বিজয় দিবসের আলোচনা সভা

ঐক্যের ভিত্তিতে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের ঘোষণা ডা: শফিকের

Printed Edition
first-4
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন ডা: শফিকুর রহমান : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতি বৃহত্তর ঐক্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে মন্তব্য করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, কোনো বিভক্তি নয়; ঐক্যের ভিত্তিতেই নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা হবে। তিনি বলেন, কিছু বন্ধুপ্রতিম রাজনৈতিক সংগঠন ঘোষণা দিয়েছে, নির্বাচিত হলে তারা সবাইকে নিয়ে সরকার গঠন করবে, তবে কোনো কোনো দলকে নেবে না। তবে আমরা তাদেরকে সুসংবাদ দিতে চাই- জামায়াতে ইসলামী নির্বাচিত হলে আপনাদেরসহ সব ফ্যাসিবাদবিরোধী দলকে সাথে নিয়েই সরকার গঠন করবে।

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে গতকাল সোমবার জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো: নূরুল ইসলাম বুলবুল। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মহানগরী দক্ষিণের অফিস সেক্রেটারি কামরুল আহসান হাসান।

ডা: শফিকুর রহমান ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সব বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেয়া জুলাইযোদ্ধাদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধারা আমাদেরকে ভিনদেশী শাসন থেকে মুক্ত করেছেন, আর জুলাইবিপ্লবের যোদ্ধারা জাতিকে ফ্যাসিবাদের কবল থেকে রক্ষা করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, চব্বিশের অভ্যুত্থান না হলে আজ নির্বাচন বা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার- কোনোটিরই সুযোগ সৃষ্টি হতো না।

তিনি বলেন, যারা ১৯৪৭ সাল থেকে আজ পর্যন্ত দেশের স্বার্থে জীবন ও রক্ত দিয়েছে, আমরা তাদের সবাইকে সমান শ্রদ্ধায় স্মরণ করি। বীরদের যথাযথ সম্মান না দিলে ভবিষ্যতে আর কোনো বীর জন্মাবে না বলেও মন্তব্য করেন জামায়াত আমির।

ডা: শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, জুলাইবিপ্লবের আগে জাতি টানা ১৫ বছর ফ্যাসিবাদের জুলুমের শিকার হয়েছে এবং এ সময়ে জামায়াত তার বহু সহযোদ্ধাকে হারিয়েছে। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের শহীদদের প্রকৃত সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়েও বেশি। বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে জুলাইয়ের অন্যতম যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলিবর্ষণের ঘটনায় তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এ ঘটনাকে ‘বিচ্ছিন্ন’ বলে উল্লেখ করায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্যে জাতি ব্যথিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। সিইসিকে জাতির সামনে তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অন্যথায় জাতি পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে।

নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, সরকারে গিয়ে কেউ দুর্নীতিতে জড়াবে না, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় বাধা দেবে না এবং সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন করবে- এই প্রতিশ্রুতি জাতির সামনে দিতে হবে। তিনি বলেন, আগামীর বাংলাদেশ হবে আত্মমর্যাদাশীল, স্বনির্ভর ও তারুণ্যনির্ভর বাংলাদেশ। তরুণদের দমন করে কোনো পরিবর্তন রোধ করা যাবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

ডা: শফিকুর রহমান আরো বলেন, জামায়াতে ইসলামীর আপসের কোনো ইতিহাস নেই। অতীতে যেমন অন্যায়ের সাথে আপস করা হয়নি, ভবিষ্যতেও করা হবে না। নেতারা ফাঁসি বরণ করেছেন, তবুও কোনো অপশক্তির কাছে মাথানত করেননি- এই ঐতিহ্য বজায় থাকবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। জামায়াতে ইসলামী ন্যায়সঙ্গত সব কাজে সাংবাদিক সমাজকে সহযোগিতা করবে, এমনকি তা দলের বিরুদ্ধেও হলে। তবে সংবাদ পরিবেশনে সত্যকে সত্য ও মিথ্যাকে মিথ্যা হিসেবে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মা’ছুম বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের কারণেই বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে স্বাধীনতার চেতনা আজও বাস্তবায়িত হয়নি। ক্ষমতাসীনরা রাষ্ট্রকে নিজেদের সম্পত্তি মনে করে শাসন করেছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, স্বাধীনতার মূল চেতনা গত ৫৪ বছরেও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বৈষম্য এখনো বিদ্যমান এবং রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা কেউই সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে সফল হয়নি। অন্য দিকে সভাপতির বক্তব্যে মো: নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীনতা এলেও প্রকৃত স্বাধীনতা জনগণ পায়নি। তিনি বলেন, চব্বিশের ৫ আগস্ট হারানো সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধার হয়েছে। আগামী দিনে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিমুক্ত একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়তে জুলাই জাতীয় সনদের পক্ষে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।