হামের কারণে জরুরি অবস্থা ঘোষণার পরিস্থিতি হয়নি : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

Printed Edition
back-3
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো: সাখাওয়াত হোসেন ঢাকার শাহজাদপুরে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন উপলক্ষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন : পিআইডি

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো: সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, বিগত সরকারগুলোর ব্যর্থতার কারণে আমাদের টিকার সরবরাহ লাইন দুর্বল ছিল। তারা ইচ্ছা বা অনিচ্ছায় টিকা রেখে যায়নি। বিগত সরকারগুলো ব্যাংক খালি করে রেখে গেছে। ফান্ডের দুর্বলতা সত্ত্বে ও পরিস্থিতি সামাল দেয়া সম্ভব হয়েছে। বিগত সরকারের ব্যর্থতার কারণে হাম পরিস্থিতি নিয়ে ভিত ছড়িয়েছে।

গতকাল সোমবার সকালে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার জিন্দা এলাকায় লিটন অ্যাঞ্জেলস সেমিনারিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, হামের কারণে জরুরি অবস্থা ঘোষণার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। একটি শিশু মারা যাওয়ার পরপরই আমরা আইসিইউর ব্যবস্থা করেছি। দেশের বিভিন্ন স্থানে ভেন্টিলেটর দিয়েছি। বিগত সরকারগুলো আমাদের কাছে কোনো ভ্যাকসিন রেখে যায়নি। আমরা দ্রুত গ্যাভি ও ইউনিসেফের মাধ্যমে টিকা সংগ্রহ করেছি।

মন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী সরকারগুলোর ব্যর্থতার কারণে আমাদের সরবরাহ লাইন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তারা আমাদের হাতে কোনো ভ্যাকসিন রাখেনি। আমরা এই মাসের ৫ তারিখ থেকে চিহ্নিত করা ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় ভ্যাকসিন দেয়ার কাজ শুরু করেছি। গতকাল থেকে সারা দেশে ভ্যাকসিন দেয়া শুরু হয়েছে। ভ্যাকসিন দেয়া শুরু হলে দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে হামে আক্রান্তের সংখ্যা কমে আসবে।

কবে নাগাদ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে, এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, একটি দুর্যোগ কত দিনে কমে আসবে, তা বলা মুশকিল। তবে আমরা ভ্যাকসিনেশন করে যাচ্ছি। যখন সব শিশুকে ভ্যাকসিন দেয়া শেষ হবে, তখন রোগীর সংখ্যা কমে আসবে। জরুরি অবস্থা ঘোষণার কথা যারা বলেন, তারা আসলে কী বুঝে বলেন, তা বোধগম্য নয়। এখনকার অবস্থা মহামারী বলা যাবে না। ঢাকায় হামের প্রাদুর্ভাব কম। হাসপাতালগুলোতে যেসব রোগী ভর্তি হচ্ছে, তারা অন্যান্য জেলা থেকে আসছে। আমরা ঢাকাতেও টিকার সংখ্যা বৃদ্ধি করার চেষ্টা করছি।

মন্ত্রী আরো বলেন, কিছু শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। এতে আমি অবশ্যই কষ্ট পেয়েছি। ২০২০ সালের পর ভ্যাকসিনের কাজ হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু সেই কাজ পূর্ববর্তী সরকার করেনি। ফলে একটি বিশাল গোষ্ঠীর শিশু অবহেলিত ছিল, যে কারণে হামটা আক্রমণ করেছে। আমরা ভ্যাকসিনেশন শুরু করেছি ৫ তারিখ থেকে। আপনারা সহযোগিতা করবেন।

এটি মহামারী নয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, যেসব এলাকায় হাম আক্রমণ করেছে, সেসব এলাকার ৮৫ ভাগ আমরা ভ্যাকসিনেশনের আওতায় নিয়ে আসছি। দেশের সিটি করপোরেশনগুলোতে ভ্যাকসিন দেয়া শুরু হয়েছে। যেখানে সমস্যা দেখা দেবে, আমরা সেখানেই ঝাঁপিয়ে পড়ব। তাহলে নিয়ন্ত্রণে আসবে। প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া, ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব কমিশন মেগান বোল্ডিন, ইউনিসেফ বাংলাদেশের ডেপুটি রিপ্রেজেনটেটিভ এম্মানিউলি এবরিউকস, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ রাজেশ নরওয়েল, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, জেলা প্রশাসক রায়হান কবির, জেলা সিভিল সার্জন মুশিউর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত চার্লস জে হার্ডাবের স্বাস্থ্যক্যাম্প পরিদর্শন

যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত চার্লস জে. হার্ডার এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন ধানমন্ডিতে অবস্থিত সুরভি স্কুল এবং একটি স্বাস্থ্যক্যাম্প পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা সুরভি স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা সাইয়েদা ইকবাল মান্দ বানুর সাথে মতবিনিময় করেন। আলোচনায় স্কুলটির শিক্ষা, পুষ্টি ও স্বাস্থ্যসেবার সমন্বিত কার্যক্রম এবং এই মডেল কিভাবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বিকাশে ভূমিকা রাখতে পারে তা গুরুত্ব পায়। এই সফর বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা ও শিশু কল্যাণে সহযোগিতার ওপর বৃহত্তর গুরুত্বকেও প্রতিফলিত করে।

প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান ড. জুবাইদা রহমান, ব্যারিস্টার জাইমা রহমান, শাহিনা খান জামান, সুরভির নির্বাহী পরিচালক আবু তাহের, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক প্রফেসর ড. ফরহাদ হালিম ডোনার, প্রফেসর মোরশেদ হাসান, ড. আমান উল্লাহ মেহেদী ও ড. মোস্তাফা আজিজ সুমন।

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের আয়োজনে একটি বিনামূল্যের স্বাস্থ্যপরীক্ষা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ৩০০-এর বেশি শিক্ষার্থীর জন্য দন্ত, চক্ষু ও সাধারণ শিশুস্বাস্থ্য সেবা প্রদান করা হয়। উভয় প্রতিষ্ঠান তাদের দীর্ঘদিনের কার্যক্রম নিয়ে দু’টি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করে এবং পরে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহাদি আমিনও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।