ইউক্রেনের বন্দরে রাশিয়ার হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত তুর্কি মালিকানাধীন জাহাজ

বার্লিনে জেলেনস্কি ও ইউরোপীয় নেতাদের সাথে মার্কিন প্রতিনিধির বৈঠক

Printed Edition

আলজাজিরা

ইউক্রেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ওডেসা অঞ্চলের দু’টি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর- চর্নোমর্স্ক ও ওডেসা- রাশিয়ার সামরিক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত শুক্রবারের এ হামলায় অন্তত তিনটি তুরস্কের মালিকানাধীন বাণিজ্যিক জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার মধ্যে একটি খাদ্যপণ্য বহন করছিল। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলাগুলো ছিল নির্বিচারে এবং এর কোনো সামরিক উদ্দেশ্য ছিল না।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও প্রকাশ করে দেখিয়েছেন, কিভাবে চর্নোমর্স্ক বন্দরে একটি বেসামরিক জাহাজে আগুন ধরে যায় এবং দমকলকর্মীরা তা নেভানোর চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, ‘এই হামলার কোনো সামরিক উদ্দেশ্য নেই। রাশিয়া সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে লক্ষ্য করছে।’

ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজগুলোর মধ্যে একটি হলো পানামা পতাকাবাহী, তুরস্কের মালিকানাধীন ‘সেঙ্ক টি’। জাহাজটির মালিক প্রতিষ্ঠান নিশ্চিত করেছে, স্থানীয় সময় বিকেল ৪টার দিকে হামলা হয়। ইউক্রেনীয় নৌবাহিনী জানিয়েছে, মোট তিনটি তুরস্কের মালিকানাধীন জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

এই হামলার পেছনে রাশিয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। সম্প্রতি মস্কো হুমকি দিয়েছিল যে তারা ইউক্রেনকে ‘সমুদ্র থেকে বিচ্ছিন্ন’ করে দেবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউক্রেনের ড্রোন হামলার প্রতিশোধ নিতে রাশিয়া বন্দর ও জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। তবে খাদ্যবাহী জাহাজে হামলা আন্তর্জাতিক খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খলকে হুমকির মুখে ফেলছে।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান সম্প্রতি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনকে সীমিত যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিলেন, বিশেষ করে জ্বালানি স্থাপনা ও বন্দরগুলোতে। কিন্তু এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই হামলা ঘটে, যা আঙ্কারা ও মস্কোর সম্পর্ককে নতুন করে চাপের মুখে ফেলতে পারে।

আন্তর্জাতিক মহল এ হামলার তীব্র নিন্দা করেছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, বেসামরিক জাহাজে হামলা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে এবং এটি যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, এ ধরনের হামলা কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে বাণিজ্য ও খাদ্য নিরাপত্তাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

রাশিয়ার এই পদক্ষেপ আবারো প্রমাণ করছে, ইউক্রেন যুদ্ধ শুধু সামরিক সংঘাত নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তার ওপরও গভীর প্রভাব ফেলছে। তুরস্কের মালিকানাধীন জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ঘটনাটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

জেলেনস্কির সাথে মার্কিন প্রতিনিধির বৈঠক

এদিকে ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান নিয়ে আলোচনায় যোগ দিতে সপ্তাহান্তে জার্মানি যাচ্ছে বিশেষ মার্কিন প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ। সেখানে তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও ইউরোপীয় নেতাদের সাথে বৈঠক করবেন। হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার নেতৃত্ব দিচ্ছেন উইটকফ। বার্লিনে তিনি প্রস্তাবিত শান্তিচুক্তির সর্বশেষ সংস্করণ নিয়ে আলোচনা করবেন।

আসন্ন বড় দিনের আগেই একটি চুক্তি কার্যকর দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। সে লক্ষ্যেই বিগত সপ্তাহগুলোতে ইউক্রেন ও রাশিয়ার প্রতিনিধিদের সাথে কয়েক দফা আলোচনা হয়েছে। তবে এখনো উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতির স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। বার্লিনের আলোচনায় অংশগ্রহণকারী ইউরোপীয় নেতাদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। তবে বৈঠকের বিষয়ে প্রথম প্রতিবেদন প্রকাশকারী দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের দাবি, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মারজ এতে অংশ নেবেন।