দেশের অর্থনীতির অন্যতম লাইফলাইন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সৃষ্টি হয়েছে খানাখন্দ। তৈরি হয়েছে ছোটবড় গর্ত। এর মধ্যে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যানসহ হাজারো যানবাহন। গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে তৈরি হচ্ছে যানজট। কমছে যানবাহনের গতি, কখনো ঘটছে দুর্ঘটনা। দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন যাত্রীসাধারণ এবং যানচালকরা।
মহাসড়কের কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট থেকে আমতলী পর্যন্ত দুই কিলোমিটার অংশের চিত্র সবচেয়ে খারাপ। তবে শুধু এই অংশ নয়, ২৩০ কিলোমিটার মহাসড়কের নানা স্থানে তৈরি হয়েছে অসংখ্য গর্ত ও খানাখন্দ। এর মধ্যে কুমিল্লা অংশের ১০৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কের রীতিমতো বেহাল দশা। নিয়মিত যাত্রী ও যানচালকদের ভোগান্তিও বেশি। বিশেষ করে সীতাকুণ্ডে চার লেন উন্নয়ন প্রকল্প ঘিরে দেখা দিয়েছে অব্যবস্থাপনা, নকশাগত দুর্বলতা ও নিরাপত্তা সঙ্কট। মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ডিভাইডার কেটে তৈরি করা হয়েছে শতাধিক ইউটার্ন। ফলে দেশের ব্যস্ততম এ মহাসড়কের সীতাকুণ্ড অংশ এখন দুর্ঘটনার জন্য উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ। নামার বাজার আন্ডারপাস নির্মাণের ১৬ বছর পরও কাটেনি জনদুর্ভোগ। নকশাগত সীমাবদ্ধতা, বর্ষায় জলাবদ্ধতা, জরুরি সেবার যান চলাচলে বাধা এবং রক্ষণাবেক্ষণে অবহেলার অভিযোগ আছে। এমনকি প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ নথি পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। গুরুত্বপূর্ণ এ শিল্পাঞ্চলে যানবাহনের চাপ বেশি। সেই বিবেচনায় পরিকল্পিত ইউটার্ন, সার্ভিস রোড এবং নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা করা জরুরি। ডিভাইডার ভাঙায় দায়ী ব্যক্তিদেরও জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক হয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পণ্য সরবরাহ হয়। কোনো যানবাহন আমদানি করা পণ্য নিয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে দেয়, কোনোটি দেশের নানা অঞ্চল থেকে পণ্য নিয়ে জাহাজীকরণে চট্টগ্রাম বন্দরে যায়। শুধু সড়কের দুরবস্থায় এসব পণ্য পরিবহনে বিলম্ব হলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। সময়মতো শিপমেন্ট না হলে শুধু একটি কোম্পানি নয় দেশের পুরো শিল্প খাত বৈশ্বিক পর্যায়ে আস্থার শঙ্কটে পড়তে পারে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে তৈরী পোশাকের মতো অনেক শিল্প খাত। আমদানি করা পণ্য, বিশেষ করে নিত্যপণ্যের সরবরাহ বিলম্বিত হলে ঘাটতি এলাকায় অসৎ ব্যবসায়ীরা পণ্যটির দাম বাড়িয়ে দিতে পারেন। এতে স্থানীয় পর্যায়ে বিপুল ক্রেতা ভোগান্তির শিকার হতে পারেন। অ্যাম্বুলেন্সের চলাচল বিঘ্নিত বা বিলম্বিত হলে গুরুতর অসুস্থ রোগী পথে মারা যেতে পারেন। একটি দেশে এসবের কোনোটি কাক্সিক্ষত নয়। এজন্য মহাসড়কের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ শুরু জরুরি নয়, এটি হতে হবে সংশ্লিষ্টদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। মহাসড়কে নির্বিঘ্ন ও দ্রুত চলাচল যেকোনো মূল্যে নিশ্চিত করতে হবে।
পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সড়ক ও সেতু বিভাগের অধীনে সারা দেশে অসংখ্য বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। কিছু প্রকল্প উপকারী হলেও বেশির ভাগ ছিল লুটপাটের উদ্দেশ্যে নেয়া। প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘ সময়ক্ষেপণ, ব্যয় বাড়ানোর মাধ্যমে অবাধে অর্থ লুটপাট ও পাচার করা হয়েছে। বতর্মান সরকার সেই দুষ্টচক্র থেকে বেরিয়ে এসে সত্যিকার অর্থে জনগণের জন্য কাজ করবে এটিই প্রত্যাশিত।