জুলাই টিকে না থাকলে সরকারের অস্তিত্ব থাকবে না : বিরোধীদলীয় নেতা
বিভিন্ন দেশের সাথে চুক্তির বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার আমাদের জানায়নি
খেলাফত মজলিসের ইফতার মাহফিল
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বিভিন্ন দেশের সাথে সরকার কয়েকটি চুক্তি সম্পাদন করেছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এ ধরনের কোনো চুক্তি নিয়ে সরকার আমাদের সাথে কোনো আলোচনা করেনি।
গতকাল শুক্রবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন। ওই পোস্টে জামায়াত আমির আরো বলেন, আমরা বহুবার দাবি জানিয়েছিলাম যে, সংসদ না থাকার কারণে সরকার বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে যেভাবে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সংলাপ করেছে, ঠিক সেভাবেই আন্তর্জাতিক চুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতেও রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত ছিল।
তিনি বলেন, কিন্তু তৎকালীন সরকার আমাদের সেসব দাবিকে আমলে নেয়নি। অতএব, এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট এবং এখানে কোনো ধরনের ধোঁয়াশা তৈরি করার সুযোগ নেই।
খেলাফত মজলিসের ইফতার মাহফিল : ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, জীবনের বিনিময়ে হলেও জুলাই অভ্যুত্থান রক্ষা করা হবে। জুলাই টিকে না থাকলে বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, জাতীয় নির্বাচন ও নবগঠিত সরকার কারোরই অস্তিত্ব থাকবে না। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে জুলাই চেতনা রক্ষা করব। বাংলাদেশে আর কাউকে ফ্যাসিস্ট হতে দেয়া হবে না। কেউ অন্যায় করে আর পার পাবে না।
গতকাল খেলাফত মজলিসের উদ্যোগে পল্টনের ফারস্ হোটেলে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। সভাপতির বক্তৃতায় খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আবদুল বাছিত আজাদ বলেন, বাংলাদেশের নবগঠিত সরকার জুলাই সনদ ও গণভোট নিয়ে অপরাজনীতি শুরু করতে চায়। আদালতের ঘাড়ে সওয়ার হয়ে গণভোটকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা করা হলে তার পরিণতি ভালো হবে না। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী হিসেবে ক্ষমতাসীন দলকে অবশ্যই অঙ্গীকার পূরণ করতে হবে। গণভোটে বিশাল ব্যবধানে হ্যাঁ জয়যুক্ত হয়েছে। তাই গণরায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সরকারকে সংসদের প্রথম অধিবেশনে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন বিল উত্থাপন করতে হবে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গড়িমসি করলে জনগণ ক্ষমা করবে না। আমরা বাংলাদেশে আর কখনো ফ্যাসিবাদী সরকার দেখতে চাই না।
মাহফিলে স্বাগত বক্তৃতা করেন খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের। যুগ্ম মহাসচিব ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সাল ও অধ্যাপক আবদুল জলিলের যৌথ পরিচালনায় মাহফিলে আরো উপস্থিত ছিলেন এলডিপি চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব:) অলি আহমদ বীর বিক্রম, খেলাফত মজলিস সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন আহমদ, এ বি পার্টির সদস্য সচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূঞা, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমির মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের আমির মাওলানা ঈশা শাহেদী, বাংলাদেশ গণ অধিকার পরিষদের মুখপাত্র ফারুক হাসান, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, খেলাফত মজলিস যুগ্ম মহাসচিব মুহাম্মদ মুনতাসির আলী, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির মহাসচিব নিজামুল হক নাঈম, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র সহসভাপতি মাওলানা আবদুল মাজেদ আতাহারী, ব্রুনেই দারুসসালামের হাইকমিশনার রোজাইমি আবদুল্লাহ, বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের এমডি এম আবদুল্লাহ, ডেইলি নিউ নেশনের সাবেক সম্পাদক মোস্তফা কামাল মজুমদার, ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম প্রমুখ।