বরিশালের উজিরপুরে বছরের পর বছর ধরে একটি স্থায়ী সেতুর অপেক্ষা। আবেদন গেছে, দাবি উঠেছে, প্রতিশ্রুতিও মিলেছে—কিন্তু খালের ওপর ওঠেনি একটি পাকা সেতু।
শেষ পর্যন্ত নিজেদের টাকায় প্রায় ২০০ ফুট দীর্ঘ বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেছেন পৌরসভার ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের স্থানীয় বাসিন্দারা।
সেই অস্থায়ী সাঁকোই আবার লাল ফিতা কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছেন পৌর বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম খান।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে এ ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা।
অনেকের প্রশ্ন—একটি বাঁশের সাঁকো উদ্বোধনের প্রয়োজন কেন, যখন এলাকার মানুষ এখনো একটি স্থায়ী সেতুর অপেক্ষায়?
স্থানীয় সূত্র জানায়, পৌরসভার ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত খালটি দীর্ঘদিন ধরে দুই এলাকার মানুষের যাতায়াতে বড় বাধা হয়ে আছে। শিক্ষার্থী, কৃষক, দিনমজুর, নারী ও বয়স্ক মানুষকে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে খাল পার হতে হয়। বর্ষা এলেই দুর্ভোগ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। স্থানীয়দের ভাষ্য, বহুবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে স্থায়ী সেতুর দাবি জানানো হলেও বাস্তবে কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।
অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটাতে নয়, বরং চলাচলের ন্যূনতম ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে এলাকাবাসী নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় ২০০ ফুট দীর্ঘ একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেন। স্থানীয়দের উপস্থিতিতে লাল ফিতা কেটে সাঁকোটির উদ্বোধন করা হয়। পরে এটি সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা রুবেল বলেন, ‘কষ্টের শেষ নেই। বাধ্য হয়েই আমরা নিজেরা টাকা তুলে সাঁকো করেছি। কিন্তু এটি স্থায়ী সমাধান নয়। আমাদের একটি পাকা সেতু দরকার।’
আরেক বাসিন্দা সামিন হাওলাদার বলেন, ‘অনেকবার দাবি জানিয়েও কোনো ফল হয়নি। তাই নিজেরাই উদ্যোগ নিতে হয়েছে।’
পৌর বিএনপির সভাপতি মো: শহীদুল ইসলাম খান বলেন, ‘এলাকাবাসীর উদ্যোগকে সম্মান জানাতেই উদ্বোধনে উপস্থিত হয়েছি। এই সাঁকো সাময়িকভাবে মানুষের দুর্ভোগ কিছুটা কমাবে। তবে স্থায়ী সমাধান একটাই—খালের ওপর দ্রুত একটি পাকা সেতু নির্মাণে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে।’
এদিকে বাঁশের সাঁকো উদ্বোধনের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ এটিকে জনউদ্যোগের প্রতি সম্মান হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকের মতে—একটি বাঁশের সাঁকো উদ্বোধনের ঘটনাই প্রমাণ করে, মৌলিক অবকাঠামো নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র কতটা পিছিয়ে আছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, উদ্বোধনের আনুষ্ঠানিকতা নয়—কবে মিলবে বহু প্রতীক্ষিত স্থায়ী সেতু?