বিগত নির্বাচনগুলোতে কথা বলতে পারতাম না, শুধু কেঁদেছি : মির্জা ফখরুল
Printed Edition
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপি প্রার্থী ও দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘২০০১ সালের নির্বাচনে আপনারা মা-বোনেরা ডিম, মুরগি ও সবজি বিক্রি করে জমানো টাকা দিয়ে মালা বানিয়ে আমাকে দিয়েছিলেন। সেই ভালোবাসার ঋণ আমি ভুলিনি। আপনাদের জন্য কাজ করার চেষ্টা করেছি। বিগত নির্বাচনগুলোতে আমি কথা বলতে পারতাম না, শুধু কেঁদেছি। এবার একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই সুযোগ আমাদের কাজে লাগাতে হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার গড়েয়া ইউনিয়নের গড়েয়া বাজারে আয়োজিত নির্বাচনী পথসভায় দেয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, ইউনূস সরকার আমাদের কৃষকদের জন্য সারের বিষয়ে কিছুই করতে পারেনি। দেশের কৃষকরা সময়মতো সার পাচ্ছে না। অন্তর্বর্তী সরকারর প্রধান সারটাকে ম্যানেজ করতে পারেননি। আমরা ক্ষমতায় গেলে কৃষক ন্যায্যমূল্যে সময়মতো সার পাবে। শুধু তাই নয়, তখন কৃষক খোলা বাজারেও সার পাবে।
তারেক রহমান সম্পর্কে তিনি বলেন, বর্তমানে বিএনপির দায়িত্বে রয়েছে তারেক রহমান। তিনি দেশের উন্নয়নের জন্য অনেক কিছুই ভেবে রেখেছেন। তিনি পরিবারের প্রধানদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেবেন। যার মাধ্যমে তারা নায্যমূল্যে দ্রব্যসামগ্রী ক্রয় করতে পারবে। কৃষকদের জন্য সুলভ মূল্যে রাসায়নিক সারের ব্যাবস্থা করা হবে। চিকিৎসা সেবা, যাতায়াত সেবা,স্বাস্থ্য সেবার উন্নয়ন ঘটানো হবে।
নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমি রাজনীতি করেছি বাপ-দাদার জমি বিক্রি করে। ঢাকায় যে গাড়ি ব্যবহার করি, সেটি ২০ বছর আগের, ২০০৬ সালে কিনেছিলাম। নির্বাচনী প্রচারণায় আজ যে গাড়িতে এসেছি সেটিও আমার নয়, একজন সমর্থকের।’
ভোট চেয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, সামনে নির্বাচন এবার আর ভুল করা যাবে না। আল্লাহ চাইলে বিএনপি অবশ্যই সরকার গঠন করবে। তাই আমাকেও ভোট দিয়ে সুযোগ দেবেন সরকারে থাকার। সুযোগ দিলে আমি আপনাদের পাশে থেকে আপনাদের চাওয়া-পাওয়া পূরণ করতে চাই। আপনারা জানেন আমার বেশ বয়স হয়েছে। এটাই আমার শেষ নির্বাচন। তাই আপনাদের মূল্যবান ভোট আমাকে দিবেন, আমর জন্য দোয়া করবেন।
নির্বাচনী পথসভায় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ এলাকার সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।