নরসিংদী ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে পরিণত

আবারো ৪.১ মাত্রার কম্পন

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকার অদূরের জেলা নরসিংদী ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে পরিণত হতে যাচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে নরসিংদীতে আরো একটি মৃদু ভূমিকম্প সংঘটিত হওয়ায় বিশেষজ্ঞরা নরসিংদীকে ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল বলে মনে করছেন। গতকাল সকাল ৬টা ১৪ মিনিট ৪৫ সেকেন্ডের সময় ভূমিকম্পটি হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৪.১। উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকা থেকে ৩৮ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে নরসিংদীর শিবপুরে। এই ভূমিকম্পটি মাটির ৩০ কিলোমিটার গভীরে সংঘটিত হয়েছে।

গত ২১ নভেম্বর থেকে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত সাত দিনে দেশে ছয়বার সংঘটিত ভূমিকম্পের চারটিরই উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদী জেলার পলাশ ও শিবপুর উপজেলার চারটি স্থান। এই চারটি স্থানই খুব কাছাকাছি অবস্থানে। অপরদিকে একটির উৎপত্তিস্থল ছিল রাজধানী ঢাকার বাড্ডায়। এই স্থানটিও নরসিংদী থেকে খুবই কাছে।

নরসিংদীর বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এত ঘন ঘন ভূমিকম্পে তারা সত্যি আতঙ্কিত। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সচেতনতা সৃষ্টি না হলে ভূমিকম্প নিয়ে আতঙ্ক বাড়তেই থাকবে, সেটা হয়তো মনো-সামাজিক সমস্যা হয়ে দেখা দিতে পারে। নরসিংদী একটি শিল্প এলাকা। এখানে ছোট-মাঝারি ও বড় এমন শত শত শিল্প-কারখানা রয়েছে। কারখানায় অল্প জায়গায় শত শত শ্রমিক কাজ করেন। হয়তো ভূমিকম্পের জন্য কোনো সমস্যা হবে না, কিন্তু আতঙ্কে হুড়াহুড়িতে দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। এ ব্যাপারটিতে নজর দিতে ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

ঘন ঘন ভূমিকম্প হওয়ায় মানুষ আতঙ্কে ঘুমাতে পারছেন না। নরসিংদীর পলাশ উপজেলার দক্ষিণ দেওড়া গ্রামের আতিকুল সরকারি চাকরি থেকে রিটায়ারমেন্টের পর বাড়িতে এসে দোতলা ভবন তৈরি করেছেন। তিনি দীর্ঘদিন থেকেই অসুস্থ। ছেলেমেয়েরা কাছে না থাকায় স্বামী-স্ত্রী এই দু’জনই থাকেন বাড়িতে। গত ২১ নভেম্বরের ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে তার দোতলা ভবনটি বেশ ঝাঁকুনি খেয়েছে। ফলে তিনি এখন আর দোতলার বেডরুমে ঘুমান না। নিচতলার ড্রইয়িং রুমে ঘুমিয়ে কাটাচ্ছেন।

নরসিংদী জেলার ঘোড়াশালের নেহাব গ্রামের হযরত আলী (৬৭) ২১ নভেম্বরের ভূমিকম্প বেশ ভালোভাবেই টের পেয়েছিলেন। ভূমিকম্প হওয়ার সাথে তিনি তার মাটির ঘর থেকে বের হতে পারলেও ঘরটি যেভাবে ঝাঁকুনি খেয়েছে সেই ঘটনা তিনি ভুলতে পারছেন না। ফলে সেদিন থেকে তিনি ঘরে স্বাচ্ছন্দ্যে ঘুমাতে পারছেন না। রাতে কিছুক্ষণ পরপরই ঘুম ভেঙে যায়। হার্টের রোগী হজরত আলীর ঠিক মতো ঘুমাতে না পারায় ইতোমধ্যে ঢাকায় এসে ডাক্তার দেখিয়ে নতুন করে ওষুধ নিতে হয়েছে।

গতকালের ভূমিকম্পটিসহ পাঁচটি ভূমিকম্প হলো নরসিংদীতে। এত ঘন ঘন ভূমিকম্প হওয়ায় বিশেষজ্ঞরা নরসিংদীকে ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করতে চাচ্ছেন। ঢাকা থেকে নরসিংদী পর্যন্ত অথবা পারলে আরো বেশি এলাকায় প্রয়োজনীয় মেশিন বসিয়ে মাটির গভীরে কী হচ্ছে তা পর্যবেক্ষণে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি উঠেছে। এমনকি ঢাকা এবং নরসিংদী এলাকা অথবা রাজধানী ঢাকার আশপাশ এলাকায় কোনো ফল্টলাইন রয়েছে কি না চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ারও দাবি উঠেছে।