের মাধ্যমে নদী থেকে বালু উত্তোলন এবং ভাঙনকবলিত স্থানে বালু ফেলার কাজ করছে বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় নারী নেত্রী মালা জানান, তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনটি বাল্ক দিয়ে বালু উত্তোলনের দৃশ্য দেখে উপজেলা প্রশাসনকে ছবি পাঠিয়ে ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে চর মজলিশপুর ইউনিয়নের ইউপি সচিব মফিজুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

তিনি অভিযোগ করেন, বালু উত্তোলনকারী হারুন প্রথমে তাকে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন। এতে সাড়া না দিলে মোবাইল ফোনে প্রাণনাশের হুমকি দেন।

মালার দাবি, নদীর অব্যাহত ভাঙনে এলাকাবাসীর ঘরবাড়ি বিলীন হচ্ছে। এর মধ্যে বালু উত্তোলনের কারণে ভাঙনের ঝুঁকি আরো বেড়ে গেছে।

তার অভিযোগ, স্থানীয় কয়েকজনের নেতৃত্বে এ বালু উত্তোলন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, ছোট ফেনী নদীর ভাঙন ঠেকাতে সরকার পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এমন পরিস্থিতিতে ভাঙনকবলিত এলাকায় বালু উত্তোলন চলতে থাকলে নদীভাঙন আরো তীব্র হতে পারে বলে তাদের আশঙ্কা।

সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিগান চাকমা বলেন, ‘বালির চাহিদা থাকায় বালু ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ছে। ভাঙনকবলিত এলাকায় জনগণের অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখে, যদি জনস্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়, সে ক্ষেত্রে পর্যবেক্ষণের আলোকে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’