চুয়াডাঙ্গায় ৪৭ হাজার হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ

বাজারজাতে ব্যস্ত কৃষক

Printed Edition
bangla-6
চুয়াডাঙ্গায় ভুট্টা সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণে ব্যস্ত কৃষক : নয়া দিগন্ত

এফ এ আলমগীর চুয়াডাঙ্গা

চুয়াডাঙ্গা জেলায় চলতি মৌসুমে ভুট্টার বাম্পার ফলন হয়েছে। স্বল্প খরচে অধিক লাভজনক হওয়ায় প্রতি বছরের মতো এবারো ব্যাপক হারে ভুট্টা আবাদ হয়েছে। বর্তমানে মাঠে মাঠে ভুট্টা সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলায় ভুট্টা আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪৭ হাজার ৭৫৫ হেক্টর জমিতে। এর বিপরীতে আবাদ হয়েছে ৪৭ হাজার ৩৫২ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় ১৪ হাজার ৯১২ হেক্টর, আলমডাঙ্গায় ১৩ হাজার ৮৮৭ হেক্টর, দামুড়হুদায় ১২ হাজার ৬৫০ হেক্টর এবং জীবননগরে পাঁচ হাজার ৯০৩ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে। উৎপাদনের দিক থেকে জেলা দেশের শীর্ষ দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রেখেছে।

এ বছর সাকসেস-৫৫, হিমালয়, সিনজেনটা-৭৭২০ ও উত্তরনের রকেট-৫৫ জাতের ভুট্টার আবাদ বেশি হয়েছে। এসব বীজের অধিকাংশই বিদেশ থেকে আমদানিকৃত। কৃষকদের অভিযোগ, আমদানিনির্ভর বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে।

উথলী ইউনিয়নের সেনেরহুদা গ্রামের কৃষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘ভুট্টা চাষে অন্যান্য ফসলের তুলনায় লাভ বেশি। তবে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে অনেক সময় বাজারদর কমে যায়, এতে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’ তিনি ভুট্টার ন্যায্যমূল্য নির্ধারণে সরকারি উদ্যোগের দাবি জানান।

আন্দুলবাড়ীয়া গ্রামের কৃষক মোল্লা রকিব জানান, প্রতি বিঘায় ভুট্টা চাষে প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। বর্তমানে কাঁচা ভুট্টা প্রতি মণ ৮৬০ থেকে ৮৮০ টাকা এবং শুকনা ভুট্টা এক হাজার ১৮০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি বিঘায় গড়ে ৪৫ থেকে ৬০ মণ ভুট্টা উৎপাদন হচ্ছে। কৃষকদের তথ্যমতে, জমি প্রস্তুত, বীজ, সার, সেচ, শ্রমিক ও মাড়াইসহ প্রতি বিঘায় মোট খরচ দাঁড়ায় প্রায় ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা। উৎপাদন গড়ে ৫০ মণ হওয়ায় বাজারদর অনুযায়ী লাভের সম্ভাবনা থাকলেও বীজের উচ্চমূল্য ও বাজার অস্থিরতায় লাভ কমে যাচ্ছে।

গত দুই দশকে ভুট্টা চাষের বিস্তারে চুয়াডাঙ্গার গ্রামীণ অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। ভুট্টা এখন ধান ও আখের পাশাপাশি জেলার অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

চুয়াডাঙ্গা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মাসুদুর রহমান জানান, কৃষকদের আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি ও সার ব্যবহারে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, সরকারি বীজের প্রাপ্যতা কম এবং ফলন তুলনামূলক কম হওয়ায় কৃষকরা আমদানিকৃত হাইব্রিড বীজের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন। এতে বীজের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশে মানসম্মত ভুট্টার বীজ উৎপাদনে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ বাড়ানো গেলে উৎপাদন খরচ কমবে এবং কৃষকরা আরো লাভবান হবেন।