ওএমএস চালুর অনুমতি পেল ১১ ব্রোকার হাউজ
পুঁজিবাজারে সপ্তাহের শেষ কর্মদিবস সূচকের উন্নতিতেই পার
Printed Edition
অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
সংশোধন পরবর্তী কিছুটা শ্লথ গতি হলেও সূচকের উন্নতিতেই সপ্তাহের শেষ কর্মদিবস পার করেছে দেশের পুঁজিবাজার। দিনের শুরুতে সূচকের কিছুটা ওঠানামা থাকলে লেনদেনের মাঝামাঝি সময়ে এসে ঊর্র্ধ্বমুখী হয়ে ওঠে বাজার সূচক। দিনের বাকি সময় এ ধারা অব্যাহত থাকলে দুই বাজারই সূচকের বড় ধরনের উন্নতি ধরে রাখতে সক্ষম হয়। বিশ্লেষকদের মতে, বুধবার বাজারে সংশোধন ঘটার পর গতকাল সকালেও এ প্রবণতা দেখা যায়। কিন্তু বেলা বাড়ার সাথে সাথে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেলে ইতিবাচক ধারায় ফিরে বাজারগুলো।
দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গতকাল ৭৬ দশমিক ২০ পয়েন্ট উন্নতি ধরে রাখে। ৫ হাজার ২৯২ দশমিক ১৯ পয়েন্ট থেকে দিন শুরু করা সূচকটি বৃহস্পতিবার দিনশেষে পৌঁছে যায় ৫ হাজার ৩৬৮ দশমিক ৪০ পয়েন্টে। একই সময় বাজারটির দুই বিশেষায়িত সূচক ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহর উন্নতি ঘটে যথাক্রমে ২৮ দশমিক ২২ ও ১৭ দশমিক ১৩ পয়েন্ট। অনুরূপভাবে দেশের দ্বিতীয় পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ১১১ দশমিক ৪৬ পয়েন্ট উন্নতি ধরে রাখতে সক্ষম হয়। বাজারটির দুই বিশেষায়িত সূচক সিএসই-৩০ ও সিএসসিএক্স সূচকের উন্নতি ঘটে যথাক্রমে ৬২ দশমিক ৪৭ ও ৬৪ দশমিক ৪৮ পয়েন্ট।
সূচকের উন্নতির প্রভাব ছিল ডিএসইর লেনদেনেও। গতকাল ঢাকা শেয়ারবাজার ৫৯১ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি করে যা আগের দিন অপেক্ষা ৬৮ কোটি টাকা বেশি। বুধবার ডিএসইর লেনদেন ছিল ৫২৩ কোটি টাকা। তবে লেনদেন ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারে। গতকাল সিএসইর লেনদেন ছিল ১৪ কোটি টাকা যা আগের দিনের চাইতে ২৪ কোটি টাকা কম। বুধবার সিএসইর লেনদেন ছিল ৩৮ কোটি টাকা।
এদিকে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর লেনদেন ব্যবস্থা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আরো ১১টি ব্রোকারেজ হাউজকে ফিক্স সার্টিফিকেশন প্রদান করেছে। এই স্বীকৃতির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো এখন থেকে এপিআই সংযোগ ব্যবহার করে তাদের নিজস্ব অর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (ওএমএস) চালু করতে পারবে। নতুন করে এই মাইলফলক অর্জন করা প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকায় রয়েছে এন এফ ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড, আকিজ ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড, আমার সিকিউরিটিজ লিমিটেড, কমার্স ব্যাংক সিকিউরিটিজ অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, মোনা ফিন্যান্সিয়াল কনসালটেন্সি অ্যান্ড সিকিউরিটিজ লিমিটেড, প্রিমিয়ার ব্যাংক সিকিউরিটিজ লিমিটেড, প্রাইলিঙ্ক সিকিউরিটিজ লিমিটেড, পূবালী ব্যাংক সিকিউরিটিজ লিমিটেড, রেমন্স ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড সিকিউরিটিজ লিমিটেড, স্কাইলাইন সিকিউরিটিজ লিমিটেড এবং ইউনাইটেড সিকিউরিটিজ লিমিটেড।
গত ১১ মার্চ ২০২৬ বুধবার ডিএসইর মাল্টিপারপাস হলে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই ১১টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে প্রশংসাপত্র তুলে দেয়া হয়। ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই সার্টিফিকেশন হস্তান্তর করেন। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন সংস্থাটির প্রধান পরিচালনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসাদুর রহমান, এফসিএস; প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা ড. মো: আসিফুর রহমান; আইসিটি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মো: তারিকুল ইসলাম এবং উপ-মহাব্যবস্থাপক হাসানুল করিমসহ অন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, ২০২০ সাল থেকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ এপিআই ভিত্তিক আধুনিক লেনদেন ব্যবস্থা বা বিএইওএমএস চালুর কার্যক্রম শুরু করে। এর ধারাবাহিকতায় এখন পর্যন্ত মোট ৭৬টি ব্রোকারেজ হাউজ নাসডাক ম্যাচিং ইঞ্জিনের সাথে এপিআই সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় লেনদেন করার আবেদন জানিয়েছে। নতুন এই ১১টি প্রতিষ্ঠানসহ এ পর্যন্ত ডিএসই মোট ৫৮টি হাউজকে এই বিশেষ ফিক্স সার্টিফিকেশন প্রদান সম্পন্ন করল। ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরো তথ্য দেন যে, ইতোমধ্যে ৪৪টি ব্রোকারেজ হাউজ এই সার্টিফিকেশন পাওয়ার পর সফলভাবে এপিআই সংযোগের মাধ্যমে তাদের নিজস্ব ওএমএস ব্যবহার করে লেনদেন পরিচালনা করছে। এর ফলে শেয়ারবাজারে প্রযুক্তিনির্ভর ট্রেডিং ব্যবস্থা আরো শক্তিশালী হচ্ছে এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য লেনদেন প্রক্রিয়া আগের চেয়ে অনেক বেশি সহজ ও গতিশীল হয়ে উঠছে। চলতি অর্থবছরে এই প্রযুক্তিগত উন্নয়ন বাজারের গভীরতা বাড়াতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গতকাল ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ কোম্পানি ছিল ব্যাংকিং খাতের সিটি ব্যাংক। ২৭ কোটি ৯৩ লাখ টাকায় কোম্পানিটির ৮৮ লাখ ১৪ হাজার শেয়ার হাতবদল হয় কোম্পানিটির। ২১ কোটি ৮০ লাখ টাকায় ২৯ লাখ ৯১ হাজার শেয়ার বেচাকেনা করে খাদ্য ও আনুসঙ্গিক খাতের লাভেলো আইসক্রিম উঠে আসে দ্বিতীয় স্থানে। ডিএসইর লেনদেনের শীর্ষ দশ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে রবি অজিয়াটা, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, সামিট অ্যালাইয়েন্স পোর্ট, ওরিয়ন ইনফিউশন, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, সী পার্ল বিচ রিসোর্ট, একমি পেস্টিসাইডস, ও লাফার্জ হোলসিম।
গতকাল ডিএসইতে মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষে ছিল জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ার। কোম্পানিটির ৭ দশমিক ০৯ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি ঘটে গতকাল। ৬ দশমিক ৯১ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি পেয়ে এ তালিকায় দ্বিতীয় কোম্পানি ছিল শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ। ডিএসইর মূল্যবৃদ্ধিতে শীর্ষ দশ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে লাফার্জ হোলসিম, ডেফোডিল কম্পিউটার, প্রাইম লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ভিএফএস থ্রেড লিমিটেড, ইন্দু বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস, আইসিবি সোনালী ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড ও আরামিট লিমিটেড।
দিনের দরপতনের শীর্ষে ছিল বিআইএফসি। আর্থিক খাতের এ প্রতিষ্ঠানটির দরপতনের হার ছিল ৫ দশমিক ৫৫ শতাংশ। ৪ দশমিক ৬১ শতাংশ দর হারিয়ে এ তালিকায় দ্বিতীয় কোম্পানি ছিল একই খাতের ইউনিয়ন ক্যাপিটাল। গতকাল দরপতনে ডিএসইর শীর্ষ দশ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে মাইডাস ফিন্যান্স, নুরানি ডাইং, হা-ওয়েল টেক্সটাইলস, আনলিমা ইয়ার্ন ডাইং, ফিনিক্স ফিন্যান্স, প্রাইম ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, জিএসপি ফিন্যান্স ও বে- লিজিং।