শি-স্টারমার বৈঠকে চীন-ব্রিটেন সহযোগিতা জোরদারের অঙ্গীকার
Printed Edition
রয়টার্স
দীর্ঘ দিনের টানাপড়েনের পর চীন-ব্রিটেন সম্পর্ক নতুন পথে এগোনোর ইঙ্গিত দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। গতকাল বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ে শীর্ষ বৈঠকে দুই নেতা অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে একসাথে কাজ করার অঙ্গীকার করেন, যা দুই দেশের সম্পর্কে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বৈঠকের শুরুতে স্টারমার বলেছেন, চীন বৈশ্বিক রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। আমাদের এমন একটি পরিণত ও বাস্তবভিত্তিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে, যেখানে সহযোগিতার সুযোগ থাকবে, আবার মতপার্থক্য নিয়েও খোলামেলা আলোচনা সম্ভব হবে। জবাবে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেছেন, চীন-ব্রিটেন সম্পর্ক নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেছে, যা কোনো দেশেরই স্বার্থে ছিল না। তিনি দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে চীনের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। তিনি আরো বলেছেন, দুই দেশ এমন একটি সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে, যা ইতিহাসে টিকে থাকবে। আবার সাংবাদিকদের সাথে আলাপে স্টারমার বলেছেন, চীনের সাথে আলোচনায় ব্রিটিশ হুইস্কির ওপর শুল্ক কমানোর বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে।
অন্য দিকে প্রেসিডেন্ট শি জানিয়েছেন, ব্রিটিশ নাগরিকদের জন্য ভিসা শিথিল করার বিষয়টিও বিবেচনায় নেয়া হচ্ছে। সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে স্টারমার জানিয়েছেন, তিনি হংকংয়ের সাবেক গণমাধ্যম উদ্যোক্তা ও ব্রিটিশ নাগরিক জিমি লাইয়ের মামলার বিষয়টি প্রেসিডেন্ট শির সাথে সম্মানজনক ও খোলামেলা আলোচনা করেছেন।
উল্লেখ্য, জিমি লাই গত ডিসেম্বরে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে দোষী সাব্যস্ত হন। এ ছাড়াও দুই দেশ অবৈধ অভিবাসী পাচার চক্র দমনে যৌথভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইউরোপে ছোট নৌকায় মানবপাচারে ব্যবহৃত চীনের তৈরি ইঞ্জিনের অপব্যবহার ঠেকাতে ব্রিটেন ও চীন গোয়েন্দা তথ্যবিনিময় করবে, সরবরাহ পথ শনাক্ত করবে এবং চীনা উৎপাদকদের সাথে সমন্বয়ে বৈধ ব্যবসাকে অপরাধ চক্রের হাত থেকে সুরতি রাখবে বলে জানিয়েছে ব্রিটেন।
উল্লেখ্য, ছয় বছর পর প্রথম ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চীনে চার দিনের সফরে আছেন কিয়ার স্টারমার। ২০১৮ সালের পর এটিই কোনো ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বেইজিং সফর। এ সফরে তার সাথে ব্যবসা ও সাংস্কৃতিক খাতের অন্তত ৬০ জন শীর্ষ প্রতিনিধি রয়েছেন। যাদের মধ্যে এইচএসবিসি, জিএসকে, জাগুয়ার ল্যান্ড রোভার ও ন্যাশনাল থিয়েটারের প্রতিনিধিরা আছেন।