মোহামেডানকে স্বরূপে ফেরানোর উদ্যোগ

Printed Edition
khela-2
মোহামেডানের অনুষ্ঠানে এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উপহার দিচ্ছেন মোহামেডান কর্মকর্তারা : নাসিম সিকদার

ক্রীড়া প্রতিবেদক

দেশের অন্যতম সেরা ক্লাব। দর্শকপ্রিয়তায় দেশের সেরা দুইয়ে অবস্থান। অথচ এই ক্লাবটি এখন ধুকছে। গত বছর বাংলাদেশ ফুটবল লিগে শিরোপা জিতলেও এখন তারা রেলিগেশন শঙ্কায়। ২০০৯ সালের পর ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি। হকিতেও তাদের দখলে নেই ট্রফি। তবে আগামীতে স্বরূপে ফিরতে চায় মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেড। ক্লাবের কর্মকর্তাদের মধ্যে এখন বেশ কয়েকজন বর্তমান সরকারের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য। ফলে আবার ক্লাবটি ঘুরে দাঁড়াতে চায়। জিততে চায় সব শিরোপা। সেই সাথে মতিঝিলের ক্লাবের জায়গায় বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করা। এর আগে গত মাসেই ক্লাবের নির্বাচন হয়েছে। তাই গতকাল ক্লাবের নির্বাচিত কমিটির সাথে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ইসলাম আলমগীরের পরিচয়পর্ব অনুষ্ঠানে ক্লাব কর্মকর্তারা সেই দাবিই তুলে ধরেন।

মোহামেডান ক্লাবের সাথে কিছু কর্মকর্তার দূরত্ব চলছিল। এবারের নির্বাচনকে ঘিরে সেই দূরত্ব ঘোচানোর চেষ্টা হয়েছে। গতকাল ক্লাব প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে উল্লেখ করা হয় কর্মকর্তাদের মধ্যে ঐক্য ফিরে আসার কথা। সেই ঐক্য যে হয়েছে তা বুঝা গেছে অনুষ্ঠানে দুই পক্ষের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতেই।

বেলা ১১টায় অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা শুরু হতে হতে সাড়ে ১২টা পেরিয়ে যায়। অনুষ্ঠানের শুরুতে ক্লাবের ডিরেক্টর ইনচার্জ লোকমান হোসেন ভূঁইয়া লিখিত বক্তব্যে সব ক্লাবের সরকারের সহায়তা দাবি করেন। সেই সাথে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ দেন ক্রীড়াবিদদের মাসিক এক লাখ টাকা করে ভাতা দেয়ার জন্য। লোকমানের আশা, সরকার এভাবে ক্লাবগুলোরও পাশে দাঁড়াবে।

মতিঝিলে মোহামেডান ক্লাবের নিজস্ব জায়গা আছে। এই স্থানে অনেক আগেই ৫০ তলা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছিল ক্লাব কর্তৃপক্ষ। তবে এখনো তা আলোর মুখ দেখেনি। তাই গতকালের এই অনুষ্ঠানে লোকমান হোসেন ভূঁইয়া লিখিত বক্তব্যে এই স্থানে বহুতল ভবন নির্মাণে সরকারের সহায়তা দাবি করেন। তার মতে, এই ভবনটি হলে ক্লাবের আয়ের বিশাল একটা উৎস হবে, যা ক্লাবকে সব খেলায় ভালো দল গড়া এবং শিরোপা জয়ের মতো অবস্থানে নিয়ে যাবে।

মোহামেডানের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মাঠে ক্লাবটির চির প্রতিদ্বন্দ্বী ঢাকা আবাহনীর পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু। বর্তমান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক মোহামেডান ক্লাবের সাথে সম্পৃক্ত। এই ক্লাবের সাবেক খেলোয়াড়। এই মোহামেডানের হয়েই ফুটবলে হাতেখড়ি। তা ১৯৯৪ সালে। গতকালের অনুষ্ঠানে অঞ্জন চৌধুরী পিন্টুর উপস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে আমিনুল বলেন, আমরা দল-মতের ঊর্ধ্বে থেকে রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে রাখতে চাই ক্রীড়াঙ্গনকে। আমরা পর্যায়ক্রমে আবাহনী ক্লাবেও যাব। তিনি আশা করেন মোহমেডান ও আবাহনীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা মাঠে থাকবে। তবে দুই দলের কর্মকর্তাদের মধ্যে যেন আগের মতোই সুসম্পর্ক থাকে। আমিনুল উল্লেখ করেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, খেলাধুলায় কোনো রাজনীতি থাকবে না। তিনি মোহামেডান ক্লাবের উদাহরণ টেনে বলেন, এই ক্লাব দীর্ঘ সময় ধরেই রাজনৈতিক বৈষম্যের শিকার। আগামীতে এর অবসান চান তিনি।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আজ এটা প্রমাণিত হয়েছে, যারা খেলাধুলার সাথে জড়িত তারা জনপ্রিয় মানুষ। কারণ দেখুন, এই যে যারা এখানে নির্বাচিত হয়ে এসেছেন মন্ত্রী, এমপি এরা সবাই কিন্তু মোহামেডানের সাথে সম্পৃক্ত। তিনি জানান, আমার কাছে মনে হয় যখন আমি এই এলাকায় আসি, মনে হয় নিজের বাড়িতেই এসেছি। তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খেলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে খেলাকে গ্রামেগঞ্জে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য কাজ শুরু করেছেন। মির্জা ফখরুল জানান, আমি সুযোগ পেলে মাঠে ক্রিকেট খেলা দেখতে যাই। সুযোগ পেলে আবাহনী-মোহামেডান ফুটবল ম্যাচ দেখতে মাঠে যাব। কারণ ক্রীড়া হলো আমাদের পেশন। তিনি উল্লেখ করেন, মোহামেডানের সমর্থক হিসেবে আমি এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পেরে খুশি। এরপর মজা করেই বলেন, আবার সেই মাঠে মোহামেডান-আবাহনীর লড়াই এবং বাইরে দর্শকদের মারামারি দেখতে চাই।