চাঁদাবাজবিরোধী আন্দোলন এখন সময়ের দাবি: বিরোধীদলীয় নেতা
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণকে সাথে নিয়ে চাঁদাবাজবিরোধী আরেকটি আন্দোলন গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। দেশকে যারা ভালোবাসেন, তাদের সবার প্রতি আমাদের একই কথা- চাঁদাবাজদের হাত থেকে জীবন ও সম্পদ রক্ষা করতে হলে সম্মিলিতভাবে লড়তে হবে। আমরা লড়ে যাব, ইনশাআল্লাহ।
গতকাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পোস্টে তিনি এ কথা লেখেন। জামায়াত আমির লেখেন, রাজধানীর যাত্রাবাড়িতে একজন গাড়িচালককে চাঁদা লেনদেনের ঘটনায় চাঁদাবাজরা পিটিয়ে হত্যা করেছে। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। চাঁদার এ সংস্কৃতিকে এমনভাবে জাতীয়করণ করা হয়েছে, যেন চাঁদা না দেয়াই অপরাধ! নেতৃত্বের জায়গা থেকে যখন চাঁদাবাজির বৈধতা দেয়া হয়, তখন এ দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সবার ওপরেই বর্তাবে। মাঝখানে নিরীহ জনগণের জীবন এভাবেই কি ঝরে পড়বে? না, আমরা তা মেনে নিতে পারি না, মেনে নেবো না। প্রিয় জনগণকে সাথে নিয়ে চাঁদাবাজবিরোধী আরেকটি আন্দোলন গড়ে তোলা এখনই সময়ের দাবি।
সেক্রেটারি জেনারেলের বিবৃতি : রাজধানীর যাত্রাবাড়ি-চিটাগাং রোডে লেগুনা চালক নুরে আলম ওরফে খায়রুল ইসলামকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। গতকাল এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, রাজধানীর ব্যস্ততম সড়কে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজির যে অভিযোগ চলে আসছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। গণপরিবহন চালকদের কাছ থেকে নিয়মিতভাবে বিভিন্ন সংস্থার নাম ভাঙিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রাষ্ট্র ও প্রশাসনের ভাবমর্যাদাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি অথবা স্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রণের বিরোধকে কেন্দ্র করে গত ২০ ফেব্রুয়ারি জুমাবার বিকেল ৩টার দিকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ি-চিটাগাং রোড সড়কে লেগুনা চালক নুরে আলম ওরফে খায়রুল ইসলামকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হলো। পতিত জালিম সরকারের পতনের পর জনপ্রত্যাশার নতুন বাংলাদেশে এই হত্যাকাণ্ড কিছুতেই মেনে নেয়া যায় না। আমি এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি।
তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডটি চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তার বা অন্য যে কোনো কারণেই সংঘটিত হোক না কেন-এর সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। একই সাথে যাত্রাবাড়ি-চিটাগাং রোডসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পরিবহন খাতে চাঁদাবাজির অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। তিনি আরো বলেন, খায়রুল ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার ওপর নির্ভরশীল অসহায় পরিবার, ছোট্ট শিশু কন্যা ও স্বজনদের আহাজারি প্রমাণ করে- এই হত্যাকাণ্ড শুধু একটি প্রাণহানি নয়, বরং একটি পরিবারের স্বপ্ন-সম্ভাবনার নির্মম পরিসমাপ্তি। এ ধরনের ঘটনা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর শঙ্কার সৃষ্টি করে। তিনি নিহত খায়রুলের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেন, সরকারকে অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে উপযুক্ত আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। পরিশেষে তিনি দেশব্যাপী পরিবহনসহ সব সেক্টরে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দখলবাজির সংস্কৃতি বন্ধে কার্যকর ও স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।
মন্ত্রীর বক্তব্য গণআকাক্সক্ষাকে অস্বীকার করার শামিল : জামায়াত
‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ সেøাগান নিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের দেয়া বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সংগঠনটি বলেছে, মন্ত্রীর এই মন্তব্য কেবল অসঙ্গতই নয়, বরং ইতিহাস, ভাষাতত্ত্ব ও গণআকাক্সক্ষার বাস্তবতাকে অস্বীকার করার শামিল।
গতকাল রোববার এক বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এই প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের আলোচনা সভায় ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ সেøাগান সম্পর্কে মন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা গভীর উদ্বেগের বিষয়। তিনি উল্লেখ করেন, ‘ইনকিলাব’ শব্দটি আরবি উৎসভিত্তিক হলেও এটি উপমহাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন এবং স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রামে বহু দশক ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বাংলা ভাষা নিজেই আরবি, ফারসি, তৎসম ও ইংরেজিসহ অসংখ্য ভাষার শব্দ গ্রহণ করে সমৃদ্ধ হয়েছে। কোনো শব্দের উৎপত্তিকে কেন্দ্র করে তাকে ‘বাংলাবিরোধী’ আখ্যা দেয়া ভাষাবিজ্ঞানের মৌলিক নীতির পরিপন্থী।
মন্ত্রী এই সেøাগান শুনলে তার ‘রক্তক্ষরণ’ হয় বলে যে মন্তব্য করেছেন, তার কড়া সমালোচনা করে জামায়াত নেতা বলেন, জনগণের অধিকার হরণ, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, ঘুষ-দুর্নীতি এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে আপনার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয় না। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের অনিয়ম জাতির হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটালেও আপনাদের মতো লোকদের হৃদয়ে তা পৌঁছায় না। তিনি আরো বলেন, জনগণের ন্যায্য প্রতিবাদের ভাষাকে দোষারোপ না করে জনদুর্ভোগ লাঘবে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়াই সরকারের দায়িত্ব।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর একচেটিয়া সেøাগান নয়; এটি শোষণ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক। দেশের ছাত্র-জনতা যখন অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়, তখন তাদের কণ্ঠরোধ করার জন্য ভাষাগত অজুহাত দাঁড় করানো গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী অবিলম্বে মন্ত্রীর এই বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। অন্যথায় দেশের সচেতন জনগণই যথাযথ জবাব দেবে।