ভাঙ্গায় বাসভবন থেকে শিক্ষা কর্মকর্তার লাশ উদ্ধার

Printed Edition

ফরিদপুর প্রতিনিধি

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় শেখ রাজু ইসলাম (৩৮) নামে এক উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

গতকাল বেলা ৩টার দিকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পৌরসভার কোর্টপাড় এলাকায় মাতৃকুঞ্জ নামের একটি বহুতল ভবনের চারতলা থেকে তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে ভাঙ্গা থানা পুলিশ। পারিবারিক অশান্তির কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে নিহতের পরিবারের অভিযোগ- এটি একটি হত্যাকাণ্ড। নিহত শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ রাজু ইসলাম সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার মৌতলা গ্রামের শেখ নুর ইসলামের ছেলে ও গোপালগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার স্ত্রী হ্যাপি আক্তার ভাঙ্গা পৌরসভার আতাদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা।

হ্যাপি আক্তার জানান, সকালে স্কুলে যাওয়ার সময় তার স্বামীর শরীরটা ভালো লাগছে না বলে তাকে জানিয়েছিলেন। এ সময় তিনি এই অনুরোধও করেন যে- ‘আমি যদি মারা যাই আমাকে ভাঙ্গা কবরস্থানে দাফন করো।’

নিহতের মা রাশেদা বেগম জানান, দুপুরে আমার ছেলে ফোন করে বলে মা আমার আশাভরসা তোমরা ছেড়ে দিও। আমার শারীরিক ও মানসিক ও অবস্থা ভালো না। বউয়ের সাথে প্রায়ই ঝগড়া হতো। রাশেদা বেগমের অভিযোগ- আমার ছেলেকে পরিকল্পিত হত্যা করা হয়েছে। আমি সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষ বিচার দাবি করছি।

এ বিষয়ে ওই ভবনের বাসিন্দা অ্যাডভোকেট ইকরাম আলী শিকদার বলেন, তাদের দাম্পত্য জীবনে অনেক ঝামেলা ছিল। কিছুদিন আগে এলাকার নেতৃস্থানীয়রা মিলে তাদের মিল করে দেয়ার চেষ্টা চালায়।

নিহতের ভাই শেখ রাজ্জাক জানান, আমরা দু’জন যমজ ভাই। সকালে মা আমাকে ফোন করে বলেন, তুই দ্রুত ভাঙ্গায় গিয়ে তোর ভাইর খবর নে। তোর ভাই মনে হয় বিপদে আছে। আমি মায়ের ফোন পেয়ে দ্রুত ভাঙ্গার বাসায় এসে দেখি ভাইয়ের লাশ। পাশের রুমে ভাবী ও দুই ভাতিজা ছিল।

এ বিষয় ভাঙ্গা থানার উপ-পরিদর্শক হাবিব জানান, উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার লাশের খবর পেয়ে আমরা মাতৃকুঞ্জ বহুতল ভবনের চারতলা থেকে তার লাশটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসি। পরিবারের সদস্য ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে, উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ রাজু ইসলামের মৃত্যুর খবর পেয়ে ভাঙ্গা উপজেলা শিক্ষা অফিস ও গোপালগঞ্জ জেলা শিক্ষা অফিসের সহকর্মী ও শিক্ষকরা মাতৃকুঞ্জ ভবনে ভিড় জমান। উপস্থিত ভাঙ্গা সরকারি কে এম কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মোশায়েদ হোসেন ঢালী বলেন, রাজু গোপালগঞ্জে চাকরি করলেও তিনি দীর্ঘদিন ভাঙ্গায় বসবাস করেছেন। ছোট-বড় সকলের সাথে তার আন্তরিক চলাফেরা ছিল। তার মৃত্যুতে আমরা বেদনাহত।