বরগুনা-২ আসনে বিএনপি-জামায়াতের তীব্র লড়াইয়ের আভাস

Printed Edition

মো: কামাল হোসেন খান বেতাগী (বরগুনা)

বরগুনা-২ (পাথরঘাটা, বামনা ও বেতাগী) সংসদীয় আসনে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। মাঠের রাজনীতিতে স্পষ্ট হয়ে উঠছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস। নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে দলীয় সঙ্ঘাত ও সহিংসতার আশঙ্কা। পাল্টাপাল্টি অভিযোগে একে-অপরকে দায়ী করছে বিএনপি ও জামায়াত নেতারা।

এই আসনে দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের শক্ত অবস্থান থাকলেও এবারের নির্বাচনে সেই অবস্থান বিভাজনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আওয়ামী লীগ সমর্থিত ভোটের একটি বড় অংশ কোন দিকে যাবে তা এখনো নিশ্চিত নয়। এই অনিশ্চয়তাকেই রাজনৈতিক সুযোগ হিসেবে দেখছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী।

স্থানীয় ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত প্রায় দেড় দশকে যারা আওয়ামী লীগের মিছিল-মিটিংয়ে সক্রিয় ছিলেন, তাদের অনেককেই এবার বিএনপি ও জামায়াতের কর্মসূচিতে দেখা যাচ্ছে। এসব কারণেই জনমনে ধারণা সৃষ্টি হয়েছে- বরগুনা-২ আসনে এবার দ্বিমুখী ও হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে যাচ্ছে।

মাঠপর্যায়ের রাজনীতিতে প্রকাশ্যভাবে জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মো: নূরুল ইসলাম (মনি) এবং জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ডা: সুলতান আহমদ। স্থানীয় নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের মতে, মূল লড়াইটি হবে এই দুই প্রার্থীর মধ্যেই। আওয়ামী লীগের ভোট বিভাজন এবং জামায়াত ও চরমোনাইয়ের আলাদা প্রার্থী থাকায় বিএনপি ও জামায়াত এই পরিস্থিতিকে নিজেদের পক্ষে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে।

পাথরঘাটা, বামনা ও বেতাগী উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৭৪৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬৭ হাজার ৯৬৫ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৬৯ হাজার ৭৭৫ জন এবং ট্রান্সজেন্ডার ভোটার রয়েছেন ৪ জন।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ আসনে মোট ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপি ও জামায়ত ছাড়াও এখানে যারা প্রার্থী রয়েছেন তারা হলেন- হাতপাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো: মিজানুর রহমান, ডাব প্রতীকে বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো: সাব্বির আহমেদ, কাঁঠাল প্রতীকে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির মো: কামরুজ্জামান লিটন, লাঙল প্রতীকে জাতীয় পার্টির আব্দুল লতিফ ফরাজী, সিংহ প্রতীকে এনডিএমের সৈয়দ মো: নাজেস আফরোজ, আম প্রতীকে এনপিপির মো: সোলায়মান এবং জাহাজ প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো: রাশেদ উদ জামান।

পাথরঘাটা ও বামনা উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সীমানা পুনঃনির্ধারণের পর বেতাগী উপজেলা যুক্ত হলে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। নবম থেকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত টানা চারবার আওয়ামী লীগ প্রার্থী জয়লাভ করে। ফলে এ আসনে তাদের দাপট ছিল বেশ এবং সেই হিসেবে তাদের অবস্থানও ছিল শক্ত।

বিএনপির প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম (মনি) ইতোমধ্যে গণসংযোগ ও সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। গ্রাম থেকে শহর- সবখানেই তিনি সভা-সমাবেশ ও মতবিনিময় করছেন। স্থানীয় উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নদীভাঙন প্রতিরোধ ও শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের সমর্থন চাইছেন।

বেতাগী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো: শাহজাহান কবির বলেন, ‘নূরুল ইসলাম মনি তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। এবারো আমরা জনগণের পাশে থাকার অঙ্গীকার করছি।’

অন্য দিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা: সুলতান আহমদও গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বেতাগী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি প্রভাষক মো: শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘ডা: সুলতান আহমদ এ এলাকার পরিচিত মুখ। তিনি ১৯৯১ সাল থেকে মানুষের পাশে রয়েছেন। বরগুনা-২ আসনের সাবেক এমপি গোলাম সরোয়ার হিরুও বর্তমানে জামায়াতের সাথে কাজ করছেন।’

সব মিলিয়ে বরগুনা-২ আসনে ভোটের সমীকরণ দিন দিন জটিল হয়ে উঠছে। শেষ পর্যন্ত কারা এগিয়ে থাকবে- তা নির্ধারণ করবে ভোটের দিন ভোটারদের সিদ্ধান্তই।