সরকার কোনোভাবেই সংবাদমাধ্যমের ওপর খবরদারি করবে না : তথ্য প্রতিমন্ত্রী

Printed Edition
back-1
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী সচিবালয়ে গণমাধ্যম কেন্দ্রে বিএসআরএফ সংলাপ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন : পিআইডি

নিজস্ব প্রতিবেদক

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, গত ১৭ বছরে গণমাধ্যম যে ধরনের প্রতিকূলতা ও নিয়ন্ত্রণের শিকার হয়েছে, বর্তমান সরকার সেখান থেকে সম্পূর্ণ বেরিয়ে আসতে চায়। গত দুই মাসে নিশ্চয়ই আপনারা পরিস্থিতি পরিবর্তন লক্ষ্য করেছেন। বর্তমান সরকার কোনোভাবেই সংবাদমাধ্যমের ওপর খবরদারি করবে না এবং গণমাধ্যমের স্বাধীন কণ্ঠস্বর অব্যাহত থাকবে। গতকাল সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপ’-এ অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

সংলাপে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর ও ভুয়া তথ্যের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে তথ্য প্রবাহ নিশ্চিত করা এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ভুল তথ্য (ডিজইনফরমেশন) রোধ করা সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জগুলোর একটি। এ লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করছে। তিনি জানান, আজ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোয়াব (ক্যাবল অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) এবং আইপিটিভি প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা হয়েছে, যেখানে ২০১৪ সালের আইপিটিভি নীতিমালা সংশোধনের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। সঠিক তথ্য প্রবাহ নিশ্চিত করতে সরকার গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর সাথে নিয়মিত আলোচনার মাধ্যমে আধুনিক ও শৃঙ্খলাবদ্ধ পরিবেশ গড়ে তোলার কাজ করছে।

সাংবাদিকদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ইয়াসের খান চৌধুরী জানান, সাংবাদিকদের বেতন-ভাতা ও নবম ওয়েজ বোর্ড-সংক্রান্ত বিষয়গুলো সরকারের উচ্চপর্যায়ে সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আসন্ন জাতীয় বাজেটে সাংবাদিকদের জন্য ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসতে পারে। এ ছাড়া সরকারি বিজ্ঞাপন বণ্টনে স্বচ্ছতা আনতে সরকার একটি নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ করছে, যাতে কোনো গণমাধ্যম বৈষম্যের শিকার না হয়। গণমাধ্যমের শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকার কি উদ্যোগ নেবে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কঠোরতা নয়, বরং সংশ্লিষ্টদের মতামতের ভিত্তিতে একটি সুশৃঙ্খল পরিবেশ গড়ে তোলা হবে। একই সাথে সাংবাদিক সংগঠনগুলোর সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

সরকারি বিজ্ঞাপন বণ্টন নিয়েও এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে, যাতে কোনো গণমাধ্যম বঞ্চিত না হয় এবং বিজ্ঞাপন বণ্টনে বৈষম্য কমে। তিনি বলেন, আমরা অতীত নিয়ে পড়ে থাকতে চাই না, বরং আধুনিক, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও নৈতিক গণমাধ্যম গড়ে তুলতে চাই। এ লক্ষ্যে প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকদের সহযোগিতা ও পরামর্শ আহ্বান করেন তিনি।

সচিবালয়ে সাংবাদিকদের জন্য নির্ধারিত স্থান গণমাধ্যম সংস্কার প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সচিবালয়ে সাংবাদিকদের জন্য নির্ধারিত স্থান নিয়ে আমি মোটেও সন্তোষ্ঠু নই। এত বড় মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের জন্য যে জায়গা রাখা হয়েছে, তা অত্যন্ত অপর্যাপ্ত ও অবহেলিত। এটি আধুনিকায়ন করা জরুরি। এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

সচিবালয়ে আয়োজিত এই সংলাপে সভাপতিত্ব করেন বিএসআরএফের সভাপতি মাসউদুল হক এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল।