ইইউ প্রতিনিধিদলের সাথে বৈঠক

জামায়াত ধর্ম নিয়ে কাজ করে, ব্যবহার করে না : ডা: শফিক

Printed Edition
back-2
ডা: শফিকুর রহমানের সাথে ব্রুনাইয়ের হাইকমিশনার হাজী হারিস বিন ওসমান সাক্ষাৎ করেন : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াত ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর রাজনীতি করে না, বরং জনগণের রাজনীতি করে। ধর্ম নিয়ে কাজ করাই জামায়াতের নীতি, ধর্মকে কখনোই রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গতকাল বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৯ সদস্যবিশিষ্ট উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সাথে ইইউ দূতাবাসে এক সৌজন্য বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। জামায়াত আমির বলেন, বৈঠকে বাংলাদেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি, জাতীয় নির্বাচন, গণভোট আয়োজন এবং রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ইইউ প্রতিনিধিরা জানতে চান, একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট হলে তা কতটা চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে এবং জামায়াত নির্বাচনের জন্য কতটা প্রস্তুত। এ বিষয়ে আমরা বলেছি, দেশের সাধারণ মানুষ দুটো ভোট এক দিনে হলে বিভ্রান্ত হতে পারেন, যার ফলে বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা থেকে যায়। তাই আলাদা দিনে ভোট আয়োজন করা যুক্তিযুক্ত বলেই তারা মত দিয়েছেন।

জামায়াতে ইসলামীর আমির আরো বলেন, ক্ষমতায় গেলে তারা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়তে চান, যেখানে কোনো রাজনৈতিক দলকে বাদ দেয়া হবে না। দেশের স্বার্থে স্থিতিশীল প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তুলতে এবং অন্তত পাঁচ বছর দেশকে দিকনির্দেশনা দিতে সব দলের সাথে সমন্বয় করা হবে। তিনি দু’টি শর্তের কথা উল্লেখ করে বলেন- প্রথমত, ক্ষমতায় যারা থাকবে তারা দুর্নীতি করবে না এবং দুর্নীতিকে প্রশ্রয়ও দেবে না। দ্বিতীয়ত, সবার জন্য সমান বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং বিচারব্যবস্থায় কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বরদাশত করা যাবে না। এই দুই বিষয়ে যারা একমত হবেন, তাদের সাথেই সরকার পরিচালনায় কাজ করতে জামায়াত আগ্রহী।

খালেদা জিয়ার অসুস্থতা রাজনীতিতে সঙ্কট তৈরি করছে কি না- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সুস্থতা বা অসুস্থতা মানুষের হাতে নয়। দেশবাসী তার সুস্থতার জন্য দোয়া করছে। তবে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যের কারণে রাষ্ট্রের চলমান গতি থেমে থাকা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ফেব্রুয়ারিতে নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচন সময়মতো হওয়া অত্যন্ত জরুরি বলে উল্লেখ করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, এ নির্বাচন সামান্য পেছালেও দেশ গভীর সঙ্কটে পড়তে পারে। দেশের স্বার্থে ও আগামীর স্বার্থে সব রাজনৈতিক পক্ষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

রাষ্ট্রদূতদের প্রতিনিধিদলে ছিলেন ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস, নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেন, জার্মানির রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ, ইতালির রাষ্ট্রদূত অ্যান্তোনিও আলেসান্দ্রো, ফ্রান্সের উপ-রাষ্ট্রদূত ফ্রেদেরিক ইনজা, নেদারল্যান্ডসের উপ-রাষ্ট্রদূত থাইস উডস্ট্রা, ইইউর উপ-রাষ্ট্রদূত গং. বেইবা জেরিনা, ইইউ দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি সেবাস্টিয়ান রাইগার-ব্রাউন উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে আরো উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও গবেষক প্রফেসর মোকাররম হোসেন ও জুবায়ের আহমেদ এবং আমিরে জামায়াতের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মাহমুদুল হাসান।

আসুন, দুর্নীতিমুক্ত জনবান্ধব নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলি : আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান গতকাল এক বিবৃতিতে বলেন, জাতীয় জীবনের প্রতিটি স্তরে দুর্নীতি নামের মহামারী আমাদের সম্ভাবনাকে গ্রাস করে নিচ্ছে। জনগণের অধিকার লঙ্ঘন, প্রশাসনের অকার্যকারিতা, রাষ্ট্রীয় সম্পদের লুণ্ঠন এবং সামাজিক বৈষম্যের মূল শেকড় এ দুর্নীতি। তাই দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স- এটিই আজকের সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি, সবচেয়ে বড় জনআকাক্সক্ষা। তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই পরিচ্ছন্ন, নৈতিক ও স্বচ্ছ রাজনীতির পরে শক্তি। সব বৈষম্য, অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী সর্বদা সোচ্চার ছিল এবং থাকবে।

জামায়াত আমির আরো বলেন, জুলাইবিপ্লব-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের নতুন যাত্রা শুরু হয়েছে। দেশের মানুষ শৃঙ্খলা, ন্যায়, সততা, দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার ভিত্তিতে একটি নতুন বাংলাদেশ দেখতে চায়। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ দেখতে চাই- যেখানে ক্ষমতা নয়, যোগ্যতা কথা বলবে; স্বজনপ্রীতি নয়, সৎ মেধার প্রতিফলন ঘটবে এবং ন্যায় ও সত্য প্রতিষ্ঠিত হবে। তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনপ্রত্যাশার নতুন এ অধ্যায়ে প্রশাসনকে হতে হবে ন্যায়নিষ্ঠ, স্বচ্ছ, দায়িত্বশীল ও জনবান্ধব। দক্ষতা, যোগ্যতা ও সততার স্বাক্ষর রেখে একটি আধুনিক, দায়িত্বশীল ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গঠন করতে হবে, যা নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দেবে।

জামায়াত আমির দেশের সর্বস্তরের জনগণ, রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী সমাজ, তরুণ প্রজন্ম ও প্রশাসনের সব পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের প্রতি দৃপ্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন- আসুন, জুলাইবিপ্লবের চেতনায়, দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হই এবং দুর্নীতিমুক্ত জনবান্ধব নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলি।