পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আফগানদের তুমুল বিােভ

Printed Edition
Inter-2
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে চলমান সীমান্ত সংঘর্ষের মধ্যে পাকতিয়া প্রদেশের গারদেজে তালেবান সদস্যদের প্রতি সংহতি জানাতে সমবেত হয়েছেন আফগান পুরুষরা : ইন্টারনেট

এএফপি

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিােভ করেছেন আফগানরা। তারা বেসামরিক মানুষ হত্যার প্রতিবাদ জানান ও সীমান্তে লড়াইরত নিজেদের সেনাদের প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন। বিােভকারীরা সেনাদের গলায় রঙিন ফুলের মালা পরিয়ে দেন। জাতিসঙ্ঘের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে এক সপ্তাহ ধরে চলা সীমান্ত সংঘর্ষে কয়েক ডজন আফগান বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন আরো কয়েক হাজার মানুষ।

পূর্বাঞ্চলীয় পাকতিয়া প্রদেশের রাজধানী গারদেজে বাসিন্দারা জড়ো হন। তাদের কেউ কেউ তালেবান সরকারের সাদা পতাকা নাড়ান। একজন বিােভকারী গামাই বলেন, আজ আমরা পাকতিয়ার কেন্দ্র গারদেজে জড়ো হয়েছি। আফগান বেসামরিক নাগরিকদের ওপর পাকিস্তানের নির্মম হামলার প্রতিবাদ জানাতে। তিনি বলেন, আমরা আমাদের ভূমি রার জন্য এখানে এসেছি। আফগানিস্তানে জাতিসঙ্ঘ মিশন জানিয়েছে, ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে শিশুসহ অন্তত ৪২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত ও ১০৪ জন আহত হয়েছেন। ইসলামাবাদ বেসামরিক হতাহতের বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি। তারা জানিয়েছে, তাদের সেনারা ৪৩০ জনের বেশি আফগান সেনাকে হত্যা করেছে। অন্য দিকে আফগানিস্তান জানিয়েছে, পাকিস্তানের প্রায় ১৫০ সেনা নিহত হয়েছেন। তবে দুই পরে হতাহতের দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন।

পাকিস্তানের আগের বিমান হামলার প্রতিশোধ হিসেবে আফগান সীমান্তে অভিযান চালানোর পর সংঘর্ষ শুরু হয়। ইসলামাবাদ বলেছে, ওই হামলায় তারা জঙ্গিদের ল্যবস্তু করেছিল। খোস্ত প্রদেশের গুরবুজ জেলাতেও একটি বিােভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এলাকাটি সংঘর্ষে তিগ্রস্ত হয়েছে। বিােভকারী ওবায়দুল্লাহ গুরবাজ বলেন, আজকের এই প্রতিবাদ শুধু দেখানোর জন্য নয়। কুনারে নিহত ১৭ জন শহীদের জন্য আমরা রাস্তায় নেমেছি। তাদের মধ্যে নারী, শিশু ও বয়স্ক মানুষও রয়েছেন। ৭০ বছর বয়সী এই ব্যক্তি বলেন, আপনারা দেখতে পাচ্ছেন, গত সাত-আট দিন ধরে আমাদের পেছনে সেনারা দাঁড়িয়ে আছেন। তারা ক্ষুধার্ত ও তৃষ্ণার্ত, তবু দৃঢ়ভাবে দেশ রা করছেন। আফগানিস্তানের প্রতিরা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের ২৫ জনের বেশি সেনা নিহত হয়েছেন। সীমান্তে সংঘর্ষের কারণে প্রায় ৬৬ হাজার আফগান বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)। সংস্থাটি জানায়, নানগারহার প্রদেশে তাদের অন্তত একটি কেন্দ্র উল্লেখযোগ্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াজনিত তির শিকার হয়েছে। সংঘর্ষের কারণে পাকিস্তান থেকে ফিরে আসা আফগানদের জন্য মানবিক সহায়তা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। একই সাথে জরুরি খাদ্য সহায়তাও স্থগিত হয়েছে। পাকিস্তান-আফগানিস্তান যুদ্ধে নাক গলাবে না যুক্তরাষ্ট্র, জানালেন ট্রাম্প পাকিস্তান-আফগানিস্তান যুদ্ধে নাক গলাবে না যুক্তরাষ্ট্র, জানালেন ট্রাম্প

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি জানিয়েছে, এতে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার মানুষ তিগ্রস্ত হয়েছেন। দেশটি আগে থেকেই তীব্র খাদ্য সঙ্কটে ভুগছিল। নানগারহারের এক বাসিন্দা বলেন, আগে জাতিসঙ্ঘের সংস্থা তাদের অনেক সহায়তা করত। এখন তিনি নিজের খাওয়ার রুটির পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন। শুধু এক নাম ব্যবহার করে ফারহাদ বলেন, ‘কখনো পেট ভরে, কখনো আধা পেট নিয়ে আমরা দিন কাটাই।’ তিনি বলেন, গত রাতে আমি প্রতিবেশী ও আত্মীয়দের কাছে ১ হাজার আফগানি (১৬ ডলার) ধার চাইতে গিয়েছিলাম। কিন্তু কেউ আমাকে দেয়নি।