আল-আকসায় হাজারো ফিলিস্তিনির নামাজ আদায়

Printed Edition
Inter-2
ফিলিস্তিনের পূর্ব জেরুসালেমে অবস্থিত আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ‘ডোম অব দ্য রক’-এর সামনে নামাজ আদায় করছেন মুসল্লিরা : ইন্টারনেট

আলজাজিরা

ইসরাইলের আরোপিত দীর্ঘ ৪০ দিনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার পর অধিকৃত পূর্ব জেরুসালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণ ফিলিস্তিনি মুসল্লিদের জন্য আবার খুলে দেয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে প্রায় তিন হাজার মুসল্লি আল-আকসায় প্রবেশ করে ফজরের নামাজ আদায় করেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-ইসরাইল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে খ্রিষ্টান, ইহুদি ও মুসলিমদের পবিত্র স্থানগুলোতে প্রবেশাধিকার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ বা কঠোরভাবে সীমিত করা হয়েছিল। অধিকৃত জেরুসালেমের ইসলামী ওয়াকফ বিভাগ নিশ্চিত করেছে যে, বৃহস্পতিবার ভোর থেকে সব মুসল্লির জন্য আল-আকসার দরজা খুলে দেয়া হয়েছে। জর্দান সমর্থিত এই ধর্মীয় কর্তৃপ আল-আকসা পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে। এর আগে বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, স্বেচ্ছাসেবক ও খাদেমরা মুসল্লিদের স্বাগত জানাতে মসজিদের আঙিনা এবং নামাজের স্থানগুলো পরিষ্কার করছেন। বুধবার সন্ধ্যায় ইসরাইলি কর্তৃপ আল-আকসা মসজিদ এবং চার্চ অব দ্য হোলি সেপালকার খুলে দেয়ার ঘোষণা দেয়। ইসরাইলি পুলিশ জানিয়েছে, হোম ফ্রন্ট কমান্ডের নির্দেশনার ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে ওল্ড সিটির অলিগলি এবং পবিত্র স্থানে যাওয়ার রাস্তাগুলোতে কয়েক শ’ পুলিশ ও সীমান্তরী মোতায়েন করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার রাখা হয়েছে।

আঞ্চলিক যুদ্ধের গত ছয় সপ্তাহে জেরুসালেমের পবিত্র স্থানগুলোতে কঠোর নিরাপত্তা ও ঘনঘন অবরোধ জারি ছিল। এর ফলে লেন্ট, পাসওভার ও রমজানের ধর্মীয় উৎসবগুলো পালন করা অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। এমনকি এ বছর ঈদুল ফিতরের নামাজও আল-আকসায় আদায় করতে বাধা দেয়া হয়েছিল, যা ১৯৬৭ সালের পর প্রথম এমন ঘটনা। তবে অর্থোডক্স খ্রিষ্টানদের ইস্টার উৎসবের ঠিক আগেই এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হলো।

পশ্চিমতীরে অভিযান অব্যাহত

পবিত্র স্থানে বিধিনিষেধ শিথিল হলেও অধিকৃত পশ্চিমতীরে ইসরাইলি বাহিনীর অভিযান থামেনি। ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোরে নাবলুসে ইসরাইলি বাহিনী এক নারীকে বন্দী করেছে এবং এক ব্যক্তিকে মারধর করেছে।

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বুধবার রাতে উত্তর পশ্চিমতীরের তায়াসির গ্রামের কাছে ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে ২৮ বছর বয়সী আলা খালেদ মোহাম্মদ সাবিহ নামে এক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর দাবি, পাথর ছুড়ে মারার অভিযোগে এক অফ-ডিউটি সৈনিক তার ওপর গুলি চালায়। এ ছাড়া তায়াসির গ্রাম থেকে আরও ছয় তরুণকে বন্দী করা হয়েছে। জেনিনের ইয়াবাদ এলাকায় ভোরে বেশ কয়েকটি বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে তিনটি বাড়ির আসবাবপত্র ভাঙচুর করেছে ইসরাইলি সেনারা। কুসরা ও আওয়ারতা গ্রামেও অভিযান চালানো হয়েছে।

গাজা ও পশ্চিমতীরের পাশাপাশি ইরান ও লেবাননেও ইসরাইলি যুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে। জাতিসঙ্ঘের মানবিকবিষয়ক সমন্বয়কারী সংস্থা ওচা (ওসিএইচএ) জানিয়েছে, ২০২৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত পশ্চিমতীরে ইসরাইলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় এক হাজার ১০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং অন্তত ১০ হাজার মানুষ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।