জি-৭ সম্মেলনে চীনকে আমন্ত্রণ নিয়ে ফ্রান্সকে জাপানের হুঁশিয়ারি
Printed Edition
এএফপি
আগামী বছর ফ্রান্সে অনুষ্ঠিতব্য জি-৭ সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাপান। টোকিও সতর্ক করে বলেছে, এই জোটে বেইজিংয়ের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যকার ঐক্যে জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
বুধবার সরকারি সূত্রের বরাতে কিয়োদো নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে। খবরে বলা হয়, বেইজিংয়ের সাথে যোগাযোগের বিষয়টি প্যারিসকে সতর্কতার সাথে মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়েছে টোকিও। জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিতসু মোতেগি শুক্রবার চীনকে আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘জি-৭ এর ঐক্যের ওপর টোকিও গুরুত্ব দেয়, যা গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের মতো মৌলিক মূল্যবোধগুলো ভাগ করে নেয়।’
আগামী জানুয়ারি মাসে জি-৭ এর সভাপতিত্ব গ্রহণ করবে ফ্রান্স। এরপর জুন মাসে আল্পস পর্বতমালার পাদদেশে এভিয়ান-লে-বেনস শহরে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। নিয়ম অনুযায়ী, স্বাগতিক দেশ হিসেবে বর্ধিত জি-৭ সম্মেলনে অন্য দেশগুলোকে আমন্ত্রণ জানানোর অধিকার ফ্রান্সের রয়েছে।
এই জোটের সাতটি স্থায়ী সদস্য দেশ হলো- কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান, ব্রিটেন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এ ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) একটি অনুল্লিখিত সদস্য হিসেবে এতে অংশ নেয়। ক্রাইমিয়া দখলের জেরে ২০১৪ সালে রাশিয়াকে এই জোট থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। গত সপ্তাহে বেইজিংয়ে শি জিনপিংয়ের সাথে বৈঠক করেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো।
জি-৭ এর সভাপতিত্ব গ্রহণের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তিনি চীন ও অংশীদার দেশগুলোর সাথে কাজ করতে ‘আরো দৃঢ়প্রতিজ্ঞ’ বলে জানান। যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘একসাথে আমরা সবকিছু পরিবর্তন করতে পারি।’
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে টোকিও ও বেইজিংয়ের মধ্যে সম্পর্ক কিছুটা উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গত ৭ নভেম্বর জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেন, তাইওয়ানে চীনের হামলা আইনত ‘অস্তিত্ব-হুমকির পরিস্থিতি’ তৈরি করতে পারে। এটি হলে জাপান ‘সম্মিলিত আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করতে পারে’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
চীন এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় বেইজিং তাদের নাগরিকদের জাপান ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করেছে, সামুদ্রিক খাবার আমদানি স্থগিত করেছে এবং জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে সংস্কৃতি মন্ত্রীদের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকও পিছিয়ে দিয়েছে। উল্লেখ্য, বেইজিং তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করে। দ্বীপটি জাপানের ইওনাগুনি দ্বীপের খুব কাছে অবস্থিত।