কাল একুশে বইমেলা শুরু উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
Printed Edition
সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক
‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে আগামীকাল বৃহস্পতিবার বেলা ২টায় শুরু হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা। উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এবারের মেলা রমজানে হওয়াতে মেলা মাঠেই থাকছে ইফতার ও তারাবির নামাজের আয়োজন। মেলায় অংশ নিচ্ছে ৫৪৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে গতকাল বুধবার বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব সেলিম রেজা। বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমির পরিচালক সরকার আমিন। এতে জানানো হয়, এবার মেলা চলবে ১৫ মার্চ পর্যন্ত। ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন বেলা ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকবে মেলা। রাত সাড়ে ৮টার পর নতুন করে কেউ মেলাপ্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারবেন না। আর ছুটির দিন বইমেলা বেলা ১১টা থেকে শুরু হয়ে চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত।
লিখিত বক্তব্যে সেলিম রেজা বলেন, এবারের বইমেলায় অংশগ্রহণকারী মোট প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ৫৪৯টি। এরমধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৮১টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৬৮টি। মোট ইউনিট ১ হাজার ১৮টি। গত বছর মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান ছিল ৭০৮টি এবং ইউনিট ছিল ১ হাজার ৮৪টি। মেলা কমিটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবারের মেলায় কমেছে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা।
মেলায় লিটল ম্যাগাজিন চত্বর থাকবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উন্মুক্ত মঞ্চের কাছাকাছি গাছতলায়। সেখানে ৮৭টি লিটলম্যাগকে স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া শিশুচত্বরে মোট প্রতিষ্ঠান ৬৩টি এবং ইউনিট ১০৭টি।
বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেন, এবারের মেলা সকল সম্ভাবনায় আলোকিত হয়ে প্রাণের বইমেলায় পরিণত হবে বলে আমরা আশা করছি। মেলায় সবার সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
মেলা কমিটির সদস্যসচিব সেলিম রেজা বলেন, এবার বইমেলার বিন্যাস গতবারের মতো অক্ষুণœ রাখা হয়েছে। তবে কিছু আঙ্গিকগত পরিবর্তন আনা হয়েছে।
এ দিকে প্রতিদিন বেলা ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত বইমেলার মূল মঞ্চে বিষয়ভিত্তিক সেমিনার এবং বিকেল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত চলবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। প্রতি শুক্র ও শনিবার মেলায় বেলা ১১টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত ‘শিশুপ্রহর’ থাকবে। অমর একুশে উদযাপনের অংশ হিসেবে শিশুকিশোর চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও সঙ্গীত প্রতিযোগিতার আয়োজন থাকছে।
মেলায় নামাজের স্থান, ওয়াশরুমসহ প্রয়োজনীয় পরিষেবা অব্যাহত থাকবে। পবিত্র রমজান উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে মুসল্লিদের জন্য তারাবি নামাজের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বাংলা একাডেমি এবং অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ২৫ শতাংশ কমিশনে বই বিক্রি করবে; সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নির্ধারিত কমিশনে বই বিক্রি করবে। বাংলা একাডেমির বই ও পত্রপত্রিকার বিক্রয় স্টল থাকবে মেলার উভয় অংশেই।
এ ছাড়া শিশুকিশোরদের জন্য চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও সঙ্গীত প্রতিযোগিতার আয়োজন থাকবে। নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচনের জন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
মেলার সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে বাংলাদেশ পুলিশ, র্যাব, আনসার ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। পুরো এলাকায় ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। মেলাপ্রাঙ্গণ ও পাশের এলাকায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা নিয়ন্ত্রণে পানি ছিটানো এবং মশকনিধন কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
এবারের বইমেলাকে পলিথিন ও ধূমপানমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। পরিবেশ সুরক্ষায় ‘জিরো ওয়েস্ট বইমেলা’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে স্টল, ব্যানার, লিফলেট ও খাবারের দোকানসহ সব আয়োজনে পুনর্ব্যবহারযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়েছে।
অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলোর ২০২৫ সালে প্রকাশিত গ্রন্থ থেকে গুণগত মানের ভিত্তিতে প্রকাশককে প্রদান করা হবে ‘চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার’। শৈল্পিক মানে সেরা বইয়ের জন্য তিনটি প্রতিষ্ঠান পাবে ‘মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’। শিশুতোষ গ্রন্থে বিশেষ অবদানের জন্য থাকবে ‘রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার’। স্টলের নান্দনিক সাজসজ্জায় শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠানকে দেয়া হবে ‘কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’।
এ ছাড়া এ বছর নতুনভাবে প্রবর্তন করা হয়েছে ‘সরদার জয়েনউদ্দীন স্মৃতি পুরস্কার’। নতুন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্য থেকে গুণগত মানের বিচারে নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানকে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অনুযায়ী এ পুরস্কার প্রদান করা হবে।