প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১০ মার্চ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ উদ্বোধন করতে পারেন
ঢাকার কড়াইল বস্তি ও ১২ উপজেলা প্রথমে কার্ডের আওতায় আসছে
Printed Edition
বিশেষ সংবাদদাতা
প্রাথমিকভাবে ১২ উপজেলা এবং একটি বস্তির মাধ্যমে ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১০ মার্চ এই কার্ডের উদ্বোধন করতে পারেন বলে জানা গেছে।
‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রাথমিকভাবে দেয়া হবে এমন জায়গায়গুলো হচ্ছে- বনানীর কড়াইল বস্তি, পাংশা, পতেঙ্গা, বাঞ্ছারামপুর, লামা, খালিশপুর, চরফ্যাসন, দিরাই, ভৈরব, বগুড়া সদর, লালপুর, ঠাকুরগাঁও, নবাগঞ্জ।
জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে দেশের ১৩টি উপজেলার প্রতিটিতে একটি ওয়ার্ড করে মোট ১৩টি ওয়ার্ডে পাইলটিংয়ের মাধ্যমে নারী প্রধান প্রতিটি খানার গৃহকর্ত্রীর নামে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের লক্ষ্যে সুবিধাভোগী নির্বাচন কার্যক্রম শুরু করা হবে।
ফ্যামিলি কার্ডে প্রতিটি পরিবারের পাঁচজন সদস্যকে বিবেচনায় আনা হতে পারে। তবে গ্রামে-গঞ্জে একান্নবর্তী পরিবারে পাঁচজনের অধিক সদস্য রয়েছে সুতরাং পাঁচজনের অধিক সদস্য হলে প্রতি পাঁচজনের জন্য একটি ফ্যামিলি কার্ডের সংস্থান রাখতে হবে। একই ব্যক্তি একাধিক ভাতা পাবেন না তবে একই পরিবারের অন্য ভাতাভোগী যদি পরিবার প্রধান মহিলা না হন তবে ওই ভাতা পাবেন বলে প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
একই সাথে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ সংক্রান্ত কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে। কমিটি আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে সুবিধাভোগী নির্বাচনপূর্বক বিস্তারিত প্রতিবেদন পেশ করবে; প্রতিটি উপজেলায় কর্মরত একজন প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের তদারকি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এ ক্ষেত্রে উপজেলার ট্যাগ অফিসার প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবেন।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রণীত ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের বাস্তবায়ন বিষয়ে প্রণীত খসড়া নীতিমালাটির সংক্ষিপ্ত রূপ প্রয়োজনীয় সংশোধনপূর্বক কমিটির সদস্যদেরকে প্রেরণ করবে বলে জানা গেছে।
প্রয়োজনীয় অর্থ সংস্থানের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের থোক বরাদ্দ থেকে চলতি অর্থবছরে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ প্রদান করা হবে। উপকারভোগীদেরকে অনুদানের অর্থ তার পছন্দ অনুযায়ী যেকোনো তফসিলি ব্যাংক অথবা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে বিতরণ করা হবে। খানা প্রধান নারী ব্যতীত পরিবারের অন্যান্য সদস্যের অন্যান্য ভাতা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে। তবে নারী খানা প্রধান ফ্যামিলি কার্ড ব্যতীত অন্য কোনো ভাতা গ্রহণ করতে পারবে না।
এ বিষয়ে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায় , উপকারভোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে এনআইডিতে রক্ষিত তথ্য ব্যবহার করার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে এনআইডিতে ব্যক্তির তথ্যাদি থাকলেও আর্থিক তথ্যাদি উল্লেখ নেই। এই কারণে পাইলটিংয়ের জন্য নির্বাচিত ওয়ার্ডগুলো সংশ্লিষ্ট কমিটি কর্তৃক সরেজমিন যাচাই-বাছাইপূর্বক উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে। সুবিধাভোগীদের হতদরিদ্র, দরিদ্র, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত এই চার ভাগে বিভক্ত করা হবে।
‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমটি সবার জন্য (সর্বজনীন) চালু করার বিষয়ে ইতোমধ্যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। শুরুতে ‘পিএমটি’ স্কোর-এর ভিত্তিতে হতদরিদ্র/দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদানের জন্য নির্বাচিত করা যেতে পারে, তবে বিষয়টি সময়সাপেক্ষ।
সূত্র জানায়, ফ্যামিলি কার্ডের বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দু’টি প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। প্রস্তাব-১-এর আওতায় হতদরিদ্র/দরিদ্র জনগোষ্ঠী এবং প্রস্তাব-২-এর আওতায় সব জনগোষ্ঠীকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা যেতে পারে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, সুবিধাভোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে সরেজমিন এনআইডির তথ্য যাচাই করে সুবিধাভোগী নির্বাচন করা হলে ‘টার্গেটিং এরর’ (লক্ষ্য নির্বাচনে ত্রুটি) দূর করা সম্ভব হবে।
গত রোববার সচিবালয়ে এ-সংক্রান্ত এক সভায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, বর্তমানে ২৩টি মন্ত্রণালয়/বিভাগ থেকে ৯৫টি কার্যক্রমের আওতায় দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে বিভিন্ন সামাজিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে টার্গেটিং প্রায় ৫০ শতাংশ। যার ফলে রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ অপচয় হয়।
সভায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জানান, সব ওয়ার্ডের প্রতিটি খানার তথ্য সংগ্রহ করা প্রয়োজন। তবে পর্যায়ক্রমে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনা করে হতদরিদ্র থেকে শুরু করে দরিদ্র, মধ্যবিত্ত এবং উচ্চবিত্তদের ভাতা প্রদান করা যেতে পারে।
জানা গেছে, বর্তমানে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে বয়স্কভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতাসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে উপকারভোগীর এনআইডি ভেরিফাইর মাধ্যমে ভাতা প্রদান করা হচ্ছে।
পরিকল্পনা বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের আওতায় প্রতিটি ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন এবং ওই বিভাগের আওতায় প্রায় ৩ (তিন) কোটি উপকারভোগী নিবন্ধিত রয়েছেন। সুতরাং উপকারভোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে কর্মরত সংশ্লিষ্টদের ওই কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। ভাতা প্রদানের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুমোদন করা প্রয়োজন।
অর্থ বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ফ্যামিলি কার্ড প্রবর্তন করা হলে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি, টিসিবি কার্ড কর্মসূচি, ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট কর্মসূচি একীভূত করা যেতে পারে। ফ্যামিলি কার্ডের উপকারভোগী নির্বাচনের জন্য আবশ্যিকভাবে এনআইডি নম্বর, জন্মতারিখ ও মোবাইল নম্বর থাকতে হবে। পাশাপাশি পরিবারের অন্য কেউ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অন্য কোনো কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত আছে কি না তা যাচাইয়ের জন্য উপকারভোগীর স্বামী ও পিতা-মাতার জন্মনিবন্ধন/এনআইডি নম্বর সংগ্রহ করতে হবে। এ ছাড়া উপকারভোগীর দ্বৈততা পরিহারের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সিস্টেমের সাথে আন্তঃসংযোগের ব্যবস্থা করতে হবে।