বেনাপোল বন্দরে মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানি রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

Printed Edition

আব্দুল মান্নান শার্শা (যশোর)

দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলে মিথ্যা ঘোষণা, শুল্ক ফাঁকি ও দুর্নীতির অভিযোগ দিন দিন জোরালো হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের যোগসাজশে নিয়মিত ঘোষণা-বহির্ভূত পণ্য খালাস হচ্ছে। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে, আর বৈধ ব্যবসায়ীরা পড়ছেন অসম প্রতিযোগিতার মুখে।

নিয়ম অনুযায়ী, ভারত থেকে আসা পণ্যবাহী ট্রাক বন্দরে প্রবেশের পর নির্ধারিত শেডে কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপরে তত্ত্বাবধানে কঠোর যাচাই-বাছাই হওয়ার কথা। তবে অভিযোগ রয়েছে, বাস্তবে এ প্রক্রিয়া অনেকাংশেই অকার্যকর। নির্দিষ্ট কিছু শেডে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা নিম্ন শুল্কের পণ্যের আড়ালে উচ্চ শুল্কের পণ্য ছাড়পত্র দিচ্ছেন। মোটা অঙ্কের উৎকোচের বিনিময়ে এসব চালান দুই থেকে থেকে ঘণ্টার মধ্যেই খালাস হচ্ছে, যা স্বাভাবিক সময়সীমার সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

আমদানিকারক ও রফতানিকারকদের অভিযোগ, বন্দরের কিছু কর্মকর্তা ও শেড ইনচার্জের সহযোগিতায় ঘোষণার সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ পণ্য বন্দরে প্রবেশ করছে। অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনিক পদেেপ দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। উদাহরণ হিসেবে, সহকারী শেড ইনচার্জ ইউসুফ হোসেনকে ২০২৫ সালে জামালপুরের কামালপুর স্থলবন্দরে বদলির আদেশ দেওয়া হলেও তিনি এখনো বেনাপোলে কর্মরত। একইভাবে বন্দর পরিচালক শামীম হোসেনের েেত্রও বদলির আদেশ কার্যকর হয়নি।

সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় অনিয়মের বিষয়টি আরো স্পষ্ট হয়েছে। গত ১৪ মার্চ ‘বেকিং পাউডার’ হিসেবে ঘোষিত একটি চালানে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ছয় কোটি টাকা মূল্যের ভারতীয় শাড়ি, থ্রি-পিস, প্রসাধনী ও ওষুধ উদ্ধার করা হয়। এর আগে ৯ মার্চ ‘ঘাসের বীজ’ হিসেবে ঘোষিত একটি চালান থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকার নিষিদ্ধ পাটবীজ জব্দ করা হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়; বরং একটি সুসংগঠিত দুর্নীতির চিত্র।

তবে ব্যবসায়ী সংগঠনের কয়েকজন নেতা দাবি করেন, আমদানিকৃত পণ্যের সঠিক ঘোষণা দেয়ার দায় ব্যবসায়ীদেরই। তাদের মতে, শেড ইনচার্জদের ওপর দায় চাপানো পুরোপুরি যৌক্তিক নয়।

তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে- মাঝেমধ্যে কিছু চালান আটক হলেও কেন জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। এতে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে দায়মুক্তির সংস্কৃতি তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।