ইরান যুদ্ধ ও গাজা গণহত্যার প্রতিবাদ, ইসরাইল থেকে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার স্পেনের

Printed Edition

রয়টার্স

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলা এবং গাজায় চলমান গণহত্যার প্রতিবাদে ইসরাইল থেকে নিজেদের রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্পেন। গতকাল বুধবার প্রকাশিত দেশটির সরকারি গেজেটে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ইসরাইলে নিযুক্ত স্পেনের রাষ্ট্রদূত আনা মারিয়া সালোমন পেরেজের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে।

গেজেটে বলা হয়, ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও কাউন্সিল মিনিস্টারের প্রস্তাব এবং ২০২৬ সালের ১০ মার্চ মন্ত্রিসভার বৈঠকের আলোচনার পর আমি ইসরাইলে স্পেনের রাষ্ট্রদূত হিসেবে আনা মারিয়া সালোমন পেরেজের নিয়োগ বাতিলের নির্দেশ দিচ্ছি।’ স্পেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, তেলআবিবে অবস্থিত স্পেনের দূতাবাস আপাতত একজন চার্জ ডি অ্যাফেয়ার্সের নেতৃত্বে (সাময়িক প্রধান) পরিচালিত হবে।

উল্লেখ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর মধ্যে স্পেন দীর্ঘদিন ধরেই গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানের কড়া সমালোচনা করে আসছে। একই সাথে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যে নতুন করে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছে, তারও সমালোচনা করেছে দেশটি।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ইউরোপের অল্প কয়েকজন বামপন্থী নেতার একজন, যিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরান আক্রমণকে ‘অযৌক্তিক’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, মাদ্রিদের অবস্থান হলো ‘যুদ্ধের বিরুদ্ধে’। সানচেজ সরকারের অবস্থান গাজা ইস্যুতেও একই রকম কঠোর। গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে নিন্দা জানিয়েছে তার সরকার। এ ছাড়া গত অক্টোবর মাসে স্পেনের পার্লামেন্ট একটি আইন পাস করে, যাতে ইসরাইলের ওপর পূর্ণ ‘অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা’ আরোপ করা হয়। ওই আইনের মাধ্যমে ইসরাইলের কাছে অস্ত্র, দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি এবং সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।