চুয়াডাঙ্গায় তুলা চাষে নীরব বিপ্লব
Printed Edition
মনিরুজ্জামান সুমন দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা)
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত উন্মোচন করছে ‘সাদা সোনা’খ্যাত সাদা তুলা। ক্রমবর্ধমান চাহিদা, অনুকূল আবহাওয়া ও লাভজনক বাজারদরের কারণে চুয়াডাঙ্গায় তুলা চাষে নীরব বিপ্লব ঘটছে। চলতি মৌসুমে জেলার দামুড়হুদা, জীবননগর, চুয়াডাঙ্গা সদর, আলমডাঙ্গাসহ চারটি উপজেলায় প্রায় ৪ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে তুলা আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
জেলা তুলা উন্নয়ন দফতরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর জেলায় প্রায় ১২ হাজার মেট্রিক টন তুলা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, রোগবালাইয়ের প্রাদুর্ভাব কম থাকা এবং মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের নিবিড় তদারকির ফলে ইতোমধ্যেই বাম্পার ফলনের আভাস মিলছে। উৎপাদিত তুলার সম্ভাব্য বাজারমূল্য ১০৫ কোটি টাকারও বেশি ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতি বছর নভেম্বরের শুরুতেই তুলা চাষ শুরু হয়। কৃষকদের হিসেবে, প্রতি বিঘায় ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচে গড়ে ১৪ থেকে ১৬ মণ ফলন পাওয়া যায়। বর্তমান বাজারদরে বিঘাপ্রতি ৫৩ থেকে ৬১ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হওয়ায় তুলা এখন অন্যতম লাভজনক অর্থকরী ফসলে পরিণত হয়েছে।
দামুড়হুদা উপজেলার একাধিক কৃষক জানান, এবার তুলা গাছে ফুল ও ফলের পরিমাণ বেশি। আবহাওয়াও ভালো ছিল, তাই ফলন গত বছরের চেয়েও বেশি হওয়ার আশা করছি। মাঠজুড়ে তুলা গাছের সুস্থ বৃদ্ধি, ফুলের আধিক্য এবং রোগবালাই কম থাকায় উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা। এতে শুধু কৃষকের আয়ই বাড়বে না, স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
জেলা তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা দেবাশীষ বলেন, চুয়াডাঙ্গায় মোট আবাদযোগ্য জমি রয়েছে প্রায় ৯৪ হাজার ২২০ হেক্টর। এর মধ্যে ৪ হাজার ৬০০ হেক্টরে তুলা আবাদ হয়েছে। উৎপাদন ও বাজারদরের ভিত্তিতে এ বছর ১০৫ কোটি টাকার বেশি মূল্য পাওয়া যাবে বলে আশাবাদী। দেশে বস্ত্রশিল্পের কাঁচামাল হিসেবে তুলার চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদন বাড়লে আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে এবং দেশের টেক্সটাইল খাত আরো শক্তিশালী হবে। এ ছাড়া তুলা ভিত্তিক শিল্প সম্প্রসারণ হলে চুয়াডাঙ্গাকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী কৃষিশিল্প অর্থনীতি গড়ে উঠতে পারে।