ইউএস আর্মি প্যাসিফিকের ডেপুটি কমান্ডারের সাক্ষাৎ
দেশমাতৃকার কল্যাণে সেনাবাহিনী সবসময় পাশে থাকবে : সেনাপ্রধান
Printed Edition
সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সাথে ইউএস আর্মি প্যাসিফিক কমান্ডের ডেপুটি কমান্ডার লে. জে. জোয়েল বি. ভওয়েলের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সেনা সদরে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। গতকাল মঙ্গলবার এই সাক্ষাৎকালে তারা পারস্পরিক কুশলাদি বিনিময় ছাড়াও বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যকার সক্ষমতা বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন।
এ সময় ইউএস আর্মি প্যাসিফিক কমান্ডের ডেপুটি কমান্ডার জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অনন্য ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। এ ছাড়াও তিনি বর্তমানে ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার এ মোতায়েনরত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যদের পেশাদারিত্ব ও বিভিন্ন কার্যক্রমেরও প্রশংসা করেন। এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন উপস্থিত ছিলেন।
দেশমাতৃকার কল্যাণে সেনাবাহিনী সবসময় পাশে থাকবে : সেনাপ্রধান
সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, ‘সমরে আমরা, শান্তিতে আমরা, সর্বত্র আমরা দেশের তরে’ এই মূলমন্ত্র বুকে ধারণ করে অতীতের মতো ভবিষ্যতেও দেশমাতৃকার কল্যাণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সবসময় পাশে থাকবে।
মঙ্গলবার ঢাকা সেনানিবাসস্থ আর্মি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত যোদ্ধা ও শহীদ যোদ্ধাদের পরিবারের সম্মানে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের তিনি এ কথা বলেন। এই আয়োজনে ৭২ জন আহত যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান আমন্ত্রিত অতিথিদের উদ্দেশে দেয়া বক্তব্যে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে বাংলাদেশের ইতিহাসে যুগান্তকারী ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে অংশগ্রহণকারী যোদ্ধাদের জাতির গর্ব হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, এই আন্দোলনে তরুণ সমাজ শুধু অংশই নেয়নি, বরং কিভাবে সত্য ও সঠিক পথে ন্যায়সঙ্গত দাবি আদায় করা যায় সেই অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। তিনি আরো উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জুলাই যোদ্ধাদের স্বপ্ন পূরণে সবসময় পাশে থেকেছে।
সেনাপ্রধান বিশেষভাবে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, দেশপ্রেম, জাতীয়তাবোধ, সততা, মানবিকতাবোধ ও নিয়মানুবর্তিতার সমন্বয়ে সবাই একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করলে এই দেশ সমৃদ্ধির শিখরে আরোহণ করে একটি সুখী ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।
সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সেই স্বপ্ন পূরণে সবাইকে একযোগে কাজ করার অনুরোধ জানান। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত ও নিহত যোদ্ধাদের প্রতিটি পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা দেয়া হয়।