রানীনগরে চরমপন্থীদের কোটি টাকার প্রকল্প এখন ভূতের বাড়ি
Printed Edition
কাজী আনিছুর রহমান রানীনগর (নওগাঁ)
চরমপন্থীদের পুনর্বাসনের ল্য নিয়ে নওগাঁর রানীনগরে যে প্রকল্পগুলো একসময় শান্তি, কর্মসংস্থান ও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়েছিল, সেগুলোই এখন এলাকাবাসীর কাছে আতঙ্কের নাম। প্রায় এক কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত দু’টি ডেইরি খামার প্রকল্প আজ পরিত্যক্ত, শুনশান এবং কার্যত ‘ভূতের বাড়ি’তে পরিণত হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কালিগ্রাম ইউনিয়নের রাতোয়াল গ্রাম সংলগ্ন খাঁনপুকুর-রাতোয়াল সড়কের পাশে বড়ইতলা এলাকায় খাস জমিতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দু’টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। ‘স্বপ্ন চাষ কৃষি উন্নয়ন সমবায় সমিতি লি.’-এর নামে ৭৫ লাখ টাকা এবং ‘আশার আলো কৃষি উন্নয়ন সমবায় সমিতি লি.’-এর নামে এক কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পগুলোর ল্য ছিল উপজেলার চিহ্নিত সর্বহারা (চরমপন্থী) সদস্যদের পুনর্বাসন ও আয়ের স্থায়ী পথ তৈরি করা।
প্রকল্পের কাজ শেষ হলে ২০২৪ সালের শুরুতে শতাধিক গরু ক্রয়ের মাধ্যমে ডেইরি খামার দু’টি চালু হয়। শুরুতে নিয়মিত কার্যক্রম চললেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আন্দোলনের পর পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলে যায়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় সমিতির প্রভাবশালী সদস্যরা রাতারাতি খামারের গরু ও অন্যান্য সম্পদ সরিয়ে নেন। এরপর থেকে প্রকল্প দু’টি কার্যত অচল হয়ে পড়ে। বর্তমানে ভবন ও কিছু অবকাঠামো ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।
স্থানীয় বাসিন্দা আবদুর রহিম ও জব্বার আলী বলেন, ‘খামার চালু হওয়ার পর এলাকায় আশার আলো দেখা দিয়েছিল। কিন্তু আন্দোলনের পর সবকিছু লুট হয়ে গেল। এখন সন্ধ্যার পর এখানে মাদকসেবীদের আসর বসে, যা পুরো এলাকার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।’
পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় এই সরকারি সম্পত্তি এখন দুষ্কৃতকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে। নির্জন এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় এখান থেকে নানা অপকর্ম সংঘটিত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এতে সামাজিক নিরাপত্তা যেমন বিঘিœত হচ্ছে, তেমনি সরকারের বিপুল অর্থ ব্যয়ের প্রকল্পও সম্পূর্ণভাবে অপচয়ের উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপরে নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা শুধু একটি প্রকল্প ব্যর্থতার গল্প নয়; বরং পুনর্বাসনমূলক প্রকল্পে তদারকি ও জবাবদিহির ঘাটতির একটি বাস্তব চিত্র। দ্রুত সরকারি নিয়ন্ত্রণে এনে এসব স্থাপনার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা না গেলে, উন্নয়নের নামে এমন প্রকল্প ভবিষ্যতেও ‘ভূতের বাড়ি’ হয়েই থেকে যাবে, এমন আশঙ্কাই এখন এলাকাবাসীর।