সাক্ষাৎকার : মোহাম্মদ খোরশেদ আলম

চীনাদের মন বুঝে দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নই বড় চ্যালেঞ্জ

রাশিদুল ইসলাম
Printed Edition

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের পর দু’টি দেশের মধ্যে সমঝোতা স্বাক্ষর ও চুক্তি বাস্তবায়নে দ্রুত সিদ্ধান্ত কার্যকর করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন চায়না চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ খোরশেদ আলম। শতাধিকবার চীন সফরকারী এই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে না পারায় আমরা অতীতে চীনে শুল্কমুক্ত সুবিধা কাজে লাগাতে পারিনি। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, সিদ্ধান্ত কার্যকরের ক্ষেত্রে অহেতুক অনীহা এমনকি প্রশাসনের মধ্যে ঘাপটি মেরে বসে থাকা একটি চক্রের কারণে চীনের সাথে অতীতে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তরসহ বিভিন্ন সহযোগিতা শুধু কথায় সীমাবদ্ধ থেকেছে। উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, একজন চীনা উদ্যোক্তা বাংলাদেশে একটি পলিটেকনিক স্কুল স্থাপন করে চীন প্রযুক্তি প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নিয়ে এলেও তাকে না করে দেয়া হয়েছে। আনোয়ারাতে চীনের জন্য অর্থনৈতিক অঞ্চল দেয়া হবে কি হবে না সে সিদ্ধান্ত নিতে আমরা ছয় বছর লাগিয়েছি। এভাবে চলতে থাকলে অতীতের মতোই চীনের সাথে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক গতি পাবে না। তবে কোনো প্রকল্প নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ১৮ মাসের মধ্যে বেঁধে দেয়া সময়সীমাকে তিনি আশার আলো হিসেবে দেখছেন। বলেছেন, নির্দিষ্ট সময় সীমার মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে চীন ও বাংলাদেশ সম্পর্ক অতীতের মতোই জটিলতার ঘূর্ণিপাকে আটকে যাবে। নয়া দিগন্তকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন মোহাম্মদ খোরশেদ আলম।

নয়া দিগন্ত : ফলোআপটা কী ধরনের হওয়া দরকার?

মোহাম্মদ খোরশেদ আলম : চীনের জন্য আরেকটি অর্থনৈতিক অঞ্চল হয়তো মোংলায় হতে পারে। মোংলা বন্দর অবকাঠামো পরিবর্তনের দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে হবে। সিঙ্গাপুরে বন্দর কাঠামো এমন যে বিদেশী জাহাজগুলো এলে সেখানকার নাবিক থেকে শুরু করে অন্যরা বিশ্রাম নেয়ার সুযোগ পায়। হোটেল বা বাসস্থানের ব্যবস্থা করা এবং এসব ঘিরে একটা পর্যটন গড়ে উঠতে পারে মোংলায়। বন্দর মানে শুধু জাহাজ থেকে মাল খালাস বা পণ্য ভর্তি করে রফতানি করা নয়। বৈচিত্র্যময় আয়ের উৎস করতে হবে বন্দরকে। চট্টগ্রাম বা মংলাবন্দরে আসা জাহাজগুলোতে সপ্তাহ থেকে ১৫ দিন নাবিক ও অন্যরা জাহাজেই ঘুমায়। কারণ বন্দরে পর্যটনের কোনো সুবিধা নেই। অনেক জাহাজ চট্টগ্রামে জায়গা না পেয়ে সিঙ্গাপুরে বাধ্য হয়ে নোঙর করে। সমস্যা হচ্ছে আমরা একটা পরিকল্পনা করি হয় আরেকটা। এগুলো আবার পরে চেঞ্জ হয় বা এটা বাধা আসে এটা হয় সেটা হয়। এখন প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের পর যে দু’টি চুক্তি হয়েছে তা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে পারলে আমাদের অর্থনীতি উন্নতির জন্য সহায়ক হবে।

নয়া দিগন্ত : চীনের সাথে বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে দেশটির দেয়া শুল্কমুক্ত সুবিধা কিভাবে কাজে লাগানো যায়?

মোহাম্মদ খোরশেদ আলম : চায়না চেম্বার অব কমার্স থেকে সুপারিশ ও সুনির্দিষ্ট কিছু প্রস্তাব দিয়েছি সরকারকে। সরকারের তরফ থেকে এগুলো কত শিগগিরই বাস্তবায়ন করবে তার ওপর নির্ভর করছে অনেক কিছু। এই সুপারিশ করতে গিয়ে ঝামেলায় পড়তে হচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের ফোন আসছে আমার কাছে কথা না বলার জন্য। এখানে বড় বড় কিছু কোম্পানির কান্ট্রি ম্যানেজার এরা কিন্তু বাংলাদেশী বা ভারতীয়, কিছু শ্রীলঙ্কান, তারা মিডিয়াতে আমার কথা শুনে বায়ারের কাছে কমেন্টস পাস করে যে তোমার লোক এসব কথা বলছে তাকে বন্ধ করাও। বায়ার তোমার কাছ থেকে মাল নিবে না যদি তুমি এসব কথা বললে তাদের মনে ভয় ঢুকে যাবে। যার জন্য ইন্টারভিউতে এ ধরনের কথা আর বলি নাই। আমাদের গার্মেন্ট পোশাক শিল্প মালিকদের মাঝে একধরনের ভয় কাজ করছে যেহেতু তারা রফতানির জন্য বায়ারের পছন্দের ওপর নির্ভরশীল তাই তাদের বায়াররা চীনের বাজারে যেতে না চাইলে কিছু করার নাই। চীনে পোশাক রফতানি করলে পাছে যুক্তরাষ্ট্র আমাকে এম্বারগো দিতে পারে প্লাস আমাদের বিদেশী বায়াররা মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে। কিন্তু অন্যান্য তৃতীয় পক্ষ এই সুযোগটা নিচ্ছে। বাংলাদেশের পণ্য তাদের ব্র্যান্ড নিয়ে কিন্তু চায়নাতে বিক্রি করছে। চীনও গার্মেন্ট থেকে সরে যাচ্ছে বলে দেশটির বিরাট গার্মেন্টের বাজারে বাংলাদেশে উৎপাদিত গার্মেন্ট পণ্য একটি বিশেষ দেশের উদ্যোক্তারা নিজেদের ব্র্যান্ডে চায়না মার্কেটে ঢুকে পড়ছে। এই মুহূর্তে আমার কাছে এর ডাটা নেই তবে বাংলাদেশ থেকে গার্মেন্ট বিভিন্ন নামে যারা নিচ্ছে তারা ওই পণ্যগুলো চীনে কী পরিমাণে বিক্রি করছে তা তদন্ত করলেই বের হয়ে আসবে। কিন্তু চীনে গার্মেন্ট সরাসরি রফতানির কথা ছিল, আমরা পারি নাই, ব্যর্থ হয়েছি। আমরা নির্ভরশীল রয়ে গেছি বায়ারদের ওপরে। বায়ার যেটা বলবে তারা সে ধরনের পণ্য নিয়ে বিক্রি করবে।

নয়া দিগন্ত : কিভাবে ওভারকাম করা যায় সঙ্কটটা?

মোহাম্মদ খোরশেদ আলম : ঘরে বসে বায়ারদের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার একটা নিশ্চিত অলসতা ত্যাগ করতে হবে। আমরা আমাদের ব্র্র্যান্ড তৈরিতে পিছিয়ে আছি। আমাদের পণ্য নিয়ে লিবাইস, এইচঅ্যান্ডএম বলেন, অন্য বড় বড় ব্র্যান্ডগুলো বাংলাদেশী পণ্য নিয়ে তাদের ব্র্র্যান্ডে বিক্রি করছে। এখানে আমাদের গার্মেন্ট মালিকদের শঙ্কা হচ্ছে- বায়াররা অসন্তুষ্ট হলে তাদের ইউরোপ-আমেরিকার বাজার হারাতে হতে পারে। চীনের বাজার ধরার জন্য তারা সাহস পাচ্ছেন না। তাদের মন পরিবর্তন কিভাবে করাবেন?

নয়া দিগন্ত : সরাসরি আমরা চীনে বিক্রি করতে পারি কিনা?

মোহাম্মদ খোরশেদ আলম : এজন্য সরকারের কাছে দেয়া সুপারিশে বলেছি চীনের ৩০টি শহরে অন্তত ৩০টি বাংলাদেশী পণ্যের আউটলেট চালু করা জরুরি। এসব আউটলেটে শুধু গার্মেন্ট নয়, আমসহ অন্যান্য যত ধরনের বাংলাদেশী পণ্যের বাজার আছে কিনা যাচাই করে রাখা হবে। এ ব্যাপারে চীনের অ্যাম্বাসেডরের সাথে পার্সোনালি দেখা করে বলেছি, লিখিত দিয়েছি এবং বিভিন্ন ফোরামে আমি বলছি। যদি সরকার সহযোগিতা করে তাহলে এটা দ্রুত হয়। একচুয়ালি এটা ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের মতো হবে। এখানে শুধু পোশাক নয়, বিভিন্ন ফল, মাছ, লেদার প্রোডাক্ট, হোম টেক্সটাইল, বেডশিট, মশারি, কাপড় বা সিরামিকের জিনিসও থাকবে। এ ধরনের আউটলেট চালু করে ছয় মাস ক্রেতাদের পছন্দ ও পণ্যের চাহিদা পর্যবেক্ষণ করে সরাসরি চীনের বাজারে বাংলাদেশী পণ্যের বিক্রির সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। এখানে কোনো বায়ার বা ভায়া মিডিয়া থাকবে না। সরাসরি আমরা দোকানের মতো গিয়ে বসব। ওই এলাকার লোক আসবে। আমাদের পণ্য দেখবে। ছয়টা মাস কোন পণ্যটার দিকে চীনা ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি এবং কোন পণ্যটায় আমাদের লাভ হচ্ছে বা লোকসান হচ্ছে তা যাচাই করব। দেখার পরে সরকারকে বলতে পারি গার্মেন্টের মতো আমাদের একটা ইনসেন্টিভ দেন। এই ইনসেন্টিভটা যারা বাংলাদেশ থেকে পণ্য নিয়ে চীনের আউটলেটে যাবে তাদের দেবো। আউটলেটগুলোতে বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য ছোট একটা কাউন্টার থাকবে। চায়ের আয়োজন থাকবে এবং চীনারা দেখতে পাবে যে বাংলাদেশে কী কী বিনিয়োগের সুযোগ আছে। তারা বাংলাদেশী বিনিয়োগকারীর সাথে জয়েন্ট ভেঞ্চার করতে চাইলে আমরা ফ্রি সার্ভিসে তা করে দেবো।

নয়া দিগন্ত : চীনা ক্রেতাদের মন বুঝাও তো জরুরি।

মোহাম্মদ খোরশেদ আলম : অবশ্যই। আমাদেরও দোষ-ত্রুটি আছে। কুনমিং-এ সেমিনারের পাশাপাশি বাংলাদেশী স্টলগুলো ভিজিট করতে যেয়ে একটি স্টলে দেখলাম মুখের সামনে ব্লাউজ ঝুলিয়ে রেখেছে। এতে সুনামের বদলে বদনাম হয়। উদ্যোক্তাদের অভিজ্ঞতা নাই যে পণ্যটা কিভাবে সাজাব। সেলসম্যানশিপটা তো প্রশিক্ষণের ব্যাপার। আরেকটি স্টলে গিয়ে দেখলাম দু’জন সেলসম্যান বসে ফেসবুক দেখছে অথচ একজন চাইনিজ কাস্টমার দাঁড়িয়ে আছে প্রায় তিন মিনিট। কিছু জিজ্ঞেস করছেন কিন্তু কোনো উত্তর দিচ্ছেন না বসে থাকা ওই সেলসম্যান দুইজন। বিষয়টি লক্ষ করে আমি বললাম, ব্যাপারটা কী? আপনারা কী করতেছেন? উনি এটা জিজ্ঞেস করতেছে হোয়াট ইজ দ্য মেটেরিয়াল অ্যান্ড হোয়াট ইজ দ্য প্রাইস? আপনারা কথা বলেন না কেন? ইংরেজি জানেন না নাকি? আপনি কী করতেছেন? ফেসবুক করতে আসছেন? এই হইল অবস্থা। আমরা একটা জিনিস প্রেজেন্টেশন করি, সেই জিনিসটা সুন্দরভাবে দিতে পারি না। কিছু আম নেয়ার পর আর তারা নিতে চাচ্ছে না। কারণ আমের কস পরিষ্কার করা হয়নি। তাদের হাতে আঠা লাগায় তারা আর আম নিবে না।

নয়া দিগন্ত : কিন্তু আম স্বয়ংক্রিয় মেশিনে ধুয়ে ভেপারের মাধ্যমে পরিশোধন করে ইউরোপের বাজারে রফতানি হচ্ছে, যাতে কোনো ব্যাকটেরিয়া, জার্ম হ্যাচ করতে না পারে, আমে কস বা দাগ না থাকে।

মোহাম্মদ খোরশেদ আলম : চীনে আম সেভাবে দেয়া হয়নি। এটা তো মনিটরিং করতে হবে। ইউরোপ আমেরিকায় আমাদের পণ্যগুলো ম্যাক্সিমাম প্রবাসী বাংলাদেশীরা কেনে। তারা আম, তরকারি, মাছ ওভাবে কিনে অভ্যস্ত। কিন্তু বিদেশীরা তো হাতে কস লাগলে আমই আর ধরবে না। কিছু ফল গেছে, আলু গেছে বা তরিতরকারি গেছে মালয়েশিয়ায়, যেগুলার সম্পূর্ণ ক্রেতা ৯৫% বাংলাদেশী। অতএব ওখান থেকে আপনি অবজারভেশন পাবেন না। আর চীনে আম কিন্তু বাংলাদেশীরা কেনে নাই। আমাদের বুঝতে হবে কে অবজেকশনটা দিলো, কেন দিলো, কাদের কাছ থেকে এলো। মুশকিল হচ্ছে আমাদের কোনো ট্রেনিং নাই। ওই দেশে গিয়ে আপনাকে জানতে হবে তারা কী ধরনের পণ্যটা চাচ্ছে। তাদের কালচারটা বুঝে আপনাকে এক্সপোর্ট করতে হবে।

নয়া দিগন্ত : চায়না চেম্বার থেকে কী ধরনের সুপারিশ ও প্রস্তাব দিয়েছেন?

মোহাম্মদ খোরশেদ আলম : চীনারা বাংলাদেশের কয়লা নিয়ে অনেক আগ্রহী। একাধিক চীনা উদ্যোক্তা আমাদের সাথে কথা বলেছে, সুযোগ পেলে তারা তাদের উন্নত প্রযুক্তি দিয়ে বাংলাদেশে কয়লা উত্তোলন করতে চায়। তাদের প্রযুক্তিতে বাতাসে খনিজ দূষণ মিশে যাওয়ার কোনো উপায় নাই। তারা এ প্রযুক্তি অন্যান্য দেশে প্রয়োগ করে বিনিয়োগ করছে। বাংলাদেশেও তারা আগাতে চায় কিন্তু নানা জটিলতায় শেষ পর্যন্ত আগাতে পারে না। আমাদের কিছু পরিবেশবাদী আছে, আমি জানি না আমাদের এখানে বিদেশী কোনো লোক কাজ করছে কিনা, তারা বলছে, কয়লা উঠানোর দরকার নাই। কিন্তু কয়লা উঠাইলে পরিবেশ নষ্ট হবে এটা ভুল ধারণা। অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ, আপনি লোন নিচ্ছেন। অবশ্যই নিজের কয়লা তুলে লোন দিতে পারেন। দিনাজপুরের লৌহ খনিজের ওপরও চীনারা বিশেষ আগ্রহ দেখাচ্ছে। লোহা বা কয়লা উত্তোলন পরিকল্পনার পেছনে কোনো রহস্য আছে বা কোন দেশ কাজ করছে যে এগুলো না করা হোক। অথচ লোহা আমদানি করা হচ্ছে ইন্ডিয়া, শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়া ও ব্রাজিল থেকে।

সরকারের কাছে দেয়া প্রস্তাবের অন্যতম একটি হচ্ছে বাংলাদেশে চীনের একটা ব্যাংক শাখা খুলুক। শ্রীলঙ্কায় চীনা ব্যাংক কাজ করছে। বাংলাদেশে চীনা ব্যাংক এলে চীনের পুঁজিটা যে নিয়ে আসবে তার পক্ষে ফ্যাক্টরিতে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ হবে। প্লাস চীনের সাথে আমরা একটা এক্সচেঞ্জ রেট চাচ্ছি বাংলাদেশের মুদ্রা টাকার বিনিময় হার। আমরা চাচ্ছি বাংলাদেশে ২০টা চীনা পলিটেকনিক্যাল স্কুল হোক। আমাদের তরুণরা সহজে চীনা প্রযুক্তি শিখতে পারবে। দেড় কোটি বাংলাদেশী ৩০ থেকে ৩২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছে। নেপালের ২৫ লাখ প্রবাসী আয় করছে ১৫ বিলিয়ন ডলার। প্রায় ৮৪টা দেশে নেপালের প্রবাসীরা বেশির ভাগ সিকিউরিটি গার্ড। অপেক্ষাকৃত দক্ষ হওয়ায় তাদের বেতন আমাদের জনশক্তির চেয়ে বেশি। আমাদের তরুণদের স্কিল করে মালয়েশিয়া, চায়না বা বিভিন্ন দেশে পাঠাতে পারলে রেমিট্যান্স আসতো ৬০ বিলিয়ন ডলার। চাইনিজ ভাষা একটু কঠিন, তবে মোটামুটি কথা বলতে পারলেই হয়। চীনের হাসপাতালে দোভাষী রাখা হচ্ছে।

নয়া দিগন্ত : প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের পর টেম্পোটাকে ধরে কিভাবে আগানো যায়?

মোহাম্মদ খোরশেদ আলম : সেটা ডিপেন্ড করবে আপনি কমিটমেন্ট করার পর তা কিভাবে রক্ষা করবেন তার ওপর। প্রধানমন্ত্রী কিন্তু বলেছেন যে আমরা লংটার্ম বসে থাকব না, আমরা যেগুলো করব ১৮ মাসের ভেতরে এগুলো চূড়ান্ত পর্যায়ে নেয়া হবে। ভালো এটা যদি এরকম হয়। আপনি আনোয়ারাতে চীনের জন্য যে অর্থনৈতিক অঞ্চল দিলেন এটা নিয়ে কথা বলেছেন ছয় বছর। এখন এমন হলে কেউ আর ধৈর্য ধরবে না, আপনিও ধরবেন না।

নয়া দিগন্ত : চীনের মানুষের সংস্কৃতি বুঝতে হবে?

মোহাম্মদ খোরশেদ আলম : আমাদের যে আমলাতান্ত্রিক সমস্যাটা অনেক সময় নিয়ে নেয়। গত জানুয়ারিতে বাংলাদেশে পলিটেকনিক্যাল স্কুল দিতে একজন চীনা উদ্যোক্তা আমার কাছে এসে বললেন, চীন সরকারের একটা ফান্ড তার কাছে আছে, যা বাংলাদেশে ব্যবহার করতে চান। সাহায্য চেয়ে বললেন, আমি পারব কিনা? একটা চিঠি লিখে সুপারিশ করে দিলাম। চাইনিজ ভাষা শেখায় এমন এক বাংলাদেশীকে নিয়ে সেই চীনা উদ্যোক্তা মাদরাসা ও কারিগরি বোর্ডে গেলে সচিব তাকে মানা করে দিলেন। দুঃখের সাথে তিনি জানালেন তার হাতে দেড় মাস সময় ছিল ওই চীনা ফান্ড ব্যবহারের। এই ব্যর্থতার পর আর কোনো চীনা উদ্যোক্তা আমার কাছে কেন আসবেন?

নয়া দিগন্ত : বাধাটা কোথায়? অন্যান্য দেশ তো চীনা বিনিয়োগ পাচ্ছে।

মোহাম্মদ খোরশেদ আলম : আমলাতান্ত্রিক সমস্যার পাশাপাশি কিছু লোক প্রশাসনে নীতিনির্ধারণে বসে আছে এবং তারা তাদের ইচ্ছা মতো চলছেন এটা আমার ধারণা। বাংলাদেশী হিসেবে বাংলাদেশকে ভালোবাসলে কেউ চীনা উদ্যোক্তাকে মানা করতে পারত না। দুর্নীতির সাথে জড়িত হলে ভিন্ন কথা।