লন্ডনে তারেক রহমান

ষড়যন্ত্র থেমে নেই, নির্বাচন সহজ হবে না

Printed Edition
firsst-3
লন্ডনে বিএনপির বিজয় দিবসের আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন তারেক রহমান : নয়া দিগন্ত

বিশেষ সংবাদদাতা

দেশে ষড়যন্ত্র থেমে নেই এবং আগামী সংসদ নির্বাচন খুব সহজ হবে না উল্লেখ করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) লন্ডনের সিটি প্যাভিলিয়নে যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এই আহ্বান জানান।

তারেক রহমান বলেন, আমি এক বছর আগে আপনাদেরকে বলেছিলাম সামনে কিন্তু আমাদের কঠিন সময়। ষড়যন্ত্র থেমে নেই এবং এই নির্বাচনও কিন্তু খুব সহজ হবে না। আপনারা অনেকেই কিন্তু ব্যাপারটা এখন বুঝতে পারছেন। এক বছর আগে যা বলেছি, সেটা কিন্তু হচ্ছে। এখন আমি আবারো বলছি, সামনের সময় কিন্তু খুব সুবিধার না। কাজেই সবাইকে সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

লন্ডন প্যাভিলিয়নের হল ভর্তি প্রবাসীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা কি ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারবেন? এ সময় প্রবাসীরা উচ্চ কণ্ঠে ‘হ্যাঁ’ সূচক জবাব দিলে তিনি বলেন, ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারলেই আমরা আমাদের এই যে পরিকল্পনার (দেশ গড়া) কথা বললাম তা সফল করতে পারব। ঐক্যবদ্ধ থাকলেই আমরা প্রত্যাশিত বাংলাদেশ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারব।

যুক্তরাজ্যের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, এই যে আপনারা এ দেশে আছেন এখানে জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা আছে বলেই মানুষ তার ন্যায্যতা থেকে বঞ্চিত হয় না। বাংলাদেশের মানুষ বহু যুগ ধরে তাদের ন্যায্যতা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। কাজেই আসুন বাংলাদেশের মানুষের ন্যায্য অধিকার যদি ফিরিয়ে দিতে হয় যেকোনো মূল্যে আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমাদের ঐক্যবদ্ধ না থাকার কোনো বিকল্প নেই। ‘ইউনাইটেড বি স্ট্যান্ড, ডিভাইডেড উই ফল’। কাজেই এই কথাটি আমাদের সবার মনে রাখতে হবে।

প্রবাসীদের সাথে অনুষ্ঠানটি বিজয় দিবসের হলেও তা বিদায় অনুষ্ঠানও ছিল। তারেক রহমানের বক্তব্যের শুরুতে বিদায়ের কথা উচ্চারিত হয় এবং প্রবাসীদের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন। এ সময় অনুষ্ঠান স্থলে প্রবাসীদের তিল পরিমাণও ঠাঁই ছিল না। বক্তব্যের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার অনুরোধ জানান তিনি।

‘আমি দেশে ফিরে যাচ্ছি, সবার দোয়া চাই’ : তারেক রহমান বলেন, আগামী ২৫ তারিখে ইনশাআল্লাহ আপনাদের দোয়ায় ও আল্লাহর রহমতে আমি দেশে ফিরে যাবো। সবার কাছে দোয়া চেয়ে যাচ্ছি, আপনারা দয়া করে দোয়া করবেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া করবেন। আপনাদের সামনে যে পরিকল্পনা তুলে ধরেছি, দেশ এবং দেশের মানুষের জন্য সেই কাজগুলো যাতে সম্পূর্ণ করতে পারি আল্লাহ যেন আমাকে সেই তৌফিক দেন।

এয়ারপোর্টে না যাওয়ার অনুরোধ : তারেক রহমান বলেন, আমি একটি বিনীত অনুরোধ করতে চাই, কী সেই বিনীত অনুরোধ? আপনাদের সাথে আমি ১৮ বছর ছিলাম। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অনেক মানুষের সাথে দেখা হয়েছে। আপনাদের সাথে এখানে আমার বহু স্মৃতি রয়েছে, আপনাদের সাথে বহু দুঃখ কষ্ট আমি শেয়ার করেছি। আপনারা বিভিন্ন সময় যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের প্রবাসী, বিশেষ করে যারা বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন আপনারা অনেকে বিভিন্ন সময় আমার, আমার পরিবারের, দলের বিপদের সময় আমাকে মানসিকভাবে সাহস দিয়েছেন, সহযোগিতা করেছেন, সমর্থন জুগিয়েছেন। আগামী ২৫ তারিখে ইনশাআল্লাহ আপনাদের দোয়ায় ও আল্লাহর রহমতে আমি দেশে ফিরে যাবো। কিন্তু এখানে উপস্থিত প্রত্যেকটি মানুষের কাছে আমার অনুরোধ- দয়া করে কেউ আপনারা সেদিন এয়ারপোর্টে যাবেন না। কারণ এয়ারপোর্টে গেলে একটি হট্টগোল তৈরি হবে এবং মানুষ জানবে যে এরা সব বাংলাদেশী। এতে দেশের সুনাম নষ্ট হবে, দলের সুনাম নষ্ট হবে।

বক্তব্যে শেষে দেড় মিনিটে একটি ভিডিও দেখানো হয়। যেখানে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ থেকে ’২৪-এর ফ্যাসিস্টদের পতনে ছাত্র গণ-অভুত্থানের নতুন বাংলাদেশ গড়ার কথা বলা হয়েছে।

বক্তব্যে তারেক রহমান বাংলাদেশকে একটি সুখী, কল্যাণকর রাষ্ট্রে পরিণত করতে তার প্রণীত দেশ গড়ার পরিকল্পনাগুলো তুলে ধরেন। এতে ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মাস কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড, বেকার সমস্যা সমাধান প্রভৃতি বিষয় উপস্থাপন করেন।

‘এ নির্বাচন শুধু এক্সপেরিমেন্ট নয়’ : তারেক রহমান বলেন, আগামী নির্বাচন কিন্তু কোনো এক্সপেরিয়েন্স বা এক্সপেরিমেন্টের বিষয় না। এই সুযোগটা আমাদের কাজে লাগাতে হবে। এটিকে সৎ ব্যবহার করতে হবে। সবার মনে রাখতে হবে, আগামী যে সময়টা আসছে, এটা কিন্তু একটা পরিবর্তনের সুযোগ। আমরা যদি এবার দেশটাকে পরিবর্তন করতে পারি তাহলে আমরা এগিয়ে যাবো।

তিনি বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে প্রবাসীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। আশা করি ভবিষ্যতেও আপনাদের এই ভূমিকা অব্যাহত থাকবে। যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশীদের অব্যাহত সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানাই।

তারেক রহমানের বক্তব্যের আগে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও ’২৪-এর শহীদদের মাগফিরাত কামনা এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়।

যুক্তরাজ্য বিএনপির নবগঠিত আংশিক কমিটির আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব খসরুজ্জামান খসরুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সাবেক সভাপতি এম এ মালেক ও সাধারণ সম্পাদক কয়সর এম আহমদসহ যুক্তরাজ্য বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ১/১১-এর সেনা সমর্থিত সরকারের সময়ে ২০০৭ সালে তারেক রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। কারা হেফাজতে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে ২০০৮ সালে লন্ডনে আসেন তারেক রহমান। দীর্ঘ ১৮ বছর নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার কথা রয়েছে তার।